Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক:‌ পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক খারাপ ছিলই, এখন একইরকম। সেখানে নতুন করে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে বাংলাদেশের সঙ্গে। টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ইস্যুতে। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড(‌বিসিসিআই)‌ বা আইসিসির কাছে এটা নতুন বা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার না হলেও, ইন্টারন্যাশানাল অলিম্পিক কমিটি(‌আইওসি)‌ এই ধরনের ব্যাপার একেবারেই সমর্থন করে না। খেলাধুলার মাঠে কোনওরকম রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা সম্পর্কের টানাপোড়েন আইওসির ঘোরতর অপছন্দ। তাই পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে এই ধরনের সমস্যা খেলাধুলোর প্রাঙ্গনে থাকায় ভারতের ২০৩৬ সালের অলিম্পিক বিডের ওপর প্রভাব ফেললে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের সাপে নেউলে সম্পর্কের কথা সারা বিশ্ব জানে। এখন সেটা খেলার মাঠেও ভীষণ বেশি রকম প্রভাব ফেলেছে। ভারত সরকার ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বের কোথাও ভারতের কোনও খেলার দল পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অংশ নেবে না। দুইয়ের বেশি দল সেখানে খেললে, তবে তারা অংশ নেবে সেই প্রতিযোগিতায়। আর সেটা নিরপেক্ষ দেশের মাঠে হওয়া জরুরি। সম্পর্ক আরও খারাপ হতে বসেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনে আইসিসি ২০২৬ টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ঝুলিয়ে রাখায়। শেষপর্যন্ত খেললেও, টুর্নামেন্টে ভারত বিরোধিতা বিশেষভাবে সামনে আসতে পারে পাকিস্তানেক আচরণে।

এবার নতুন করে তিক্ততা বেড়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে। ভারতের মাটিতে টি২০ বিশ্বকাপে খেলতে না চেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ায়। এর পেছনে বাংলাদেশের যুক্তি, তাদের ক্রিকেটার মুস্তাফিজুরকে যেখানে আইপিএলের দল কেকেআর থেকে ছেঁটে ফেলতে বাধ্য করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড(‌বিসিসিআই)‌, সেখানে টি২০ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ নয়। আইসিসি বোঝানোর চেষ্টা করেছিল, নিরাপত্তার কোনও সমস্যা নেই ভারতের খেলার ব্যাপারে। মুস্তাফিজুর ইস্যু ভিন্ন বিষয়। তার সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড না খেলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে। বাংলাদেশ সরকারের ভারতের মাটিতে খেলায় সায় নেই জানিয়ে। আইসিসি এরপর আর কোনওরকম নমনীয়ভাব না দেখিয়ে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টি২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ দিয়েছে।

রাজনৈতিক স্তরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে মনোমালিন্য চরমে পৌঁছেছে। আইওসির নিয়মে খুব স্পষ্টভাবেই উল্লেখ করা আছে, খেলাধুলো প্রাঙ্গনে কোনওরকম রাজনৈতিক বা ধর্মীয় হস্তক্ষেপ চলবে না। এমন কোনও পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যাবে না, যাতে অন্য দেশ গেমস বয়কট করার কথা ভাবে। সেক্ষেত্রে গতমাসে ২০৩০ কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়া ভারত যে খুব একটা স্বস্তিতে নেই, এটা বলাই বাহুল্য। ২০৩৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের দাবিও জানিয়েছে ভারত। কিন্তু প্রতিবেশী দুই দেশের সঙ্গে খেলাধুলোর প্রাঙ্গনে সম্পর্কের উন্নতি না ঘটাতে পারলে, ভারতের হাত থেকে অলিম্পিক্স আয়োজনের সুযোগ হাতছাড়া হতে পারে। কারণ ভারতের সঙ্গে ২০২৬ অলিম্পিক্স আয়োজনের শক্তিশালী দাবিদার কাতার। তারা এর আগে ২০০৬ এশিয়ান গেমস ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সফল আয়োজন করে সারা বিশ্বের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আইওসি যে কোনভাবেই এইসব ধরনের ঝামেলা বরদাস্ত করবে না, সেটা বুঝিয়ে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়া অলিম্পিক্স বিড করার অধিকার কেড়ে নিয়ে। ইন্দোনেশিয়ার অপরাধ তারা জাকার্তায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমনাস্টিক্সে ইজরায়েলের দলের সদ্যদের ভিসা দেয়নি। ইন্দোনেশিয়াও ২০৩৬ অলিম্পিক্স বিডের দৌড়ে ছিল। কিন্তু আইওসির নির্বাসনে সেই দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *