ছবি: আইএসএল
অলস্পোর্ট ডেস্ক: এ এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। যে দেশের সঙ্গে প্রবল যুদ্ধ চলছে ইরানের, সেই আমেরিকার মাটিতেই ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলতে হচ্ছে ইরানের ফুটবল দলকে। আর এনিয়ে প্রচুর জলঘোলা হয়েছে। ইরান একটা সময় পর্যন্ত আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে চায়নি, আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে তাদের দেশের অসংখ্য আবাল বৃদ্ধ বনিতার প্রাণ চলে যাওয়ায়। বারবার তারা ফিফার কাছে আবেদন করেছিল, তাদের ম্যাচ আমেরিকার বদলে মেক্সিকোতে দেওয়ার জন্য। কিন্তু ফিফা সে আবেদনে সাড়া দেয়নি। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে আমেরিকাতেই যেতে হবে ইরানের ফুটবলারদের।
আমেরিকা-ইজরায়েলের যৌথ হানার কবলে পড়ে ইরান ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতির কথা বলা হলেও, সব তরফেই চোরাগোপ্তা আক্রমণ চলছে। এতে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এতটুকু কমেনি। তাতে আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলাটা ইরানের ফুটবলারদের কাছে রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং। চাপে আছে আমেরিকাও। কারণ ইরানের ফুটবলারদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে না পারলে, গোটা বিশ্বের কাছে তাদের মুখ পুড়বে।
এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির জন্য ইরানের ফুটবলার ও কোচিং স্টাফেদের কাছে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ভীষণভাবেই মার খেয়েছে। ইরান ফুটবল দল দু’সপ্তাহের বেশি তুরস্কে কাটিয়েছে প্রস্তুতির অঙ্গ হিসেবে। ফুটবলারদের অধিকাংশই অনুশীলন করেছে আনটালিয়ার কোস্টাল রিসর্টে। কাউকে কাউকে আবার ছুটতে হয়েছে আঙ্কারায় আমেরিকা দুতাবাসে ভিসার আবেদন জমা করতে। সবচেয়ে বড় কথা, ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের ফুটবলারদের খেলা এখনও ঝুলে আছে ভিসা সমস্যার সমাধান এখনও না হওয়ায়।
আর একারণেই ইরানের ২৯ বছর বয়সী মিডফিল্ডার সায়িদ এজাতোলাহির মুখে খানিকটা উদ্বেগের সুর। এর আগে ইরানের জার্সিতে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে খেলেছেন তিনি। তাঁর মতে, ‘ সত্যি বলতে কী এইধরনের পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ খেলাটা মোটেই সহজ নয়। এটা আমার তৃতীয় বিশ্বকাপ। আমার বা আগে যারা বিশ্বকাপ খেলেছে, তাদের পক্ষে এই ধরনের পরিস্থিতির সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও, যারা নতুন তাদের পক্ষে যথেষ্ট কঠিন ভাল খেলা খোলামনে আমেরিকার মাঠে গিয়ে। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের কাছে দেশের যুদ্ধের খবর আসছে। দেশের মানুষের প্রাণহানি ও সম্পত্তির বিনাশের খবর বিচলিত করছে। এটা আমাদের মনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সেটা সামলে সেরা দেওয়া সত্যি কঠিন।’
আঙ্কারার মেক্সিকান দূতাবাসের থেকে ভিসা মিললেই মেক্সিকোর বেস ক্যাম্পে রওনা দেবে ইরানের ফুটবল দল। ভিসার কাগজপত্র অবশ্য ইতিমধ্যেই জমা পড়ে গেছে। ভিসা পেতে সুবিধার জন্য ইরানকে তাদের ট্রেণিং বেস ক্যাম্প আরিজোনার টাসকোন থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ও মেক্সিকোর সীমান্ত শহর তিজুয়ানাতে নিয়ে যেতে হচ্ছে।
ইরান বিশ্বকাপে তাদের প্রথম দু’টি ম্যাচ খেলবে লস এঞ্জেলসে। এখানে ইরানের একটা বড় সংখ্যার মানুষের বাস আছে। তারা আমেরিকার বর্তমান সরকারের আগ্রাসী মনোভাবের বিপক্ষে। এজাতোলাহির মতে, ‘ এটা আমাদের জন্য বাড়তি সুবিধা। আমেরিকার মাঠে খেলা হলেও, বিপুল সংখ্যক ইরানের মানুষ স্টেডিয়ামে আসবে আমাদের সমর্থন জানাতে। একইসঙ্গে কিছুটা হলেও এটা আমাদের কাছে চাপের। কারণ আমাদের সমর্থকদের মধ্যে একটা বাড়তি প্রত্যাশা থাকবে। ওরা চাইবে, আমরা যেন ইরানের মানুষের সম্মান বজায় রাখতে পারি, ওদের গর্বিত করতে পারি ভাল খেলে, প্রমাণ করতে পারি যুদ্ধের আবহের মাঝেও ইরান রণভূমি থেকে বিশ্বকাপের ময়দানে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াইয়ের ক্ষমতা রাখে।’
২৪ বছর বয়সী মহম্মদ ঘোরবাণীর কাছে এটা প্রথম বিশ্বকাপ। বলেন, ‘ সত্যি এটা একটা অন্যরকম পরিস্থিতি। কিন্তু আমরা ফুটবলার। আমাদের প্র্যাকটিস করতে হবে, খেলতেও হবে মাঠে নেমে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো একটা বড় মঞ্চে সেরা দেওয়ার কথা মাথায় রেখে। একইসঙ্গে এটাও সত্যি আমাদের দেশের মানুষকে যুদ্ধের কারণে কী সহনীয় অবস্থার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। আর ওদের কথা ভেবেই বিশ্বকাপে যাব আমরা, ভাল খেলে দেশের মানুষের মনে কিছুটা হলেও আনন্দ দিতে। মনের কষ্ট লাঘব করতে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
