Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: শেষ মুহূর্তে যেটা ঘটল সেটা এক অদ্ভুত ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ের ছয় মিনিটেই আসলে লেখা হল খেলার কাহিনী। আর কলকাতা থেকে ৩-২ গোলে জয় নিয়ে ফিরল চেন্নইয়ন। জেতা ম্যাচ হেরে দু’নম্বরেই থেকে গেল মোহনবাগান। হিরো হতে হতে ভিলেন হয়ে গেলেন বিশাল কাইথ। কেন তিনি গোল ছেড়ে মাঝমাঠে পৌঁছে গেলেন তার জবাব তিনিই দিতে পারবেন। কিন্তু সেই সুযোগে ফাঁকা গোলে বল ঠেলে দলের জয় লিখলেন ইরফান। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে দেবজিতের হাত আবারও আটকে দিল মোহনবাগানকে। যার ফল প্রথমার্ধে ১-০ গেলে এগিয়ে থাকা মোহনবাগানকে হারতে হল ৩-২ গোলে।

কলকাতায় আবার ফিরল আইএসএল। মোহনবাগান বনাম চেন্নাই ম্যাচ দেখতে তাই ভিড় জমিয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। তাঁদের সামনে শুরু থেকেই এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। যদিও রবিবার ডাগ আউটে কোচের সিটে ছিলেন না অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস। আগের দিনই প্রি-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে সহকারি কোচ ম্যানুয়েল পেরেজ জানিয়েছিলেন জ্বর হয়েছে হাবাসের তবে তিনি ম্যাচে থাকবেন। কিন্তু তেমনটা না হওয়ায় বোঝাই গেল এখনও মাঠে আসার মতো সুস্থ নন মোহনবাগান কোচ। তবে কোচকে ছাড়া শুরু থেকেই গোলের জন্য ঝাঁপালেন বাগান প্লেয়াররা। কিন্তু শেষটা সত্যিই যেন কোচ হীনতায় ভুগতে দেখা গেল গোটা দলকে।

ম্যাচের ২৯ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জনি কাউকো। তবে গোলের পাশে যতই নাম লেখা হোক জনি কাউকোর এই গোলের আসল কারিগর অবশ্যই লিস্টন কোলাসো। যেভাবে বাঁদিক থেকে বল নিয়ে উঠে বক্সের মধ্যে চেন্নাইয়ন এফসির তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সামনে কাউকোর জন্য বল সাজিয়ে দিলেন তাতে সেখান থেকে গোল করতে না পারলে সেটা অন্যায় হতো।

এর আগে নিজের নামেই গোল লিখে নিতে পারতেন লিস্টন। বাঁ দিক থেকে একইভাবে উঠে গোল লক্ষ্য করেই শট নিয়েছিলেন তিনি। তবে গোলের নিচে যে সেই বাংলার ছেলে, প্রাক্তন মোহনবাগানী দেবজিৎ মজুমদার। সবুজ-মেরুনের গোলের নিচে অনেক সাফল্যের কারিগর তিনি। ম্যাচের শুরুতেই মনবীরের শটও বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন। প্রথমার্ধে চেন্নাই তেমন ভাবে কোনও সুযোগই তৈরি করতে পারেনি। একটাই গোলে শট আটকে যায় বিশালের হাতে।

এই ম্যাচ জিতলে মোহনবাগানের সামনে ছিল শীর্ষে উঠে যাওয়ার সুযোগ। শুরু থেকে সেই লক্ষ্যেই ঝাঁপিয়েছিল দল। যার ফল প্রথমার্ধ শেষ করেছিল ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে। প্রথমার্ধ যেভাবে শেষ করেছিল দ্বিতীয়ার্ধ সেই ছন্দে শুরু করতে পারেনি কলকাতর দল। কিছুটা মন্থর গতিতেই শুরু করল মোহনবাগান। তার মধ্যেই সুযোগ তৈরি করল চেন্নাইয়ন। আবার মোহনবাগান গোলের নিচে সেই বিশাল। এদিন ম্যাচ শুরুর আগে তাঁকে নিয়েই গ্যালারি থেকে ঝুলছিল বিশাল টিফো। সমর্থকদের ভালবাসার মান প্রায় পুরো ম্যাচেই রাখলেন এদিন তিনি। কিন্তু শেষটা ভাল হল না।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য এক আজব ঘটনা ঘটল। ম্যাচের বয়স তখন ৬৬। চেন্নাইয়ন একসঙ্গে তিন জন ফুটবলারকে পরিবর্তন করল। একই সময়ে পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিল মোহনবাগানও। জেসন কামিংসও ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছেন সাইড লাইনে। রেফারি পরিবর্তনের বোর্ডে দেখিয়ে দিয়েছেন ৯৯-এর বদলে মাঠে নামবে ৩৫। ৯৯ মানে আর্মান্দো সাদিকু। তিনিও মাঠ ছাড়ার জন্য বেরিয়েই আসছিলেন ততক্ষণে মত বদল করে ফেলেছেন সহকারি কোচ। কামিংসকে ডেকে আবার বসিয়ে দিলেন রিজার্ভ বেঞ্চে। এর কারণ নিশ্চই সাংবাদিক সম্মেলনে জানা যাবে। পরে যদিও জনি কাউকোর জায়গায় নেমেছিলেন কামিংস।

এর মধ্যেই সমতায় ফিরল চেন্নাইয়ন এফসি। শুধু সমতায় ফিরল না কিছুক্ষণের মধ্যেই দুই গোল করে এগিয়ে গেল মোহনবাগানের থেকে। ৭২ মিনিটে জর্ডন ডেভিডের মোহনবাগান রক্ষণের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সমতায় ফেরানোর আট মিনিটের মধ্যে রায়ান ক্রিস্টোফার কর্নার থেকে গোল করে চেন্নাইয়নকে এগিয়ে দেওয়ার পর মোহনবাগান আবার আক্রমণে জোড় বাড়াল ঠিকই কিন্তু চেন্নাই গোলের নিচে ততক্ষণে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন দেবজিৎ। নিশ্চিত গোলের বলও আটকে গেল তাঁর হাতে।

উল্টোদিকে মোহনবাগান গোলের নিচে বিশাল নিশ্চিত গোল না বাঁচালে ব্যবধান আরও বাড়তে পারত। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফিরল মোহনবাগান। গোল করলেন দিমিত্রি। কিন্তু শীর্ষে ওঠা হল না। হল না জয় পাওয়াও। কারণ অতিরিক্ত সময়ের ছয় মিনিটেই বদলে গেল সব হিসেব। যদিও হিসেব বদলের ইঙ্গিত দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই পাওয়া গিয়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত সত্যি প্রমানিত হল।

মোহনবাগান: বিশাল কাইথ, আনোয়ার আলি, দীপক টাংরি (অনিরুদ্ধ থাপা), হেক্টর ইউয়েস্তে, শুভাশিস বোস, মনবীর সিং, জনি কাউকো (জেসন কামিংস), অভিষেক সূর্যবংশী, লিস্টন কোলাসো (কিয়ান নাসিরি), আর্মান্দো সাদিকু, দিমিত্রি পেত্রাতোস।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *