অলস্পোর্ট ডেস্ক: তাঁর দলের চোট পেয়ে বসে থাকা খেলোয়াড়রা সুস্থ হয়ে না ফিরলে যে দলের কোনও সমস্যারই সমাধান করা যাবে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মোহনবাগান এসজি-র কোচ হুয়ান ফেরান্দো । বুধবার ঘরের মাঠে কেরালা ব্লাস্টার্সের কাছে এক গোলে হারে তারা। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচে হারতে হল তাদের, যা আইএসএলে আগে কখনও হয়নি তাদের ক্ষেত্রে।
কিন্তু যে দল টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত ছিল, সেই দলের হঠাৎ কেন এত অধঃপতন হল, এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা চাইছেন অনেকেই। এ দিন ম্যাচের পর সাংবাদিক বৈঠকেও একই প্রশ্ন ওঠে। যার উত্তরে স্প্যানিশ কোচ ফেরান্দো বলেন, “যে খেলোয়াড়রা চোট পেয়ে বসে রয়েছে, তারা মাঠে না ফিরলে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না। গত তিন ম্যাচে আমরা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে খেলেছি। চোট-আঘাত, কার্ড সমস্যায় জর্জরিত ছিলাম আমরা। আমাদের এখন চোট-আঘাত সেরে ওঠার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি, আর কোনও চোট হবে না। তবে এত সমস্যার মধ্যেও দল কিন্তু লড়ছে। আজ যেমন দ্বিতীয়ার্ধে লড়াই করেছে ছেলেরা। এটা অবশ্যই ইতিবাচক ব্যাপার”।
দুঃসময়ে প্রশ্ন উঠছে তাঁর দলের রিজার্ভ বেঞ্চ নিয়েও। কিন্তু তিনি তাঁর দলের পরিবর্ত খেলোয়াড়দেরও পাশে দাঁড়ালেন। বলেন, “যখন দল জয়ের মধ্যে থাকে, টানা তিন-চারটে ম্যাচে জেতে, তখন পরিস্থিতি অনেক সোজা হয়, তখন বেঞ্চের খেলোয়াড়রাও ভাল খেলে। কারণ, তারা নিজেদের জায়গায় খেলতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে অনেককেই অনভ্যস্ত জায়গায় খেলতে হচ্ছে। টাঙরি, সুমিত, হুগো এদের উইঙ্গারের ভূমিকা পালন করতে হচ্ছে। তবু যে যেখানেই খেলে থাকুক, তারা অনেক চেষ্টা করেছে ভাল খেলার। এটা কম বড় প্রাপ্তি নয়”।
ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে ফেরান্দো আরও বলেন, “গত সাত দিনে আমরা চারটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছি। নর্থইস্ট, মুম্বই, গোয়া ও কেরালার বিরুদ্ধে। যখন একেকটা ম্যাচে আমরা তিন-চারজন করে খেলোয়াড়কে খুইয়েছি, তখন সব কিছুই কঠিন মনে হয়েছে। মনে হয়েছে সবাই আমাদের বিরুদ্ধে। এখন আমরা খুবই খারাপ অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। সময় যত গড়াবে, ততই এই দুঃসময়টা আশা করি কেটে যাবে”।
এ দিন দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকে অন্য মোহনবাগানকে দেখা যায়। বিশেষ করে আক্রমণে। প্রথমার্ধে যেখানে কোনও শটই নিতে পারেনি হোম টিম, সেখানে দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যে চারটি শট নেয় তারা, যার মধ্যে একটি ছিল গোলে। কিন্তু কেন প্রথমার্ধে তাঁর দল ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে পারল না, সেই নিয়ে কোচ বলেন, “আজ প্রথমার্ধে পরিস্থিতি খুবই কঠিন ছিল। একে তো গত ম্যাচে হেরে আমরা এই ম্যাচে নেমেছিলাম। অনেকেই ছোটখাটো চোট নিয়ে খেলতে নেমেছিল, যার ফলে তাদের আত্মবিশ্বাসও কম ছিল। এক গোল খেয়ে যাওয়ার পরে একটা ভয়ও কাজ করেছে আমাদের খেলোয়াড়দের মনে। আরও বড় ব্যবধানে হারার ভয়”।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে যে ভাবে ঘুরে দাঁড়ায় সবুজ-মেরুন বাহিনী, তাতে খুশি ফেরান্দো। এর মধ্যে ইতিবাচক দিকও খুঁজে পেয়েছেন তিনি। বলেন, “দ্বিতীয়ার্ধে যে লড়াইটা করেছে ওরা, তাতে আমি খুশি। ওই সময়ে মাথা ঠাণ্ডা রেখে ঝুঁকি নেওয়াটা জরুরি ছিল ঠিকই। কিন্তু বেশ কঠিন ছিল। ওরা যে সেই ঝুঁকিটা নিতে পেরেছে, এটাই অনেক। আজকের দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্সের পর আশা করি, দলের ছেলেরা সামান্য হলেও আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে। আমাদের এর পর সুপার কাপের প্রস্তুতি নিতে হবে। তখন এই সামান্য আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগবে আমাদের। এর পরে আমরা হাতে সময় পাব। এই সময়ে আশা করি দলের ছবিটা অনেকটাই পাল্টে যাবে এবং পরের পর্যায়ে আশা করি আমরা ছন্দে ফিরে আসব”।
দলের আক্রমণের দৈনতা নিয়ে কোচ বলেন, “এই নিয়ে চতুর্থ ম্যাচে পুরো ৯০ মিনিটের জন্যই খেলছে থাপা। ওকে খুব ক্লান্ত লাগছিল, তবু নেমেছে। টাঙরিকেও অতটা আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল না। যার ফলে মাঝমাঠ থেকে আমাদের আক্রমণ সে ভাবে শুরু হয়নি। শুরুর দিকে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারিনি আমরা। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যে ছেলেরা সাহস করে আক্রমণে উঠেছে, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেছে, এর জন্য ওদের ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। চোট পাওয়া খেলোয়াড়রা ফিরে এলে এবং হাতে সময় নিয়ে ফের প্রস্তুতি শুরু করব যখন, তখন আবার দল আগের অবস্থায় চলে আসবে, আশা করি”।
দলের এখন যা অবস্থা, তাতে জানুয়ারির দলবদল নিয়ে ভাবতে পারছেন না বলে জানান ফেরান্দো। বলেন, “এই নিয়ে এখনই কিছু ভাবছি না। এখন আমার কাজ দলের খেলোয়াড়দের মানসিক ভাবে চাঙ্গা হয়ে উঠতে সাহায্য করা। এ ছাড়া, যারা চোটের জন্য জাতীয় দলের হয়ে খেলতে পারবে না, তাদের হতাশা কাটানো। তাদের সেরে উঠতেও সাহায্য করতে হবে আমাদের। এটাই এখন সবচেয়ে জরুরি ব্যাপার”।
(লেখা আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
