সুচরিতা সেন চৌধুরী: শুক্রবার যুবভারতী ক্রিড়াঙ্গনে আইএসএল ২০২৩-২৪ লিগ টেবলের পাঁচ নম্বরে থাকা ওড়িশা এফসির মুখোমুখি হয়েছিল সাত নম্বরে থাকা ইস্টবেঙ্গল এফসি। দুই দলেরি ছিল ১০ নম্বর ম্যাচ। ম্যাচের আগের দিনই ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লস কুয়াাদ্রাত বলেছিলেন, আইএসএল-এ টিকে থাকতে হলে এখন সব ম্যাচ তাদের জন্য মাস্ট উইন। তবে সামনে যখন ওড়িশার মতো দল তখন এই লড়াই যে কঠিন হবে তা নিশ্চিত হয়েই ঘরের মাঠে দল নামিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ। ওড়িশা দারুণ ফর্মে রয়েছে। পর পর ম্যাচ জিতে প্রতিপক্ষকে অশনী সঙ্কেত দিয়েই রেখেছে লোবেরার দল। তাদের সামনে লিগ টেবলে একলাফে পাঁচ থেকে শীর্ষে ওঠার ম্যাচ ছিল। ইস্টবেঙ্গল জিতলে সাত থেকে ছয়ে উঠত ড্র করে তারা একই জায়গায় থেকে গেল। ওড়িশা পাঁচেই থেকে গেল। সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ের হ্যাটট্রিকটাও সেরে ফেলল লাল-হলুদ বাহিনী।
ইস্টবেঙ্গল বনাম ওড়িশা ম্যাচের প্রথমার্ধ সমানে সমানে। দুই দলই আক্রমণের ফাঁকে ফাঁকে যেন একে অপরকে মেপে নিচ্ছিলেন। তার মধ্যেই ফাউল পাল্টা ফাউলে খানিকটা উত্তেজনা ছড়াল মাঠে। এদিন ইস্টবেঙ্গলকে সমর্থন করতে অনেকেই এসেছিলেন গ্যালারিত। আগের দিনই কোচ বলেছিলেন, “আমরা কিছু দিলে তবেই না সমর্থকদের থেকে আশা করব।” কোচের এই বার্তা যে পৌঁছে গিয়েছিল তাঁদের কাছে এদিনের সমর্থক সংখ্যা তারই প্রমাণ। প্রথমার্ধের খেলা বলছে টেকনিক্যালি সঠিক পথেই এগোচ্ছিলেন কুয়াদ্রাত।
কোনও তাড়াহুড়ো নয়, বরং কিছুটা ধরে খেলা। আর সুযোগ মতো আক্রমণে ওঠা। যার অংশ হিসেবে ওপেন সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন ক্লেটন সিলভা। ম্যাচের ১৫ মিনিটে যেবাবে ফাঁকা গোল পেয়েও দলকে গোল এনে দিতে পারলেন না তাতে হয়তো নিজেকেই ক্ষমা করতে পারবেন না তিনি। এর পরও আধা সুযোগ যে তৈরি হয়নি তা নয়। পর পর দু’বার ডান দিক দিয়ে উঠে ভাল জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন নন্ধা কুমার। কিন্তু দু’বারই জমা দিলেন গোলকিপারের হাতে।
প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইস্টবেঙ্গলের তরফে বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবলের আবেদনে সাড়া দেননি রেফারি। কর্নার দিয়েই দায়িত্ব সারেন। ম্যাচের শেষ মুহূর্তেও। ইস্টবেঙ্গলের প্রাপ্য হ্যান্ডবল দিলেন না রেফারি। ফাউল, পাল্টা ফাউল অবশ্য চলতে থাকে দ্বিতীয়ার্ধেও। প্রথমার্ধের শেষে মন্দার রাও দেশাইয়ের পাওয়া চোট চিন্তার কারণ হতে পারে ইস্টবেঙ্গল কোচের জন্য। কারণ দ্বিতীয়ার্ধে নামিয়েও ১০ মিনিটের মধ্যে তাঁকে তুলে নিতে বাধ্য হলেন কোচ। একসঙ্গে দুটো পরিবর্তন করলেন, মন্দারের জায়গায় মহম্মদ রাকিপ ও প্রথমার্ধে কিছুট নির্লিপ্ত নন্ধা কুমারের জায়গায় মাঠে নামলেন পিভি বিষ্ণু।
এই আইএসএল মরসুমে বার বার রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দুদিন আগেই মুম্বইয়ের মাঠে মুম্বই এফসি বনাম মোহনবাগান ম্যাচের রেফারিং নিয়ে সমালোচনা এখনও থামেনি তার মধ্যেই এদিনের ম্যাচও তাতে কিছুটা মশলা যোগ করবে নিশ্চিত। সাইড লাইনে দাঁড়িয়ে দুই কোচকেই প্রতিক্রিয়া দিতে দেখা গেল। ৭৫ মিনিটে ওড়িশা কোচ রয় কৃষ্ণাকে তুলে দিয়েগো মরিসিওকে নামিয়ে গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করলেন। এদিন যেন তাঁর দুই তারকা ফরোযার্ঢকেই নির্লিপ্ত দেখাল। সে তিনি রয় কৃষ্ণাই হোক বা আহমেদ জোহু। অন্যদিকে, গোল পেতে ইস্টবেঙ্গল কোচও বোরহা হেরেরাকে তুলে নামিয়ে দিলেন সিভেরিওকে। তাতেও গোলের মুখ খুলল না এই ম্যাচে। তবে শেষ বেলায় যেভাবে ওড়িশা রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করল ইস্টবেঙ্গল তাতে যে কোনও সময় গোল পেতে পারত। বরং বলা যায় এই চেষ্টা আরও কিছুটা আগে থেকে হলে হয়তো তিন পয়েন্ট আসতেই পারত।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, মন্দার রাও দেশাই (মহম্মদ রাকিপ), হিজাজি মেহের, পার্দো লুকাস, লাল চুংনুঙ্গা, নিশু কুমার, ক্লেটন সিলভা, বোরহা হেরেরা (জ্যাভিয়ের সিভেরিও তোরো), সৌভিক চক্রবর্তী, নাওরেম মহেশ, নন্ধা কুমার (পিভি বিষ্ণু)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
