অলস্পোর্ট ডেস্ক: নিখাত জারিনের খেলোয়াড় জীবনের উত্থান পতনের কাহিনীর সঙ্গে রুপোলি পর্দার নায়িকাদের অনেক মিল আছে। পরপর বিশ্বখেতাব জয়, কমনওয়েলথ গেমস সোনা ও এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ প্রাপ্তির ফলে ভারতের তারকা মহিলা বক্সার নিখাতকে ঘিরে প্রত্যাশার পারদ আকাশ ছুঁয়েছিল ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিক্সের আগে। কিন্তু প্রত্যাশার চাপই হোক, আর পারফরমেন্সের ঘাটতি, তেলেঙ্গানার বক্সার নিখাতকে প্যারিস অলিম্পিক থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল শেষ ১৬র লড়াইয়ে সোনা জয়ী প্রতিপক্ষ উ ইউয়ের কাছে হেরে।
এটা নিখাতকে একটা বড় ধাক্কা ও শিক্ষা দিয়ে গেছে। সম্প্রতি জাতীয় বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়ে ও পদক জিতে নিখাত অতীত মাথায় রেখে বলেন, ‘ খেলার জগতে, পারফরমেন্সের ওঠা নামা থাকেই। একজন অ্যাথলিট সবসময় তার পিক ফর্মে থাকবে, এটা আশা করা ভুল। তবে আশা ছাড়লে চলবে না। ব্যর্থতা খেলাধুলোর একটা অঙ্গ। তাই যখন তুমি বুঝতে পার, কোথায় তোমার ভুল হচ্ছে, তখন সে জায়গাটা ঠিক করায় তুমি বেশি জোর দাও। একটু থেমে আবার এগিয়ে যেতে হবে আরও শক্তিশালী হয়ে।’
এই দর্শন মেনেই প্যারিস অলিম্পিক্সের পরে কিছুদিনের ব্রেক নিয়ে আবার বক্সিং এরিনায় ফেরার উদ্যোগ নিয়েছিলেন নিজের লক্ষ্যপূরণে। বলাই বাহুল্য অধরা অলিম্পিক পদক জয়ের লক্ষ্য সামনে রেখে অনুশীলন শুরুর মুখেই তাঁর সব প্রচেষ্টা থমকে যায়, হাঁটুর চোটের কারণে। রিহ্যাবের মাধ্যমে ফিট হয়ে প্রতিযোগিতায় ফিরতে অনেকটা সময় চলে যায় নিখাতের। ফিট হয়ে গতবছর জুন-জুলাইয়ে জাতীয় প্রতিযোগিতায় নামার পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে দু’বারের অলিম্পিক রুপোজয়ী বুস নাজ সাকিরোগলুর কাছে। এনিয়ে নিখাতের বক্তব্য, ‘ আমি দু’বারের অলিম্পিক পদকজয়ীর কাছে হেরেছি। তাই আমার কোনও অক্ষেপ নেই। কিন্তু খালি হাতে ফিরে আসায় হতাশ।’
নিখাতের বক্সিং জীবনটা শুরুতে মসৃণ ছিল না। একে পাড়া প্রতিবেশীদের বিদ্রুপ, তাছাড়া মায়ের চিন্তা মেয়ের বিয়ে দেওয়া নিয়ে চোট পাওয়া মুখ নষ্ট হবে ভেবে। তার থেকেও বড় সমস্যা ছিল, ২৯ বছর বয়সী নিখাতকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে, মেরি কম তাঁর ওয়েট ক্যাটিগরিতে টানা সাফল্য পাওয়ায়। নিখাতের ভাষায়, ‘ছেলেবেলা থেকেই আমি খুব জেদী। জানতাম আমার জীবনের শুরুটা মোটেই সহজ হবে না। চড়াই উতরাই থাকবে। কেউ আমাকে হাতে করে কিছু তুলে দেবে না। আমি প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হবই। সেইমতো নিজেকে তৈরি করেছি। এই গুনটাই আমাকে সকলের থেকে আলাদা করেছে। আমার মাথার মধ্যে ঘুরছে আমাকে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন হতেই হবে। যতক্ষণ না তুমি বড় স্বপ্ন দেখছ, ততক্ষণ তুমি তা ছুঁতে পারবে না। সোনা না জিতে আমি থামব না।’
লস এঞ্জেলস অলিম্পিক্সের আসর বসবে ২০২৮য়ে। নিখাতের স্বপ্নপূরণের প্রস্তুতি আপাতত চলছে কোচ সানি গেহ্লটের কাছে। তাঁর কোচিংয়ে পদক খরা মিটিয়েছেন নিখাত জারিন বিশ্বকাপ ফাইনাল জিতে। সানি গেহ্লট জানান, প্যারিস অলিম্পিকের হারের পর চোটের চিকিৎসায় অনেকটা সময় লেগেছিল। তারপর ফিট হলে জারিনের বক্সিং কৌশলের ছোটখাটো ভুলগুলো শুধরে নেওয়ায় মন দি। কাউন্টার-অ্যাটাকের কৌশলে উন্নতিতে মন দি। ব্যাকফুটের উন্নতিতে জোর দি। টেকনিক ও ট্যাক্টিক্সের উন্নতিতেও। এলএ অলিম্পিক্স ২০২৮য়ে। তখন জারিনের বয়স হবে ৩২। ওইসময় পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে চাঙা থাকতে হবে জারিনকে। ধরে রাখতে হবে ফর্ম।’
আপাতত নিখাত জারিনের সামনে অনেকগুলি বড় প্রতিযোগিতা নিজের ক্ষমতা যাচাইয়ের। তার মধ্যে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, কমনওয়েলথ গেমস ও এশিয়ান গেমস আছে। বলতে গেলে এই প্রতিযোগিতায় জারিনের পারফরমেন্স বলে দেবে তিনি এলএ অলিম্পিক্স পর্যন্ত নিজের ফর্ম ধরে রাখতে পারবেন কিনা?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
