Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মোহনবাগান ৪(‌মনবীর, লিস্টন-‌২, সাহাল)‌ বিএসএফ ০

‌মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ ডায়মন্ড হারবার এফসির কাছে ১-‌৮ গোলে হেরেছিল বিএসএফ। স্বাভাবিকভাবেই সবুজ মেরুন সদস্য-‌সমর্থকরা অধীর আগ্রহে তাকিয়ে ছিলেন বিএসএফের বিরুদ্ধে সোমবার কিশোরভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ডুরান্ড কাপের ম্যাচে কত গোলে জেতে তাঁদের প্রিয় দল। প্রত্যাশামতোই মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ৪-‌০ গোলে হারালো বিএসএফকে। তবে গোলপার্থক্যের বিচারে ডায়মন্ড হারবারের থেকে পিছিয়ে থাকায় আপাতত গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে মোহনবাগান এসজি। শীর্ষ স্থান পেয়ে কোয়ার্টারফাইনাল যেতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ডের বিরুদ্ধে জিততেই হবে বাগান বাহিনীকে। নইলে ড্র করলে সব গ্রুপ মিলিয়ে দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে শেষ আটে যাওয়ার জন্য অন্য গ্রুপের ম্যাচের ফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে হবে মোলিনা ব্রিগেডকে।

৪মিনিটের মাথায় বিএসএফের কিশোরী অবিশ্বাস্য মিস না করলে, পিছিয়ে পড়তে পারত সবুজ মেরুন। অভিষেক সূর্যবংশী বাগান বক্সের মাঝে মিস পাস করলে, আলগা বল চলে যায় কিশোরীর পায়ে। কিশোরী সামনে দাঁড়ানো টম আলড্রেডকে কাটিয়েও নিয়েছিলেন। সামনে অসহায় মোহন গোলকিপার বিশাল কাইথ। ৬ গজ দূর থেকে এলোমেলো একটা দুর্বল শট নিয়ে বল বাইরে মেরে দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করলেন কিশোরী।

১ মিনিটের মধ্যে মনবীর বক্সের মাঝে সুবিধাজনক অবস্থায় বল পেয়ে গোলে শট নিলে, তা তৎপরতার সঙ্গে রুখে দিয়ে দলকে গোল হজমের হাত থেকে বাঁচান বিএসএফ গোলকিপার হরপ্রীত। বাগানের আরও কয়েকটি প্রচেষ্টা রোখেন তিনি। কিন্তু ২৪ মিনিটে তিনি হার মানলেন মনবীরের কাছেই। বাঁপ্রান্তে লিস্টনের বাড়ানো বল ধরে ওভারল্যাপে ওঠা রোশন বিএসএফ বক্সে মাপা ক্রশ ভাসান। গোলকিপার হরপ্রীত এগিয়ে এসে তা ক্লিয়ার করার আগেই মনবীর শূণ্যে লাফিয়ে উঠে চমৎকার হেডে বল জালের ভেতর জড়িয়ে দেন।

সবুজ মেরুনের সহকারি কোচ বাস্তব রায় যেখানে মহমেডানের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে যুব ফুটবলারদের মাঠে নামানোর সাহস দেখাতে পারেননি, সেখানে কলকাতায় চারদিন আগে পা রেখে বিএসএফ ম্যাচে ডাগআউটে বসে অনূর্ধ্ব ১৭ ফুটবলার রোশনকে লেফট ব্যাকে আর যুব ফুটবলার কাস্থানাকে রাইট ব্যাকে প্রথম একাদশে রাখতে দ্বিধা করেননি চিফ কোচ হোসে মোলিনা। বড় মঞ্চে যুব ফুটবলারদের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের সুযোগ না দিলে, আর কবে দেওয়া সম্ভব হত?‌ এই জন্যই মোলিনা বড় ও সফল কোচ।

বিরতির পর দলে তিনটি বদল আনেন বাগানের হেডস্যার মোলিনা। প্রথমার্ধের শেষদিকে গোড়ালিতে চোট পেয়েছিলেন মনবীর। তাঁকে আর খেলানোর ঝুঁকি নেননি মোলিনা। বদলি হিসেবে নামান কিয়ানকে। মাঝমাঠে অনিরুদ্ধ থাপাকে তুলে সাহালকে। প্রথম ৪৫ মিনিট টম আলড্রেডকে গেম টাইম দিয়ে তাঁর জায়গায় আলবার্তো রডড্রিগেজকে দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে আনেন মোলিনা, তাঁকেও পর্যাপ্ত গেম টাইম দিতে। কারণ গ্রুপের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবারের মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই বিদেশি ডিফেন্ডারকে গেম টাইম দেওয়াটা জরুরি ছিল।

ওই বদলের পরই গোলের বণ্যা মোহনবাগানের ঝাঁঝালো আক্রমণে। ৫৩ মিনিটে সাহালের সঙ্গে ওয়াল খেলে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া গড়ানো শটের গোলে ২-‌০ করেন লিস্টন কোলাসো। ৫৮ মিনিটে সাহালের থ্রু ধরে গোলকিপারকে কাটিয়ে চেটোর টোকায় নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল লিস্টনেরই। ৬১ মিনিটে পেছন থেকে বাড়ানো বল ধরে সাহাল বক্সে ঢুকে গোলকিপারের পাশ দিয়ে ফাঁকা গোলে উঁচু শট নিলে, গোলের ভেতর থেকে বিএসএফের ডিফেন্ডার ঈশান গুপ্ত বল বের করলে, রেফারি ও লাইন্সম্যান গোলের সঙ্কেত দিতে দ্বিধা করেননি। সুহেলের নেওয়া জোরালো শট বিএসএফ গোলকিপার ফিস্টের বিনিময়ে কর্নার করায় গোল আসেনি। ৯৪ মিনিটে আলবার্তোর দূরপাল্লার শট গোলকিপার হরপ্রীত দুরন্ত দক্ষতায় রুখে দেওয়ায় আর গোল বাড়েনি।

তবে একদা গাঁট, বর্তমানে সাদামাটা বিএসএফের বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জিতলেও সবুজ মেরুন ফুটবলারদের খেলায় ফিটনেসের অভাবটা পুরোপুরি মেটেনি। এটা ডায়মন্ড হারবার ম্যাচে চিন্তার কারণ হতে পারে।

মোহনবাগান:‌ বিশাল, কাস্থানা(‌অভিষেক সিং)‌, টম(‌আলবার্তো)‌, দীপেন্দু, রোশন, মনবীর(‌কিয়ান)‌, টাংরি, অভিষেক সূর্যবংশী, অনিরুদ্ধ(‌সাহাল)‌, লিস্টন, সুহেল(‌পাসাং)‌।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *