অলস্পোর্ট ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ নির্দেশে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে দ্রুত ২০২৫-২৬ মরশুমে খেলা শুরু করতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই অর্ডারে এটাও উল্লেখ করা হয়েছে সুপার কাপ ও ঘরোয়া লিগ অর্থাৎ আইএসএলের নিয়ন্ত্রণ যেন এআইএফএফ নিজের হাতে রাখে। সেই আদেশের মান্যতা দিয়ে ফেডারেশন কর্তারা কাজ না করলে আদালত অবমাননার দায়ে পড়বেন।
এর আগে ভারতীয় ঘরোয়া ফুটবল ঘিরে অচলাবস্থা কাটাতে আইএসএলে অংশগ্রহনকারী ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক সেরেছিলেন ফেডারেশন সভাপতি কল্যান চৌবে ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীরা। একটা সায়মিক সমাধানের রাস্তা হিসেবে ফেডারেশন সভাপতি কল্যান সকলের কাছে প্রস্তাব রাখেন, যতক্ষণ না আইএসএল আয়োজন ঘিরে জট কাটছে, ততক্ষণ বিকল্প পথ বেছে নেওয়া ভাল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সময়ে সুপার কাপ আয়োজন সেরে ফেলে যেতে পারে। পরে এফএসডিএলের সঙ্গে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট নিয়ে একটা সমঝোতার রাস্তা খুঁজে পেলে আইএসএল করা যাবে।
কিন্তু এরপরই সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে অনেক বদল আসে। যার ভিত্তিতে এফএসডিএল আইএসএল আয়োজনের যাবতীয় স্বত্ত্ব ছেড়ে দিয়ে নিজেদের সরিয়ে নেয় এমআরএ-র পুরোন শর্ত মেনে ফেডারেশনকে দু’কিস্তির টাকা দিয়ে। এর ফলে পরিস্থিতি যা দাঁড়ায়, যতক্ষণ না সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নতুন গ্লোবাল টেন্ডার ডেকে ফেডারেশন তাদের বানিজ্যিক সহযোগী ঠিক করতে পারছে, ততক্ষণ আইএসএল হওয়া সম্ভব নয়। এই পদ্ধতি অনেকটাই সময় সাপেক্ষ। সবকিছু ঠিকঠাক চললেও ডিসেম্বরের আগে আইএসএল হওয়া সম্ভব নয়।
তার জন্য ভারতের ঘরোয়া ফুটবল তো থেমে থাকতে পারে না। মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও এফসি গোয়া না হয়, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টুর ম্যাচ খেলার জন্য ব্যস্ত থাকবে ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে, কিন্তু বাকি দলগুলোর সামনে তো কোনও খেলাই নেই। খেলা না থাকলে, ক্লাবগুলো তো শুধু শুধু মাইনে দিয়ে তাদের ফুটবলার ও কর্মীদের বসিয়ে রাখবে না। এরকম একটা ঘটনায় প্রচন্ড ক্ষুব্ধ ফিফা ও এএফসি। তারা সাফ জানিয়েছে, এআইএফএফ দ্রুত ঘরোয়া ফুটবল শুরু না করলে, কড়া শাস্তির মুখে পড়বে।
এখান থেকে এআইএফএফের রেহাই পাওয়ার একটাই সুযোগ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সুপার কাপের আয়োজন করা। কিন্তু সুপার কাপ শুরু করার দিন নিয়ে বেশ ঝামেলায় পড়েছে ফেডারেশন। একটা সময় সেপ্টেম্বরে সুপার কাপ শুরুর কথা বললেও, সেটা কোনওমতো সম্ভব নয়। তার বড় একটা কারণ মোহনবাগান ও গোয়া ছাড়া বাকি সব দলের প্রিসিজন প্র্যাকটিস দূরে থাক, অনেক ক্লাবের কাজকর্মই বন্ধ হয়ে রয়েছে। ফলে সুপার কাপ খেলার জন্য সব দলকেই অন্তত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহ দিতে হবে তৈরি হওয়ার।
সুতরাং এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, সেপ্টেম্বরে সুপার কাপ শুরু হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, ফেডারেশনের ইচ্ছা, ক্লাবগুলোকে যথেষ্ট সময় দিয়ে অক্টোবরের মাঝামাঝি সুপার কাপ শুরুর। কিন্তু সেখানেও কিছু সমস্যা আছে। ৯ অক্টোবর বাইরে ও ১৪ অক্টোবর গোয়ার মাঠে সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের ম্যাচ রয়েছে ভারতের। স্বাভাবকিভাবেই এই ম্যাচের পরদিনই তো আর সুপার কাপ শুরু করা সম্ভব নয়। কয়েকটা দিন তো দিতে হবে, ভারতীয় দল থেকে ফুটবলারদের ক্লাবে ফিরে গিয়ে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে।
একইসঙ্গে আবার ২১ অক্টোবর আল হুসেনের সঙ্গে খেলা রয়েছে মোহনবাগানের বাইরের মাঠে। এফসি গোয়ার ম্যাচ রয়েছে মারগাঁওয়ের মাঠে আল নাসেরের বিরুদ্ধে ২২ অক্টোবর। এর অর্থ এর আগের কয়েকদিন ও পরের কয়েকদিনের মধ্যে কীভাবে সুপার কাপের ম্যাচ হওয়া সম্ভব, যদি না ফরম্যাটে আমূল বদল আনা হয়, বা অনেকটা গ্যাপে গ্যাপে সুপার কাপ করা না হয়। তাই সুপার কাপ শুরুর দিন, সূচী ও ফরম্যাট ঠিক করতে গিয়ে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছে ফেডারেশন। আদালতের আগের নির্দেশ হাতিয়ার করে সময় নষ্ট করার মাসুল দিচ্ছেন এখন ফেডারেশন কর্তারা। এখন দেখার মোহনবাগান, গোয়া এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু আর ভারতীয় ফুটবল দলের এএফসি এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ারের সূচীর সঙ্গে সংঘাত এড়িয়ে অক্টোবর ও নভেম্বরে সুপার কাপের তারিখ ফেডারেশন ঠিক করতে পারে কিনা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
