অলস্পোর্ট ডেস্ক: মানোলো মারকোয়েজ ভারতীয় ফুটবল দলের কোচের দায়িত্বে থাকাকালীন গোলকিপার গুরপ্রীতকে খেলানো দূরে থাক, জাতীয় শিবিরেই ডাকেননি। মানোলোর পছন্দ ছিল আইএসএলে ২ বার গোল্ডেন গ্লাভসজয়ী মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের গোলকিপার বিশাল কাইথ। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ ছাড়াও এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বিশালের ওপর ভরসা রেখেছিলেন তিনি।
তবে এই ছবিটা বদলে যায় মানোলোর জায়গায় খালিদ জামিল ভারতীয় দলের কোচ হতেই। ফিফা উইন্ডোতে টুর্নামেন্ট হচ্ছে না, আর কাফা নেশনস কাপে ফুটবলার ছাড়লে নিজেদের দলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র প্রস্তুতিতে ব্যাঘাত ঘটবে, এই যুক্তিতে ফুটবলার ছাড়েনি মোহনবাগান এসজি। এতে শাপে বর হয়, খালিদের। গোলকিপার বিশালকে পাবেন না বুঝেই কাফা নেশনস কাপের প্রস্তুতি শিবিরে খালিদ ডেকে নেন গুরপ্রীতকে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত কাফা নেশনস কাপে ক্লিক করে গেছে দারুনভাবে।
একবছরের বেশি জাতীয় দলের বাইরে থাকাটা গুরপ্রীতের ভাল খেলার খিদে বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠে নেমে জবাব দেওয়ার জেদ বাড়িয়েছিল। ইগর স্টিমাচ কোচ থাকার সময় গুরপ্রীতের ওপর বরাবর ভরসা রাখতেন। অন্যদের একবারও সুযোগ না দিয়ে লাগাতার গুরপ্রীতকে খেলানো নিয়ে স্টিমাচকে অনেকক্ষেত্রেই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। স্টিমাচ তা কানে তোলেননি। বরং তাঁর একটাই কথা ছিল, ‘ক্লাব পর্যায়ে পারফরমেন্স দিয়ে গুরুপ্রীতকে বিচার করলে হবে না। হি ইজ বিস্ট আন্ডার দ্য বার ইন ইন্টারন্যাশানাল লেভেল।’
বিশ্বকাপার স্টিমাচের পর্যবেক্ষণ কতটা নিখুঁত ছিল, সেটা প্রমাণিত কাফা নেশনস কাপে। মানোলো ক্লাব স্তরের পারফরমেন্স দেখে গুরপ্রীতকে বাদ দিয়ে বিশাল কাইথকে ভারতীয় দলে নিয়েছিলেন। কিন্তু যেকোনও কারণেই হোক, দেশের জার্সিতে একবারেই নিজের সুনামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি বিশাল। ক্লাব তাঁকে না ছাড়ায় কাফা নেশনস কাপে খেলার জন্য দরজা খুলে যায় গুরপ্রীতের। তিনি সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন পুরোপুরি।
কাফা নেশনস কাপে ভারতীয় ফুটবল দলের তৃতীয় স্থানে শেষ করার পিছনে গোটা টুর্নামেন্টে গুরপ্রীতের অবদান অনস্বীকার্য। তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে সইরভের পেনাল্টি রুখে দিয়ে খালিদের কোচিংয়ের প্রথম ম্যাচে জয় এনে দেন গুরপ্রীত। ওই ম্যাচে অন্তত আরও ৫টি নিশ্চিত গোল বাঁচান গুরপ্রীত। ইরানের বিরুদ্ধে ভারত শেষপর্যন্ত ০-৩ গোলে হারলেও ৫৯ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচ গোলশূণ্য রাখার ক্ষেত্রেও গুরপ্রীতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। সেদিন অনেকগুলি সেভ না করলে ভারতকে বড়সড় লজ্জার হারের মুখে পড়তে হত। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে গ্রুপের শেষ ম্যাচ গোলশূণ্য শেষ করে ভারতীয় দলের প্লেঅফ খেলার সুযোগ অর্জনের পিছনেও ছিল গুরপ্রীতের হাত।
তবে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হল কাফা নেশনস কাপের তৃতীয়-চতুর্থ স্থান নির্ণায়ক ম্যাচে র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা ওমানকে হারানো। এই জয়ের পিছনেও গুরপ্রীত। নির্ধারিত সময় একাধিক অবিশ্বাস্য সেভ করার পর টাইব্রেকারে ওমানের ফুটবলারের নেওয়া শেষ শট দুরন্তভাবে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে ম্যাচ জিতিয়ে গুরপ্রীত প্রমাণ করে দেন তিনি ফুরিয়ে যাননি। এভাবেই ফিরে আসতে হয় অবহেলার জবাব দিতে।
কাফা নেশনস কাপে তৃতীয় হওয়ার পর এক্স হ্যানডেলে গুরপ্রীতের প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘ আমি কোনসময় হতাশ হই না। নিজের যোগ্যতার ওপর আস্থা হারাই না। যদি যোগ্য হও তুমি, তাহলে তা দেখাও মাঠে, এই তত্ত্বে বিশ্বাস রাখি। মনে করি, যদি বেঁচে থাক, তাহলে বেঁচে থাকার প্রমাণ দাও মাঠে, নিজের খেলায়।’ বাংলায় এটাকেই আমরা যতক্ষণ শ্বাস, ততক্ষণ আশ বলে থাকি। আর ভারতের কিংবদন্তী ফুটবলার কাম কোচ বলতেন,আশায় বাঁচে চাষা।
এই পারফরমেন্সের পর এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ৯ ও ১৪ অক্টোবর বাইরে ও ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচে গুরপ্রীতকে বসানোর কথা মাথাতেই আনতে পারবেন না খালিদ। বলা যেতে পারে বিশালের কপাল পুড়ল। তাঁর জন্য জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ গুরপ্রীত থাকতে। কোচ খালিদ একটা নতুন সেট অফ ফুটবলার নিয়ে সাফল্য পাওয়ার পর মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ফুটবলারদের কতজনকে জাতীয় দলে রাখবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে।
বর্তমানে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের আগের কোচ মানোলোর ফোকাসহীন ফুটবলে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রথম ম্যাচ ড্র করে ও হংকংয়ের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ হেরে এক পয়েন্ট নিয়ে রীতিমতো চাপে আছে ভারত। ৯ ও ১৪ অক্টোবর সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে, ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশের মাঠে ও হংকংয়ের বিরুদ্ধে ৩১ মার্চ ঘরের মাঠের ৪ ম্যাচ জিতে এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে যাওয়ার অসাধ্যসাধন করতে হলে গুরপ্রীতই এখন সবচেয়ে বড় ভরসা খালিদের।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
