অলস্পোর্ট ডেস্ক: সুনীলদের কোচ হিসেবে খালিল জামিলকে বেছেছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। কিন্তু কোথাও বলা হয়নি খালিদকে কতদিনের জন্য ভারতীয় পুরুষ সিনিয়র দলের কোচ করা হয়েছে। সাধারনত জাতীয় দলের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হলে কতদিনের চুক্তি, সেটা জানানো হয়। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই এখনও পর্যন্ত করা হয়নি। শুধু খালিদ জামিলের নাম ঘোষণা করেই বিষয়টা ধোঁয়াশার মাঝে রাখা হয়েছে।
তাহলে কি এটা ভাবা ভুল হবে, যেখানে ফেডারেশনের বর্তমান কার্যকরী কমিটির নিজের মেয়াদই ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত, সেখানে তাদের পক্ষে কোনও দীর্ঘমেয়েদী সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। দেশের শীর্ষ আদালত সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েই দিয়েছে, ফেডারেশনের বর্তমান কমিটি ক্ষমতাহীন। তাদের কোনও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নেই ভারতীয় ফুটবলে। এই কারণেই ইতিমধ্যে আইএসএলের আয়োজন থমকে গেছে। এফএসডিএল ও ফেডারেশনের মাঝে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট নিয়ে চুক্তি বিতর্ক মেটানোর সুযোগ সুপ্রিম নির্দেশে সমাধান করার সুযোগ এইমুহূর্তে না থাকায়। যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্ট চুড়ান্ত রায় আসছে, ফেডারেশনের নয়া সংশোধিত সংবিধান মিলছে, আর নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন কমিটি তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ এই অচলবস্থা কাটবে না। স্বাভাবিকভাবে খালিদের জাতীয় দলের কোচ হয়েছে অস্থায়ী ভাবে স্বল্প মেয়াদের জন্য, এটা ধরে নিতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় কথা খালিদ এখনও আইএসএলের দল জামশেদপুর এফসির কোচের ভূমিকায় আছেন। জামশেদপুর তাঁর কোচিংয়ে দল ডুরান্ড কাপে ম্যাচও খেলছে। জামশেদপুরের দায়িত্ব ছেড়ে কবে থেকে ঠিক খালিদ ভারতীয় দলের সঙ্গে যুক্ত হবেন, সেটা পরিষ্কার নয়। জামশেদপুর যদি ডুরান্ডে এগোয়, আর ফাইনাল খেলে, তাহলে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ক্লাব দলের কোচের ভূমিকায় আটকে থাকবেন, এমনটা ভাবা ভুল নয়। তার আগে নকআউটের কোনও পর্যায়ে জামশদপুর হেরে গেলে, তারপর খালিদ ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেবেন, এটা ধরে নেওয়া যেতে পারে। কিন্তু তার জন্য তো জামশেদপুরের থেকে সরকারি একটা রিলিজ নেওয়া জরুরি হবে। সেটা এখনও পর্যন্ত খালিদ নেননি। ফেডারেশনের সঙ্গেও তেমন কোনও সমঝোতা হয়নি।
জামশেদপুর এফসির সিইও মকুল চৌধুরি জানিয়েছেন, ‘ ভারতীয় দলের কোচের পদের জন্য খালিদ জামিলের নির্বাচন নিয়ে আমরা গর্বিত। ২০০৫য়ের পর দেশের একজন আবার ভারতীয় সিনিয়র দলের কোচ নির্বাচিত হয়েছেন। কিন্তু খালিদের সঙ্গে ফেডারেশনের কী চুক্তি, বা কতদিনের জন্য জামশেদপুর ছেড়ে খালিদ ভারতীয় দলের কোচ হচ্ছে, সেটা তো আমাদের জানা দরকার। সেটা জানার পরই খালিদকে রিলিজ দেওয়ার ব্যাপারটা আসবে।’ সত্যি অবাক করা কাজকর্ম একের পর এক করে চলেছে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন।
সবকিছু দেখে শুনে মনে হচ্ছে, তারা খালিদকে অস্থায়ী ভাবে আইএসএল শুরু হওয়া পর্যন্তই ভারতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে নিয়োগের ভাবনা চিন্তা ভেতরে ভেতরে সেরে রেখেছে। কারণ তারা বেশ বুঝতে পারছে, অক্টোবরের শেষ বা নভেম্বরের শুরুর আগে আইএসএলের আয়োজন সম্ভব হবে না। সেক্ষেত্রে ডুরান্ড কাপের পর খালিদ জামিলের আর কিছু করার থাকবে না আইএসএল শুরু না হওয়া পর্যন্ত। তাই ওইসময় পর্যন্ত জামশেদপুর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটা সমঝোতায় এসে অস্থায়ীভাবে জাতীয় দলের দায়িত্বে রেখে দিলে ফেডারেশনের কার্যসিদ্ধি ঘটবে না। এফসি গোয়ার সঙ্গে যেভাবে সমঝোতায় গিয়ে মানোলো মারকোয়েজকে জাতীয় দলের কোচ করা হয়েছিল ফেডারেশের খরচ বাঁচিয়ে, তেমনই পথে হেঁটে খালিদকে কোচ করলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
আসলে ফেডারেশন আপাতত সামনের কয়েকমাস উতরে দিতে চাইছে খালিদের কাঁধে ভর করে। ভারতের সামনে রয়েছে কাফা নেশনস কাপের খেলা। ২৯ আগস্ট থেকে কাফা নেশনস কাপের খেলা শুরু ভারতের। সেপ্টেম্বরে এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে থাকবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ। অক্টোবরে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের মরণবাঁচন লড়াই। এখন এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারে প্রথম ২ ম্যাচের মধ্যে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সঙ্গে ড্র করে ও বাইরের মাঠে হংকংয়ের কাছে হেরে গ্রুপে ভারতের যা অবস্থান, তাতে সিঙ্গাপুর ম্যাচ হারলে, ভারতের এশিয়ান কাপের মূল পর্বে ওঠা কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তখন খালিদ যদি আইএসএলে জামশেদপুর কোচের ভূমিকায় ফিরে যান, এএফসি কোয়ালিফায়ারের বাকি ম্যাচগুলো ভারতীয় দলে সহকারি দেশি কোচের হাত দিয়ে চালিয়ে দিলে ক্ষতি কী? ততদিনে ফেডারেশনের নতুন কমিটি স্থায়ী বিদেশি কোচও খুঁজে নিতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ২৯ আগস্ট থেকে যেখানে তাজিকিস্তানে কাফা নেশনস কাপ কাপ খেলবে ভারত। গ্রুপে আয়োজক তাজিকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান, সেখানে ডুরান্ড কাপে জামশেদপুর কোচের ভূমিকায় থাকা খালিদ কটা দিন প্রস্তুতি পাবেন, কাফা নেশনস কাপে দল গোছানোর জন্য? বিশেষ করে মোহনবাগান এসজির মতো দল যদি ডুরান্ড ফাইনালে ওঠে, তাহলে তাদের ফুটবলাররা ২৩ আগস্ট পর্যন্ত আটকেই থাকবেন। যতই যুক্তি দেওয়া হোক, খালিদ ভারতীয় ফুটবলারদের সবাইকে হাতের তালুর মতো চেনেন, তাই অসুবিধা হবে না, ভারতীয় দল সামলানো এত সহজ কাজ নয়। তা যদি হত, তাহলে মানোলো মারকোয়েজ চরম ব্যর্থ হয়ে দায়িত্ব ছেড়ে কান্নাকাটি করে কেটে পড়তেন না।
আসলে ফেডারেশনে সঠিক নেতৃত্বের অভাবে সবকিছু ঘিরেই ঘোর অনিশ্চয়তা ও সংশয়। যা ভারতীয় ফুটবল স্তরে সর্বত্র পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
