সুচরিতা সেন চৌধুরী: এই ডার্বি ছিল বিতর্কের। শুরু থেকে আইএসএল ২০২৩-২৪-এর ফিরতি লেগের ডার্বি নিয়ে ক্লাব, পুলিশ, প্রশাসন সকলেই গত দু’সপ্তাহ ধরে আলোচনার পর আলোচনায় কাটিয়েছে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনেই সময় বদলে হল ডার্বি। শুরু থেকেই উত্তেজনায় ফুটছিল দুই দলের প্লেয়াররা। গ্যালারি হালকা থেকে ভর্তি হল। যদিও মোহনবাগান ক্লাব কর্তৃপক্ষের একাংশের ডার্বি টিকিট বয়কটের প্রভাব গ্যালারিতে পড়ল না। বরং ইস্টবেঙ্গলের থেকে মোহনবাগান গ্যালারিতে সমর্থকের সংখ্যা অনেকটাই বেশি ছিল। তার মধ্যে শুরুতেই পেনাল্টি মিসে থমকে গেল ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি। দ্বিতীয়ার্ধে ফেরার চেষ্টা করেছিল মরিয়া ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ১-৩ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হল ইস্টবেঙ্গলকে।
ম্যাচ শুরুর ১২ মিনিটে বিশাল কাইথের সঙ্গে সংঘর্ষে বক্সের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল স্ট্রাইকার ক্লেটন সিলভা। পেনাল্টি দেন রেফারি। কিন্তু ক্লেটন কোন দিকে কিক নেবেন সেটা বুঝে গিয়েছিলেন মোহনবাগান গোলকিপার বিশাল কাইথ। সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে ক্লেটনের গোল আটকে দেন তিনি। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে যেন খেলা থেকেই হারিয়ে গেল ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধটা লেখা থাকল মোহনবাগানেরই নামে। প্রথমার্ধ শেষ করল ৩-০ গোলে এগিয়ে থেকে।
২৭ মিনিটে ম্যাচের পাশাপাশি মোহনবাগানেরও গোলের মুখ খুললেন জেসন কামিংস। দিমিত্রি পেত্রোতোসের গোলমুখি শট বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার প্রভসুখন গিল। কিন্তু বল নিজের দখলে রাখতে পারেননি। গোলকিপারের থেকে ছিটকে আসা বল গোলে ঠেলেন কামিংস। ১-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে নেয় মোহনবাগান। তাদের পর পর আক্রমণে রীতিমতো নাস্তানাবুদ অবস্থা হয় ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের। সেই ছন্দেই আরও দুই গোল হজম করে বসতে হয় ইস্টবেঙ্গলকে।
৩৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল তুলে নেয় মোহনবাগান। এবারও গোলে প্রথম শটটা নিয়েছিলেন দিমিত্রিই। যেন প্রথম গোলেরই অ্যাকশন রিপ্লে দেখা গেল। দিমিত্রির শট বাঁচিয়ে দিলেন প্রভসুখন গিল। কিন্তু আবারও দখলে রাখতে পারলেন না সেই বল। ফিরতি বলে লিস্টন কোলাসোর দুরন্ত শট বাঁচানোর জন্য জায়গায় পৌঁছতে পারেননি তিনি।
এদিকে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি পেয়ে তা কাজে লাগাতে পারেনি কিন্তু প্রথমার্ধের শেষে পেনাল্টি থেকে গোল করে মোহনবাগানের হয়ে ৩-০ করে দিলেন দিমিত্রি পেত্রাতোস। লিস্টনকে বক্সের মধ্যে ফেলে দিয়ে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি পাইয়ে দিয়েছিলেন নন্ধা কুমার। ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণাত্মক ফুটবল বেছে নেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। যার ফলে গোলও তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলাটাই ঘুরে যায়। একদিকে ইস্টবেঙ্গলের পর পর আক্রমণ আর অন্যদিকে মোহনবাগানের ব্যবধান ধরে রাখার লড়াইয়ে জমে ওঠে ডার্বির যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন। বিরতিতে হতাশায় হালকা হয়ে যাওয়া ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি আবার ভড়ে ওঠে। আর গোল আসে ইস্টবেঙ্গলের ঘরে। ক্লেটনের পাস থেকে সাউল ক্রেসপো গোল করতেই জেগে ওঠে লাল-হলুদ গ্যালারি। এর পরও গোল পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল যদি না মোহনবাগান গোলের নিচে প্রাচীর তৈরি করতেন বিশাল কাইথ। ক্লেটন সিলভার গোলমুখি হেড দরুণ দক্ষতার সঙ্গে বাঁচিয়ে দেন। এদিন ক্লেটন আর গোলের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ান বিশাল। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের ব্যবধান ধরে রাখল মোহনবাগান। শেষ মুহূর্তে আরও একটা পেনাল্টিও পেতে পারত ইস্টবেঙ্গল যখন বক্সের মধ্যে বিষ্ণুকে ফেলে দেন অভিষেক।
উত্তেজিত হয়ে হলুদ কার্ড দেখলেন ইস্টবেঙ্গল কোচ কার্লেস কুয়াদ্রাত। ম্যাচ শেষে যখন একদল হতাশায় আর অন্য দলের উৎসব চলছে তখন মাঠের মধ্যে ঝামেলায় জড়ালেন দুই দলের ফুটবলাররা। প্রথমে দেখা যায় ক্লেটন কিছু বলছেন রেফারিকে। সেই সময় সেখানে এসে ক্লেটনকে ধাক্কা দেন জনি কাউকো। যদিও তা বেশি দূর গড়ায়নি। বাকিরা সামলে নেন। মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল গ্যালারি। মোহনবাগান গ্যালারিতে জ্বলে ওঠে হাজার ওয়াটের আলো। এই জয়ের সঙ্গেই আইএসএল লিগ শীর্ষে পৌঁছে গেল হাবাসের দল।
ইস্টবেঙ্গল: প্রভসুখন সিং গিল, লাল চুংনুঙ্গা (পিভি বিষ্ণ), হিজাজি মেহের, নিশু কুমার, আলেকজান্ডার প্যান্টিজ, অজয় ছেত্রী (সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়), সল ক্রেসপো (ফেলিসিও ব্রাউন), সৌভিক চক্রবর্তী (হরমনজ্যোত খাবরা), নাওরেম মহেশ, নন্ধা কুমার, ক্লেটন সিলভা।
মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, শুভাশিস বোস, আনোয়ার আলি, হেক্টর ইউয়েস্তে, মনবীর সিং, লিস্টন কোলাসো (আশিস রাই), জনি কাউকো, অভিষেক সূর্যবংশী, সাহাল আব্দুল সামাদ (আর্মান্দো সাদিকু), জেসন কামিন্স (অনিরুদ্ধ থাপা), দিমিত্রি পেত্রাতোস
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
