সুচরিতা সেন চৌধুরী: ইস্টবেঙ্গলের কাছে সব ম্যাচই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এখনও বেঁচে নকআউটের স্বপ্ন। তাই একটা একটা করে ম্যাচ ধরে ধরে এগিয়ে যাওয়াই ছিল লক্ষ্য ছিল কোচের। সেই লক্ষ্যের আরও একটিতে সাফল্য চলে এল। প্রথমার্ধে ক্রেসপো আর দ্বিতীয়ার্ধে ক্লেটন, দুই বিদেশির গোলেই বাজিমাত। একটা করে জয় আর একধাপ করে এগিয়ে যাওয়া। সঙ্গে মানসিকভাবেও অনেকটা এগিয়ে থাকা। এখনও শেষ হয়নি লিগ পর্ব। শেষ মুহূর্তে এসে পৌঁছেছে আইএসএল ২০২৩-২৪-এর লিগ পর্ব। সেরা ছয়ের লড়াইয়ে এক সঙ্গে একাধিক দল। সব ম্যাচ জিতলেই ইস্টবেঙ্গলকে তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের দিকে। তাই কোচ কুয়াদ্রাত চান শুধু জয়।
রবিবার ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচ খেলতে নেমেছিল ইস্টবেঙ্গল। প্রতিপক্ষ কঠিন বেঙ্গালুরু এফসি। যেই ম্যাচে শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। শুরুতে আক্রমণটা শুরু করেছিল বেঙ্গালুরু এফসিই। ১৩ মিনিটে মাথায় শিবা শক্তির শট অল্পের জন্য গোল মস করে। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে ফ্রি কিক থেকে হিজাজির হেড অল্পের জন্য বাইরে যায়। শেষ পর্যন্ত সুবর্ণ সুযোগটি আসে ম্যাচের ১৭ মিনিটে। বক্সের মধ্যে নাওরেম মহেশকে ফাউল করে বসেন ফানাই। নিশ্চিতভাবে পেনাল্ট দেন রেফারি। স্পট কিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি সল ক্রেসপো।
এদিন বেঙ্গালুরু এফসির প্রথম দলে ছিলেন না সুনীল ছেত্রী। দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে মাঠে নামান কোচ। তিনি নামতেই ভাগ্য ফেরে বেঙ্গালুরুর। এর আগেই প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেন দুই দলের ফুটবলাররা। ভিক্টর ভাজকুয়েজের ফ্রি কিক থেকে সৌভিকের হেড প্রায় গোলের গা ঘেঁষে চলে যায় বাইরে। বেঙ্গালুরুও বেশ কয়েকবার ইস্টবেঙ্গল বক্সে হানা দিয়ে লাল-হলু রক্ষণ থেকে গোলকিপারকে ব্যস্ত থাকতে বাধ্য করে। কিন্ত প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলেই। এগিয়ে থেকেই দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নামে ইস্টবেঙ্গল এফসি।
কিন্তু। তখন মাঠে যে সুনীল ছেত্রী। আর যাই হোক না কেন তিনি ভারতীয় ফুটবলের আইকন। তাঁর পায়ে এখনও বল পড়লে প্রতিপক্ষ রক্ষণকে ভাবতে হয়। এই ম্যাচেও সেটই প্রমান হয়ে গেল আর একবার। তিনি নামলেন দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে। আর গোল করলেন ৬০ মিনিটে। গোলমুখি শটটা নিয়েছিলেন সুনীলই। তবে তা খাবরার হাতে লেগে বাইরে চলে যায়। বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল হওয়ায় পেনাল্টি পায় বেঙ্গালুরু। গোল করতে ভুল করেননি সুনীল। সমতায় ফেরে বেঙ্গালুরু। গোল হজম কর আবার মুখিয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল। মাঝে কিছুটা খেলার গতিতে শিথিলতা এসেছিল। কিন্তু যেভাবে রক্ষণ থেকে বাঁ দিকের প্রান্ত ধরে উঠে এসে বক্সের মধ্যে মাপা বল রাখলেন নিশু কুমার তাতে তাঁর ১০১ ম্যাচের অভিজ্ঞতাকে কুর্নিশ জানাবেন ইস্টবেঙ্গল ভক্তরা। সেখান থেকে ক্লেটনের মাথার হালকা টোকাতেই খুলে গেল গোলের মুখ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেঙ্গালুরুতে সুনীল নামার পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলে একটা ছোট্ট পরিবর্তন করলেন কার্লেস কুয়াদ্রাত। বিষ্ণুর জায়গায় নিয়ে সায়নকে। এই দুই উঠতি ফুটবলারকে নিয়মিত ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলার সুযোগ দিচ্ছেন তিনি। বার বারই বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে তৈরি রাখতে হবে। শুধু যে তিনি বলছেন তেমনটা নয়, যেটা বলছেন সেটাই যে করছেন তার বড় প্রমান সায়ন, বিষ্ণুদের নিয়মিত আইএসএল-এর ম্যাচ খেলাটাই। সম্প্রতি জুনিয়র দল থেকে আরও কয়েকজন ফুটবলারকে আইএসএল-এ সই করিয়েছেন তিনি। সেই মহিতোষ রায় আর শ্যমল বেসরাকেও বেঙ্গালুরু ম্যাচে রিজার্ভে রেখেছিলেন তিনি। তবে শেষ বেলায় যেভাবে গোল মিসের প্রদর্শন দেখা গেল ইস্টবেঙ্গলের তা নিশ্চিত ভাবাবে কার্লেস কুয়াদ্রাতকে।
ইস্টবেঙ্গল এফসি: প্রভসুখন সিং গিল, মহম্মদ রাকিপ, হরমনজ্যোত সিং খাবরা (অমন সিকে), হিজাজি মেহের, নিশু কুমার, পিভি বিষ্ণু (সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়), ভিক্টর ভাজকুয়েজ (অ্যালেকজান্ডার প্যান্টিচ), সল ক্রেসপো, সৌভিক চক্রবর্তী, নাওরেম মহেশ (লাল চুংনুঙ্গা), ক্লেটন সিলভা (ফেলিসিও ব্রাউন)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
