কানাডা ওপেন জয়ী লক্ষ্য সেন
অলস্পোর্ট ডেস্ক: তারকা ভারতীয় শাটলার লক্ষ্য সেন কানাডা ওপেনের ফাইনালে চিনের লি শি ফেংকে স্ট্রেট গেমে হারিয়ে দেশকে সাফল্য এনে দিলেন। সঙ্গে তাঁর দ্বিতীয় বিডব্লুএফ সুপার ৫০০ খেতাবও জিতে নিলেন তিনি। ২১ বছরের ভারতীয় এই প্রতিভা ২০২২ ইন্ডিয়া ওপেনে তাঁর প্রথম সুপার ৫০০ শিরোপা জিতে নিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতাই তিনি এদিন ধরে রাখলেন কানাডা ওপেনেও। হাড্ডাহাডড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন ফেং-কে ২১-১৮, ২২-২০ গেমে হারিয়ে দিলেন ভারতীয় শাটলার। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ম্যাচের আধিপত্ত নিজের দখলে রেখেছিলেন তিনি।
জয়ের পর লক্ষ্য সেন পিটিআই-কে বলেন, “অলিম্পিক যোগ্যতার বছরে এসে, এটা কঠিন ছিল কারণ সব কিছু আমার মতো হচ্ছিল না। তাই এই জয় আমার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।”
“বেশ কিছু ম্যাচে আমাকে অনেকবেশি লড়াই দিতে হয়েছিল কারণ পরিস্থিতি আলাদা ছিল এবং সেই পরিস্থিতির সঙ্গে অভ্যস্ত হওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল,” বলেন এই শাটলার।
গত বছরের অগস্টে কমনওয়েলথ গেমসে তাঁর প্রথম সোনা জয়ের পর এটিই ছিল লক্ষ্য সেনের প্রথম শিরোপা। মে মাসে মালয়েশিয়া মাস্টার্সে এইচএস প্রণয়ের জয়ের পর তিনি দেশের দ্বিতীয় সিঙ্গলস শাটলার যিনি এই বছর চ্যাম্পিয়ন হলেন।
লক্ষ্য সেন তার চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তাঁর নার্ভ ধরে রাখলেন। পয়েন্ট দখলের লড়াইয়ে দ্বিতীয় গেমে চারটি গেম পয়েন্ট বাঁচানোর পাশাপাশি একটি স্ম্যাশের সঙ্গে প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করে ফেলেছিলেন। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পড়ে আনন্দে, স্বস্তিতে রীতিমতো কোর্টের মধ্য ভেঙে পড়েছিলেন তিনি।
এই হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে দু’জনকেই বেশ কিছু অসাধারণ র্যা লি খেলতে দেখা যায়। দ্রুততার বিচারে অবশ্য লক্ষ্য সেনই ছিলেন এগিয়ে। যিনি তাঁর চিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সাতবারের সাক্ষাতে এই নিয়ে পঞ্চমবার জয়ের তুলে নিলেন লক্ষ্য।
এই জয় তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ মরসুমের শুরুতে ফর্মের সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। ফর্মের অভাবে র্যা ঙ্কিংয়ে নেমে গিয়েছিলেন ১৯ নম্বরে। এই জয় তাঁর কাছে ফর্ম ফিরে পাওয়া।
একসময় বিশ্ব র্যা ঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে ছিলেন তিনি। ২০২১ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন তিনি। গত অগস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের পরে সেপ্টেম্বরে নাকের অস্ত্রোপচারের পর ফর্ম ফিরে পেতে অনেকটাই সময় লেগে গেল লক্ষ্য সেনের। কানাডা ওপেনের ফাইনাল তাঁর ফর্মে ফেরার ছাপ রেখে গেল। দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে ক্ষমতা এবং সূক্ষ্মতার লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেন লক্ষ্য সেনই। যিনি বিশ্বের ১০ নম্বরের বিরুদ্ধে নিজের সেরাটা দিয়ে ডাউন-দ্য-লাইন এবং ক্রস-কোর্ট স্ম্যাশের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ট্রফি ছিনিয়ে নিলেন।
যদিও শুরুতে ২-৬-এ পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। লি-ও পাল্টা দিতে পিছপা হয়নি। লি-এর ৩৯০ কিলোমিটার বেগে স্ম্যাশের পাল্টা ৪০০ কিলোমিটার বেগে স্ম্যাশ ফেরত পাঠিয়েছিলেন লক্ষ্য সেন। স্ম্যাশ পাল্টা স্ম্যাশে জমে ওঠে লড়াই। একটা সময় ১৫-১৫ হয়ে যায়। কিন্তু সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে গেম নিজের দখলে নিয়ে আসেন ভারতীয় শাটলার।
তবে প্রতিপক্ষ সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। ভারতীয় শাটলারের দুর্বলতার সুযোগ পেয়ে ঘুরে দাঁড়ান তিনি। সাময়িক লড়াইয়ে দ্বিতীয় গেমে ৫-৫ করে বিরতি যায় ফাইনাল। কিন্তু বিরতি থেকে ফিরে নিজের খেলার কৌশলই বদলে ফেলেন লক্ষ্য। একটা সময় ১৩-১৪-তে পিছিয়ে পড়েছিলেন। ফোরহ্যান্ড বডি স্ম্যাশের পর আর একটি হার্ড স্ম্যাশের সাহায্যে খেলায় ফিরে আসেন ভা্রতীয় শাটলার।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
