অলস্পোর্ট ডেস্ক: মহমেডান কি আদৌ বাকি দলগুলোর সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে আইএসএল খেলতে তৈরি? আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে তারা গতমরশুমের মাঝামাঝি থেকে ধুঁকছে। এমন একটা অবস্থার মধ্যে পড়েছিল, আইএসএলের শেষদিকের ম্যাচ খেলা প্রায় দুরুহ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোনওরকমে আইএসএলে খেলা শেষ করলেও কোচ-ফুটবলারদের বকেয়া মাইনে না মেটানোর কারণে ফিফা ও জাতীয় স্তরের ট্রান্সফার ব্যানের মুখে পড়ে। এর ফলে তারা আর নতুন করে কোনও ফুটবলারের নাম নথিভুক্ত করতে পারেনি, বেশ কয়েকজন ঘরোয়া ফুটবলারের সঙ্গে কথা পাকা হয়ে গেলেও। এতে জোড়াতালি দিয়ে ২০২৫-২৬ মরশুমের ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় খেলা চালিয়ে যায় মহমেডান।
কিন্তু ওই একইভাবে ২০২৫-২৬ মরশুমের আইএসএলে খেলা সম্ভব নয় মহমেডানের পক্ষে, আর্থিক সমস্যা ঘুচিয়ে ভাল দল না গড়ে লড়াইয়ে নামলে। সেটা বুঝেই মহমেডান স্পোর্টিং কর্তারা নতুন ইনভেস্টারের খোঁজ করতে থাকেন। সবচেয়ে বড় কথা, বিদেশি কোচ ও ফুটবলারদের বকেয়া মাইনে না মেটানো পর্যন্ত তাদের নতুন করে আইএসএল খেলার ভাবনা চিন্তা করা সম্ভব ছিল না। সেই বকেয়ার পরিমানটা অনেক। প্রায় ২৫ কোটির মতো। কোচ-ফুটবলার ছাড়াও ভেন্ডারদের অনেক টাকা বাকি থেকে গিয়েছিল। সেটা মেটানোর পর নতুন করে ফুটবলার নেওয়া বা দলগঠনের পথে হাঁটা সম্ভব হত মহমেডানের কাছে।
এটা বুঝেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির দারস্থ হন মহমেডান কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রী প্রাথমিক ভাবে মহমেডানের নতুন ইনভেস্টার হিসেবে টেকনো ইন্ডিয়াকে যুক্ত হওয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর সামনে অর্থ দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও টেকনো ইন্ডিয়া পরে এনিয়ে কোনও পাকা চুক্তি বা টাকা দেয়নি। যদিও শোনা গিয়েছিল, ২৫ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল তাদের, মহমেডানের দরকারের থেকে যা অনেক কম। বাধ্য হয়ে মহমেডান কর্তারা আবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করলে, তিনি পরিস্থিতি বুঝে বিদেশি কোচ-ফুটবলারদের বকেয়া মিটিয়ে মহমেডানের ব্যান তুলতে ১০ কোটি টাকা দেন।
তাতে মহমেডানের সমস্যা পুরো মেটেনি। কোচ-ফুটবলারদের বকেয়া মাইনে মেটানোর পরও আবার ব্যানের খাঁড়া নেমে আসে মহমেডানের ঘাড়ে টেকনিকাল কারণে। আসলে টাকা পৌঁছতে কোনও কারণে দেরি হয়েছিল বিদেশি ফুটবলার ফ্রাঙ্কার কাছে। তিনি আবার ফিফায় অভিযোগ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে দুবার অভিযোগ জমা পড়লে দ্বিতীয়বার ব্যান খাওয়ার নিয়ম ফিফায়। মহমেডানের তাই হয়। তবে দ্বিতীয় এই ব্যান খাওয়ার আগে ঘরোয়া ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি ও নাম নথিভুক্ত করার কাজটা সারা হয়ে গিয়েছিল মহমেডানের। এতে খানিকটা স্বস্তি মেলে।
তবে এখন আইএসএলে লড়াই করে টিঁকে থাকার জন্য ভাল দল গড়তে শুধু ঘরের ফুটবলারদের দিয়ে চলবে না। মহমেডান কর্তারা মনে করেছেন, অন্তত ৪ থেকে ৫ জন বিদেশি দরকার। কিন্তু ব্যান না উঠলে জানুয়ারি ট্রান্সফার উইন্ডোতে কোনও ফুটবলারই নেওয়া সম্ভব নয়। তাই ফিফার কাছে এই দ্বিতীয় ব্যান তুলে নেওয়ার জন্য তাঁরা বিশেষ ছাড়ের আবেদন করবেন। তবে শুধু ব্যান উঠলেই তো হবে না। ফুটবলার নিতে তো টাকা দরকার। সঙ্গে আইএসএল খেলার প্রস্তুতি, হোম ম্যাচ আয়োজন, অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে যাওয়ার বিপুল খরচ আছে। হোম ম্যাচ আয়োজনে অনেক খরচ বুঝে মহমেডান কর্তারা বেশি অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আগ্রহী ছিলেন। তবে এখন তাঁরা বলেছেন, আগে সূচী তৈরি হোক, তারপর এসব নিয়ে ভাবা যাবে। আর যারা আইএসএল সূচী তৈরি করছে, সেটা তাদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া ভাল। হোম ম্যাচের ক্ষেত্রে স্টেডিয়াম ভাড়া মকুবের জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছে মহমেডান।
তারপরও প্রশ্নটা অবশ্য থেকেই যাচ্ছে? দল গঠন থেকে ম্যাচ খেলার টাকা আসবে কোথা থেকে? ইনভেস্টার তো এখনও নেই। টেকনো ইন্ডিয়া ২৫ কোটি টাকা কবে দেবে জানেন না কর্তারাও।
তাই ভরসা সেই আবার মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কাছে আবার সাহায্য প্রার্থনা করেছেন মহমেডান কর্তারা। তাঁদের কথামতো, মুখ্যমন্ত্রী আরও ১২ কোটি টাকা দিয়ে সাহায্য করবেন বলে নাকি কথা দিয়েছেন। এতে অবশ্য ভেন্ডারদের বকেয়া টাকাটা মেটানো সম্ভব হবে। তারপরও অনেক টাকার দরকার, দলগঠন, ম্যাচ আয়োজন, খেলার খরচ সামলাতে। এটা কীভাবে আসবে এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না সাদা কালো ব্রিগেডের কর্তারা। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শেষপর্যন্ত টেকনো ইন্ডিয়া টাকা দিতে রাজি হলে, কিছুটা স্বস্তি মিলবে।
তবে আইএসএল খেলার লক্ষ্যে ২৭ জানুয়ারি বা তারপর দিন থেকে অনুশীলন শুরু করতে চায় মহমেডান তাদের মাঠে। আগে করার সুযোগ নেই ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রজাতন্ত্র দিবসের মহড়া ও কুচকাওয়াজের জন্য ক্লাবের মাঠে অনুশীলনের সমস্যা থাকায়। মেহরাজউদ্দিন ওয়াডুকে কোচ রেখেই প্রস্তুতি সারবে মহমেডান। বিদেশি কোচের ওপর এমনিতেই কোনও আস্থা নেই কর্তাদের। তাছাড়া গত মরশুমে দল যখন সমস্যায় পড়ছিল বিদেশি কোচ চেরনিশভ আইএসএলের মাঝে দায়িত্ব ছেড়ে পালানোয়, তখন দলের হাল ধরেছিলেন এই মেহরাজই। এমনকি বকেয়া মাইনের দাবিতে ফুটবলাররা যখন মাঠে নামবেন না বলে গোঁ ধরেছিলেন, তখন তাঁদের বুঝিয়ে মাঠ নামান মেহরাজ। নিজের মাইনে দিনের পর দিন না পেয়েও। বাঁচিয়ে দেন ফেডারেশনের বড় শাস্তির হাত থেকে। সেসময় আইএসএলে ম্যাচ ওয়াকওভার দিলে , এই মরশুমে মহমেডানকে আইএসএলে খেলার জন্য বিবেচনাই করা হত না। পরবর্তী সময় ঘরোয়া ফুটবলে, কলকাতা লিগে, ডুরান্ড কাপে ও সুপার কাপে মহমেডান লড়াকু ফুটবল খেলে মেহরাজের কোচিংয়ে সীমিত ক্ষমতা নিয়েও। তাই মেহরাজেই আস্থা রাখছেন কর্তারা, ২০২৫-২৬ মরশুমে আইএসএলে মহমেডানের ফল যাই হোক না কেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
