ছবি: এআইএফএফ
তাজিকিস্তান ৩ (শেরিদ্দিন, কারিমভ এহসোনি) ভারত ১ (ফারুক)
মুনাল চট্টোপাধ্যায়: হেরেই চলেছে ভারতীয় ফুটবল দল। বলতে গেলে হারের হ্যাটট্রিক করে ফেলল খালিদ জামিলের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ভারত। এর আগে ইউনিটি কাপে জামাইকা ও জিম্বাবোয়ের কাছে হেরেছিল। শুক্রবার তুরসুনজোদার টেলকো এরিনায় তাজিকিস্তানের কাছে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ১-৩ গোলে লজ্জাজনক হারের মুখ দেখল ভারতীয় ফুটবল দল। অথচ এই তাজিকিস্তানকেই ২০২৫য়ে কাফা নেশনস কাপে ২-১ গোলে হারিয়েছিল তারা।
ইউনিটি কাপে ভারতীয় ফুটবল দলের ব্যর্থতার জন্য কোচ খালিদ জামিলের সাফাই দেওয়ার সুযোগ ছিল। তিনি বলতেই পারতেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের ফুটবলারদের না পাওয়াতে তাঁর পরিকল্পনা মার খেয়েছে। মোহনবাগান কর্তারা ইউনিটি কাপের জন্য তার ফুটবলারদের ছাড়েননি ওই টুর্নামেন্ট ফিফা উইন্ডোর অন্তর্ভুক্ত নয় এই যুক্তিতে। কিন্তু তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে দুটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য খালিদ এবার চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়ার মতো মোহনবাগান ফুটবলারদের ডাকেননি। বিশেষ করে যখন রায়ান উইলিয়ামস, আনোয়ার আলির মতো ফুটবলার চোটের জন্য ভারতীয় দলে ছিলেন না। মোহনবাগান ফুটবলারদের জেদ ছেড়ে তাজিকিস্তান ম্যাচের জন্য ডাকলে এভাবে ভারতীয় দলকে হারতে হত বলে মনে হয় না।
আর তার ফল ভুগতে হল ভারতীয় দলকে। সার্বিয়ান কোচ গোরান স্টেভানোভিচের জায়গায় নতুন দায়িত্বে এসে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে জয় তুলে নিলেন ইগর অ্যাঞ্জেলভস্কি। শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলে ভারতীয় রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় তাজিকিস্তান। ৬ মিনিটের মাথায় ভারতের লুইস নিকসন বক্সের মাঝে প্রতিপক্ষ ফুটবলারকে ফাউনল করলে পেনাল্টি পায় তাজিকিস্তান। ৯ মিনিটে গোলকিপার গুরপ্রীতকে উল্টোদিকে ফেলে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন শেরিদ্দিন।
গোল শোধে এরপর একটা মরিয়া চেষ্টা চালিয়েছিল ভারত, দুই উইংয়ে ছাংতে ও বিক্রমপ্রতাপ আক্রমণে উঠে। এডমুন্ডও গতি ও দক্ষতার মিশ্রণ ঘটিয়ে তাজিকিস্তান রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু তাঁরা কেউই গোলের মুখে খুলতে পারেননি। তবে ৩৯ মিনিটে সমতা ফেরানোর জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল ভারত প্রথমবার। আকাশ মিশ্রর ক্রশে এডমুন্ডের হেড ক্রশপিসে লেগে ফেরায় সমতা ফেরানো সম্ভব হয়নি।
বিরতির পর তাজিকিস্তান ভারতীয় দলের ওপর আরও জাঁকিয়ে বসে। ৬২ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়েও যায়। ফ্রিকিকে ভেসে আসা বলে দর্শনীয় হেডে গোল করে ২-০ করেন কারিমভ। ৬৮ মিনিটে তিন নম্বর গোল পায় তাজিকিস্তান। আলিজন ডানপ্রান্ত ধরে বল নিয়ে উঠে মাটি ঘেঁষা পাস বাড়ালে, এহসোনি নীচু শটে গোল করেন। এরপরই ছাংতে ও নিকসনকে তুলে নেন কোচ খালিদ। নামান ফারুক ও সানানকে। এঁরা আসার পর ভারতীয় আক্রমণের ঝাঁজ কিছুটা বেড়েছিল। একইসঙ্গে ৩ গোলে এগিয়ে থাকায় তাজিকিস্তানের খেলায় একটা আলগা ভাব নজরে আসে।
দলের বাকি ফুটবলারদের সুযোগ দিতে দলে বদল আনেন কোচ খালিদ। গোলকিপার গুরপ্রীতের পরিবর্ত হিসেবে নামান আলবিনো গোমসকে। ৮৭ মিনিটে এডমুন্ডকে আটকাতে গিয়ে বক্সের মাথায় ফাউল করেন তাজিকিস্তানের রহমাতশ। ফ্রিকিক পায় ভারত। সেই ফ্রিকিক থেকে ৮৯ মিনিটে গোল করেন ফারুক। সেই সান্ত্বনা গোলের সুবাদে ভারত হারের ব্যবধান কমায়। ম্যাচ শেষ হয় তাজিকিস্তানের পক্ষে ৩-১ ফলে।
ভারতীয় দল ৯ জুন হিসোর সেন্ট্রাল স্টেডিয়ামে আবার মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে। প্রথম ম্যাচে হারের বদলা নিতে খালিদ জামিলের দলকে খেলায় অনেক উন্নতি ঘটাতে হবে।
ভারত: গুরপ্রীত(আলবিনো), আকাশ , সন্দেশ(বিজয়), বেকে( পরমবীর), নিখিল পূজারি(নিখিল বারলা), নিকসন(ফারুক), ছাংতে( সানান), জিকসন(পার্থিব), রিকি, এডমুন্ড, বিক্রমপ্রতাপ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
