Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

সুচরিতা সেন চৌধুরী: এদিন সকাল থেকেই পরিবেশটা বেশ গুমোট। গরমের সঙ্গে ঘাম। বছরের শেষ সূর্য যখন পশ্চিমাকাশে অস্ত যাচ্ছে তখনও গঙ্গার হাওয়া ছুঁয়ে যায়নি ইডেন গার্ডেন্সের সবুজ মাঠকে। শোনা যায় গঙ্গার হাওয়ায় বলের গতি সময়ের সঙ্গে বদলে যায়। তবে এদিন যেন সব স্তব্ধ। শুধু একদল বেগুনি মেঘ রবিবারের দুপুরে ঝড় তোলার অপেক্ষায়। নেটের গায়ে সপাটে আসা বলগুলোতেও যেন লেখা রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত। ততক্ষণে অনুশীলন শেষ করে গোল টেবল বৈঠকে বসে পড়েছেন দলের মেন্টর, কোচ, অধিনায়ক-সহ মূল দলের প্লেয়াররা। না সেখানে স্টার্ক ছিলেন না ঠিকই তবে তিনি খেলবেন না তেমনটা নয়, গম্ভীরের কথা অনুযায়ী। রাসেলকেও যেন কিছুটা বিচ্ছিন্ন লাগল। ইডেনের মাঠে খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় বসে থাকতে দেখা গেল পুরো দলকে। সঙ্গে কথপোকথন তো ছিলই। যার প্রতিফলন হয়তো নতুন বছরের প্রথম দুপুরে দেখা যাবে।

দু‘দিন আগেই শহরে পৌঁছে গিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। আইপিএল ২০২৪-এর প্রথম ম্যাচ ঘরের মাঠে হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন শ্রেয়াস আইয়াররা। পর পর তিনটি অ্যাওয়ে ম্যাচের দুটোতে জিতে শেষ ম্যাচ হেরেই শহরে পা রেখেছিল কলকাতা। বেঙ্গালুরু, দিল্লির বিরুদ্ধে জয়ের পর চেন্নাইয়ের কাছে হার মানতে হয় কেকেআর-কে। তবে সেই হার নিয়ে যে তারা বসে নেই তা তাদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজেই পরিষ্কার। কলকাতায় আসার পর থেকে দু‘দি‌ন অনুশীলনে নামেনি দল। রবিবার ম্যাচের আগের দিন শনিবার প্রায় দু‘ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলল অনুশীলন।

তার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে যোগ দিলেন দলের মেন্টর গৌতম গম্ভীর। ঘরের মাঠে পর পর পাঁচটি ম্যাচ খেলতে হবে কলকাতাকে। ঘরের মাঠে ম্যাচে সব সময়ই হোম টিমের জন্য সুখকর। চেনা মাঠ, চেনা দর্শক সব মিলে মোটিভেশনটা অনেকটাই বেরে যায়। তবে গৌতম গম্ভীর এত দূর ভাবতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে ঘরের মাঠে খেলাটা সব সময়ই অন্য অনুভূতি. দলের জন্য ভাল। তবে পাঁচ ম্যাচ নিয়ে আমি ভাবতে চাইছি না। আপাতত একটি করে ম্যাচ নিয়েই এগোতে চাই।’’

তিনি যে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে তা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বোঝা গেল। সাংবাদিক সম্মলনের শেষে সাংবাদিকদের জন্য আনা কেকেআর-এর তরফে পয়লা বৈশাখের মিষ্টি খাওয়ার অনুরোধ করলেন তাঁর নিজের ঢঙেই। আর অনুশীলন শেষে ফ্যানদের অটোগ্রাফের পাশাপাশি টুপি ছুঁড়ে দিলেন তাদের উদ্দেশে। তবে অন্য দল নয় নিজের দল নিয়েই ভাবতে আগ্রহী তিনি। যেমন লখনউ দলে যেমন মায়াঙ্ক যাদবে না থাকাকে কেকেআর-এর জন্য সুবিধে মনে করতে নারাজ তেমনই লখনউ দলের সঙ্গে থাকার সুবাদে সেই দলকে আলাদা করে জানা নিয়েও তিনি উচ্ছ্বসিত নন। বরং বলছেন, ‘‘আমি মনে করি আমাদের প্রতিপক্ষ সেরা দল অআমাদের বিরুদ্ধে নামাবে আর আমরা তার মোকাবিলা করব ততটাই শক্তিশালী হয়ে। আর এখানে আমরা সবাই সবাইকে জানি, চিনি। সেটা কোনও বাড়তি সুবিধে নয়। আমি যতটা ওদের চিনি ওরাও আমাকে চেনে।’’

দলের সাফল্য ব্যর্থতা যাই থাকুক না কেন কোনও দলই যে পারফেক্ট নয় সেটা মেনে নিচ্ছেন তিনি। তাই দলের কোন কোন দিকের উন্নতি করার প্রসঙ্গে তিনি এক কথায় বলে দেন অনেক দিকের উন্নতি করতে হবে। তবে ফিল সল্টের রান না পাওয়া নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন তিনি। দলের ওপেনিং পার্টনারশিপে যে কোনও পরিবর্তন আসবে না সেটাও পরিষ্কার করে বলে দিলেন তিনি। বরং দলের ওপেনিং পার্টনারশিপ নিয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি।

গৌতম গম্ভীর বলছিলেন, ‘‘দেখতে হবে টিম কেমন খেলছে এটা টিম গেম। সেটা ফিল সল্ট হোক বা মিচেল স্টার্ক। চার ম্যাচের মধ্যে আমরা তিনটিতেই জিতেছি। সেটাই আসল। আমাদের ওপেনিং জুটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, প্রশংসা হচ্ছে। আমি মনে করি মিচেল স্টার্কও নিজের সেরাটাই দিচ্ছে।’’ পাশাপাশি দলের ইয়ংস্টারদের কীভাবে তিনি মোটিভেট করেন সেটাও জানিয়েছেন। তিনি তাঁদের প্রতিভাকেই তুলে ধরার কথা বলেন সঙ্গে সামনের স্বপ্নটাকে উসকে দিয়ে। সঙ্গে একটা নিরাপদ ড্রেসিংরুম দেওয়া। নিজের উপর বিশ্বাস রাখা। তিনি বলেন, ‘‘নিরাপদ ড্রেসিংরুম, হ্যাপি ড্রেসিং রুম এবং হ্যাপি ড্রেসিংরুম মানে সফল ড্রেসিংরুম।’’

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *