অলস্পোর্ট ডেস্ক: উইম্বলডন ২০২৬-এ রেকর্ড ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এক কঠিন ও দীর্ঘ লড়াইয়ে ফেলিক্স অগার-অ্যালিয়াসিমকে পরাজিত করে টিকে রইলেন নোভাক জকোভিচ। এটি ছিল তাঁর উইম্বলডন ক্যারিয়ারের অন্যতম নাটকীয় জয়; দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের মাধ্যমে তিনি ইয়ানিক সিনারের বিপক্ষে এক হাই-প্রোফাইল সেমিফাইনাল লড়াইয়ের মঞ্চ প্রস্তুত করলেন। জয়ের পর জকোভিচ রসিকতা করে বলেন যে, তিনি আনন্দের সঙ্গেই নিজের এই ম্যাচটি লিওনেল মেসির ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচের সঙ্গে অদলবদল করে নিতেন। এর আগে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর এক ম্যাচে মেসি আর্জেন্টিনাকে মিশরের বিপক্ষে রোমাঞ্চকর জয় এনে দিয়েছিলেন। মেসি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে জকোভিচ এমন এক মজার মন্তব্য করেন যা শুনে সবাই হাসিতে ফেটে পড়েন।
জকোভিচ বলেন, ‘‘তাঁর মতো ৯০ মিনিট খেলতে পারলে ভালোই লাগত।’’
প্রথম সেটে কাফ মাসলে (পায়ের নিচের অংশের পেশি) চোট পাওয়া সত্ত্বেও জকোভিচ হার মানেননি। সেন্টার কোর্টে অনুষ্ঠিত ৫ ঘণ্টা ১৫ মিনিটের এই ধ্রুপদী লড়াইয়ে তিনি ৭-৬ (১২/১০), ৩-৬, ৬-৩, ৬-৭ (৪/৭), ৭-৬ (১০/৪) সেটে জয় তুলে নেন। ৩৯ বছর বয়সী এই অদম্য খেলোয়াড় ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার মুখোমুখি হবেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সিনারের। মঙ্গলবার সিনার যেখানে জার্মান অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ইয়ান-লেনার্ড স্ট্রাফকে সরাসরি সেটে হারিয়েছিলেন, সেখানে কানাডিয়ান তৃতীয় বাছাই অগার-অ্যালিয়াসিমকে হারাতে জকোভিচকে লড়তে হয়েছে অনেক বেশি। উইম্বলডনের ইতিহাসে অন্যতম সাহসী পারফরম্যান্স ছিল এটি।
এখন প্রশ্ন হল, সিনারকে হারানোর মতো যথেষ্ট শক্তি বা প্রাণশক্তি কি এই সার্বিয়ান খেলোয়াড়ের অবশিষ্ট থাকবে?
অগার-অ্যালিয়াসিমকে কীভাবে পরাস্ত করলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে জকোভিচ বলেন, ‘‘র্যাকেট আর অদম্য মনোবল দিয়ে। এ ধরনের ম্যাচে স্নায়ুর চাপ ও তীব্র উত্তেজনা সামলানোর কৌশল আমার জানা আছে।’’
“ম্যাচের শেষ পর্যায়ে জয়-পরাজয় যে কোনও দিকেই যেতে পারত। কী আর বলব, নিশ্চিতভাবেই এসব মুহূর্তের জন্যই আমি এখনও টেনিস খেলি।’’
‘‘আমি বাচ্চাদের ঘুমাতে যেতে বলেছিলাম; তবে তারা যে শেষ পর্যন্ত জেগে ছিল তাতে আমি খুশি, কারণ এই কোর্টে আমার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ম্যাচ ছিল এটি,’’ বলেন জকোভিচ।
জকোভিচ রেকর্ড বাড়িয়ে পঞ্চদশবারের মতো উইম্বলডন সেমিফাইনালে এবং গ্র্যান্ড স্ল্যামে ৫৫তম বারের মতো সেমিফাইনালে পৌঁছে গেলেন। তিনি টানা অষ্টমবারের মতো উইম্বলডনের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছেন এবং ‘অল ইংল্যান্ড ক্লাবে’ পুরুষ সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে টানা অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে রজার ফেডেরারকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
১৯৭৪ সালে কেন রোজওয়ালের পর ‘ওপেন এরা’-তে দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে ৩৯ বা তার বেশি বয়সে উইম্বলডনের পুরুষ সিঙ্গলসের সেমিফাইনালে পৌঁছানোর কৃতিত্ব অর্জন করলেন জকোভিচ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
