মুনাল চট্টোপাধ্যায়: ডুরান্ড কাপে গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে সোমবার বিএসএফের বিরুদ্ধে কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনের মাঠে খেলতে হবে, জানতেন না মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের চিফ কোচ হোসে মোলিনা। প্রচারমাধ্যমের প্রশ্নে মিডিয়া কর্ডিনেটরের পাশে বসে প্রথমবার এমন একটা মাঠের নাম শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন। বলেন, ‘ সল্টলেক স্টেডিয়ামে খেলা নয়? আমি তো তাই জানতাম।’ তারপরই নিজেকে সামলে নিয়ে মোলিনার প্রতিক্রিয়া, ‘ কোন মাঠে খেলা , সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিশোর ভারতীর মাঠ না দেখলেও কিছু এসে যায় না। যেখানেই খেলা হোক, ভাল খেলতে, ম্যাচ জিততে মাঠে নামবে ফুটবলাররা।’
প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে নতুন মরশুমের প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনে মোলিনা বারবার বুঝিয়ে দিলেন, তিনি ও তাঁর ফুটবলাররা এবার আরও বেশি ফোকাসড ডুরান্ড কাপ জয়ের লক্ষ্যে। চ্যাম্পিয়ন হওয়া ছাড়া আর কিছুই যে ভাবছেন না, এটা বুঝতে অসুবিধা হয়নি মোলিনার পেশাদারি মনোভাবে। বৃহস্পতিবার রাতে কলকাতায় পা দিয়ে শুক্রবার থেকে ডুরান্ড জয়ের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন, এতটুকু সময় নষ্ট না করে। এবার প্রত্যাশার চাপ কি আরও বেশি থাকবে, এই প্রশ্নে মোলিনা বলেই দিলেন, ‘ গত মরশুমে যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে দল, অসংখ্য রেকর্ড গড়েছে, তা রেকর্ড বইয়ে চিরকাল থেকে যাবে। কিন্তু ওটা এখন অতীত। এটা নতুন মরশুম। নতুনভাবে সবকিছু শুরু করতে হবে। আইএসএল কবে শুরু হবে জানা নেই। তাই আপাতত লক্ষ্য ডুরান্ড কাপ জেতা। গতমরশুমে রানার্স হয়েছিলাম। আশা করি এবার চ্যাম্পিয়ন হব।’
মোলিনা মানছেন, গত মরশুমের তুলনায় দলটা তাঁর বেশি চেনা। বললেন, ‘ গত মরশুমে যখন দলের দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন সব ফুটবলারই আমার কাছে ছিল নতুন। এবার সেখানে সকলেই চেনা, কিয়ান ও অভিষেক ছাড়া। দু’জনেই খুব ভাল ফুটবলার। দলের সঙ্গে ওদের মানাতে অসুবিধা হবে না। শুধু আমার দর্শন ও কৌশলের সঙ্গে ওদের রপ্ত করাতে হবে। তবে ফুটবলারদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করতে হবে। যেটুকু দেখেছি দলের প্রথম খেলার ভিডিওতে, তাতে এটাই মনে হয়েছে। বাকি কোনও ব্যাপারে বেশি জোর দেওয়া জরুরি নয়। কারণ সব ফুটবলারই জানে, আমি কী চাই। কোন ফিলোসফি মেনে খেলাই।’
মহমেডানের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে সবুজ মেরুন ব্রিগেডে কোনও বিদেশি ছিল না। এখন অনুশীলনে হাজির দুই ডিফেন্ডার টম আলড্রেড ও আলবার্তো রডড্রিগেজ। মোলিনা বলেই দিলেন, বিএসএফের বিরুদ্ধে ম্যাচে তাঁদের খেলতে দেখার সম্ভাবনা প্রবল। আসলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবার ম্যাচে টম ও আলবার্তোকে সরাসরি নামিয়ে দেওয়ার আগে বিএসএফ ম্যাচে প্রয়োজনীয় ম্যাচ প্র্যাকটিস দিতে চান মোলিনা। তবে চোটের জন্য শুভাশিস বসু যেমন নেই, তেমন লাল কার্ড দেখায় আপুইয়াও। মনবীর সম্পর্কে মোলিনার বক্তব্য, নতুন করে অনুশীলনে কোনও অঘটন না হলে, মনবীর বিএসএফ ম্যাচে স্কোয়াডে থাকতেও পারে। অবশ্য কিয়ান ভাল খেলার পর মনবীরকে এখনই মাঠে নামানোর ঝুঁকি নাও নিতে পারেন বাগানের হেড স্যার।
বিএসএফকে ৮-১ গোলে ডায়মন্ড হারবার হারানোয় গোল পার্থক্যের একটা চাপ তৈরি হয়েছে মোহনবাগানের সামনে। তবে সবুজ মেরুন কোচ মোলিনা তা নিয়ে চিন্তিত নন। সাফ জানালেন, ‘প্রতিপক্ষ বিএসএফকে যেমন হাল্কাভাবে নিচ্ছি না, তেমন গোলের অঙ্ক মাথায় নিতেও নারাজ। আমার একটাই দর্শন, জেতার জন্য খেল। ফুটবলারদের বলি, যত বেশি সম্ভব গোল বাড়ানোর চেষ্টা কর, কম বা একেবারেই গোল হজম না করে। সেই মনোভাবের কোনও বদল ঘটছে না।’
আইএসএল শুরুর দিন অনিশ্চিত। তাই ডুরান্ড কাপকেই এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র প্রস্তুতি টুর্নামেন্ট হিসেবে নিচ্ছেন মোলিনা। পরে আইএসএল শুরুর দিন ঘোষণা হলে, এই ম্যাচ প্র্যাকটিস তাঁদের কাজে লাগবে। দলটাও ততদিনে পুরো তৈরি হয়ে যাবে। ডুরান্ডে প্রথম সারির দল কম অংশ নিচ্ছে বলে, লড়াইটা সহজ, মানছেন না মোলিনা। বরং বললেন, টুর্নামেন্ট যত এগোবে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা বাড়বে। মুখে প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গলের নাম না আনলেও, সম্ভাব্য ডার্বির জন্য তিনি যে তাঁর ফুটবলারদের শারীরিক ও মানসিক ভাবে তুঙ্গে পৌঁছে দেবেন, এটা বলাই বাহুল্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
