অলস্পোর্ট ডেস্ক: তিনি চিরকালই অবাধ্য। নিজের মর্জির মালিক। কখনও অংশ নেন না দলের ব্যাটিং মিটিংয়ে। তাই মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে কোচ, অধিনায়কসহ টিম ম্যানেজমেন্ট। কারণ তিন মাঠে নেমে তাঁর সেরাটা দেন সব কিছুর পর। আর সেটাই চায যে কোনও দল। কিন্তু এ হেন নিজের মর্জির মালিককে যদি অন্য কারও ভুলে আউট হয়ে ফিরতে হয় তাহলে যে তিনি কী প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন তা আগাম ধারণা করার উপায় নেই তাঁর খুব কাছের সতীর্থরও। তিনি আন্দ্রে রাসেল। নেমেই ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন, দুই বলে সাত রান করে রান আউট হয়ে ফিরতে হল তাও ভেঙ্কটেশ আইয়ারের ভুলে। কিন্তু দল যখন ১২ বছরের গাঁট পেরিয়ে জয়ের মুখ দেখে তখন হয়তো এই সব অভিমান উচ্ছ্বাসে হারিয়ে যায়।
১৭ ওভারের শেষ বলের ঘটনা। ব্যাট করেই কল করেছিলেন রাসেল। তাঁর ডাকে সারা দিয়ে বেরিয়ে এসেও বল বেশি দূরে যায়নি দেখে নিজের জায়গায় ফিরে যান ভেঙ্কটেশ আইয়ার। কিন্তু ততক্ষণে দৌঁড়ে প্রায় উল্টোদিকে পৌঁছে গিয়েছেন রাসেল। ভেঙ্কটেশকে ফিরে যেতে দেখে তিনিও নিজের জায়গায় ফেরার চেষ্টা করেন কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেড়ি হয়ে গিয়েছে। উইকেট ছিটকে দিয়েছেন হার্দিক পাণ্ড্যে। ফিল্ড আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের থেকে জবাব পাওয়ার আগেই ডাগআউট দিকে রওনা দিয়ে দেন রাসেল। ড্রেসিংরুমে ফিরতে ফিরতে নিজের ক্ষোভকে নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। ব্যাটটা তুলেও ছিলেন কিন্তু নিজেকে শেষ পর্যন্ত সামলে নেন।
এদিন অবশ্য কলকাতাক সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে যান ভেঙ্কটেশ আইয়ারই। দারুণ ছন্দে রয়েছেন তিনি। তিনি নামার আগে একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল কেকেআর ১০০ রানের গণ্ডি পেরতে পারবেন কিনা। কারণ দুই ওপেনার ফিল সল্ট ৫ ও সুনীল নারিন ৮ রান করে ফিরে গিয়েছেন শুরুতেই। তিন ও চার নম্বরে নামা অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ১৩ ও অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ৬ রান করে ফিরে যান। এর পর পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে নামেন ভেঙ্কটেশ। ছয় নম্বরে নামা রিঙ্কু সিং ফেরেন মাত্র ৯ রান করে। যাঁকে না খেলানো নিয়ে প্রভূত সমালোচনা হচ্ছে।
এর পর ভেঙ্কটেশের সঙ্গে ব্যাট হাতে দলকে ভরসা দেন মণীশ পাণ্ডে। এই মরসুমে তিনি তেমনভাবে খেলার সুযোগ পাননি। কিন্তু এদিন তাঁর কঠিন সময়ের ব্যাটিং পরের ম্যাচে তাঁকে রাখতে বাধ্য করবে নিশ্চিত। ৫২ বলে ৬টি বাউন্ডারি ও ৩টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৭০ রান করেন ভেঙ্কটেশ। ৩১ বলে ৪২ রান করে মণীশ। এছাড়া রমনদীপ সিং ২, মিচেল স্টার্ক কোনও রান না করে আউট হন। ৫ উইকেটে ৫৭ থেকে কলকাতার ষষ্ঠ উইকেট পড়ে ১৪০ রানে। ১৯.৫ ওভারে কেকেআর শেষ করে ১৬৯-১০-এ।
মুম্বইয়ের হয়ে তিনটি করে উইকেট নেন নুয়ান থুসারা ও যশপ্রীত বুমরাহ। দুই উইকেট নেন হার্দিক পাণ্ড্যে। এক উইকেট পীযুশ চাওলার। ১৭০ রানের লক্ষ্যে নেমে শুরুটা মোটেও ভাল হয়নি। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের।। দলের প্রথম তিন ব্যাটার ঈশান কিষান ১৩, রোহিত শর্মা ১১, নমন ধীর ১১ রান করে আউট হয়ে যান। এখান থেকেই মুম্বই ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন সূর্যকুমার যাদব। ৩৫ বলে ৬টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫৬ রান করেন তিনি। সল্টের অসাধারণ ক্যাচে ফিরতে হয় তাঁকে।
এছাড়া তিলক ভর্মা ৪, নেহাল ওয়াধেরা ৬, হার্দিক পাণ্ড্যে ১ রান করে আউট হয়ে যান। যখন মুম্বইয়ের ঘরে হারের আশঙ্কা তখনই ঝোড়ো ইনিংসের ইঙ্গিত দেন টিম দাভিদ। কিন্তু বাউন্ডারিতে শ্রেয়াসের দুরন্ত ক্যাচে ২০ বলে ২৪ রান করে ফেরেন তিনি। পরের বলেই খাতা না খুলেই ফেরেন পীযুশ চাওলা। মিচেল স্টার্ক তুলে নেন ৪ উইকেট। একই ওভারে নেন তিন উইকেট। জেরাল্ড কোয়েতজে ফেরেন ৮ রানে। ১৮.৫ ওভারে ১৪৫ রানে অলআউট হয়ে যায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কলকাতার হয়ে দুটো করে উইকেট নেন বরুণ চক্রবর্থী, সুনীল নারিন ও আন্দ্রে রাসেল। সাত বল বাকি থাকতে ২৪ রানে ম্যাচ জিতে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার থেকেও বড় প্রাপ্তি ১২ বছর পর ওয়াংখেড়ের মাটিতে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে জয়ের মুখ দেখল কলকাতা। ২০১২-র পর ২০২৪।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
