অলস্পোর্ট ডেস্ক: এ এক অদ্ভূত পরিস্থিতি। ডুরান্ড কাপের সূচি প্রকাশ করেছে টুর্নামেন্ট কমিটি, তাতে মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে রেখে। অথচ সেটা করেছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কর্তৃপক্ষের সম্মতি ছাড়াই। এতে বাগানের খেলা নিয়ে জট পাকাতে পারে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, মোহনবাগানের তরফে ডুরান্ড কমিটির কাছে ৪ শর্ত সম্বলিত চিঠি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনও উত্তর এখনও আসেনি সবুজ মেরুনের কাছে। এটাতে আরও বেশি অসন্তুষ্ট বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট। তারা মনে করে, সেনাবাহিনী কর্তৃপক্ষে, যারা ডুরান্ড কাপের আয়োজক, তাদের উচিত ছিল চিঠির উত্তর দিয়ে সামান্যতম সৌজন্যবোধ দেখানো। এটা না করায়, রীতিমতো বেঁকে বসেছে মোহনবাগান ডুরান্ডে অংশগ্রহণ নিয়ে। গোঁ ধরে বসে আছে, যতক্ষণ না তাদের পাঠানো চিঠির উত্তর আসছে, ততক্ষণ পর্যন্ত তারা ডুরান্ডে খেলার সম্মতি দেবে না। এখন মোহনবাগানকে যদি খেলাতেই হয়, তাহলে ডুরান্ড কমিটিকে নমনীয় মনোভাব দেখাতেই হবে। শর্তের অন্যতম, মোহনবাগানের টিকিটের দাবি মানতে হবে। প্র্যাকটিস মাঠের ব্যবস্থা করতে হবে।
ডুরান্ড নিয়ে এই ডামাডোলের মাঝে কলকাতা প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে যুব দলের অনুশীলনে কোনওরকম শিথিলতা দেখাচ্ছে না মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ১৯ জুলাই সিএফএল ডার্বির কথা মাথায় রেখে। গত মরশুমে সিএফএল ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের জ্বালা গায়ে লেগে আছে। তাই এবার ডার্বি জিততে মরিয়া তারা। যুব দলকে শক্তিশালী করতে আইএসএলে খেলা সিনিয়র দলের কয়েকজন ফুটবলারকে খেলানোর পরিকল্পনা নিয়েছে বাগান থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। দলে ভূমিপুত্রের সংখ্যা বাড়ানোটাও জরুরি। সেই লক্ষ্যপূরণে তারা দীপেন্দু বিশ্বাস, সদ্য চুক্তি হওয়া কিয়ান নাসিরিকে লিগে খেলাতে চায়। বুধবার থেকে মোহনবাগান যুব দলের সঙ্গে রাজারহাট সেন্টার অফ এক্সেলেন্সের মাঠে অনুশীলনে নেমে পড়েছেন দীপেন্দু। বৃহস্পতিবার নাামবেন কিয়ান। সুহেল ও গ্লেন নামবেন ১৬ জুলাইয়ের পর।
এদিকে, কলকাতা ফুটবল লিগের ম্যাচের সূচীতে সিকোয়েন্স বজায় রাখার জন্য আইএফএকে চিঠি দিয়েছে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। বৃষ্টির জন্য ইস্টবেঙ্গল ও বিএসএসের মধ্যে ম্যাচটি ভেস্তে যায়। স্বাভাবিকভাবে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচটি আগে দেওয়া জরুরি, অন্য ম্যাচের আগে জায়গা বুঝে। সেটাই উল্লেখ করেছে মোহনবাগান তাদের চিঠিতে। ১৯ জুলাই ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে লাল হলুদের ভেস্তে যাওয়া ম্যাচটা কেন দেওয়া হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সবুজ মেরুন শিবির। বর্তমান সূচী অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গল-বিএসএস ম্যাচটি আগে সিকোয়েন্স মেনে না দিলে, ডার্বির আগে মোহনবাগান যেখানে ৫ ম্যাচ খেলে ফেলবে, সেখানে ইস্টবেঙ্গল খেলবে ৪ ম্যাচ। এটা নিয়েই আপত্তি বাগানের।
মোহনবাগান সিনিয়র দলের প্রিসিজন অনুশীলন শুরু নিয়ে ধোঁয়াশাও অব্যাহত। তার প্রধান কারণ, আইএসএল কবে শুরু হবে, সেটাই এখনও জানে না কেউ। ১৪ জুলাইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট খুললে তাদের নির্দেশের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে সকলে। ফেডারেশনের সংবিধান সংশোধন করে নতুন কী দিক নির্দেশ করে দেশের শীর্ষ আদালত, সেটা এখন দেখার। ভারতীয় ফুটবলের রোড ম্যাপের পাশাপাশি ফেডারেশন ও এফএসডিএলের মাঝে মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্ট কী দাঁড়াবে, সেটাও এখন কোটি টাকার প্রশ্ন। এটা যতক্ষণ না পরিষ্কার হচ্ছে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট সহ আইএসএলের সব দলের প্রিসিজন প্র্যাকটিস থমকে থাকছে ততক্ষণ পর্যন্ত। এটা জানার পরই সুপার জায়ান্টের চিফ কোচ হোসে মোলিনা সিনিয়র দলের অনুশীলন শুরুর সংকেত দেবেন। তবে শেষপর্যন্ত ডুরান্ড কমিটির সঙ্গে তৈরি হওয়া জট ছাড়িয়ে মোহনবাগান খেললে, মোলিনা প্রিসিজন প্র্যাকটিসের দিন কিছুটা হলেও এগিয়ে আনতে পারেন, ডুরান্ডে সম্মানজনক ফল করতে। একইসঙ্গে মোলিনাকে মাথায় রাখতে হচ্ছে, তাঁর দলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-তে খেলার কথাটাও।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
