মুনাল চট্টোপাধ্যায়: অতীতের ডার্বির পাতা ঘাঁটলে মেগা ম্যাচের আগে মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গলের লড়াই ঘিরে দুই কোচের নরম গরম তরজা একটা আলাদা উত্তেজনা ও আবহ তৈরি করে দিত। দুই কোচ পিকে ব্যানার্জি আর অমল দত্ত বা সুব্রত ভট্টাচার্যের সঙ্গে সুভাষ ভৌমিকের কথার লড়াই ময়দানে মিথ হয়ে রয়েছে। দু‘শিবিরের ফুটবলার ও সদস্য-সমর্থকরা ফুটতেন, সেই চাপান উতোর কেন্দ্র করে। কিন্তু দিন বদলে গেছে। ডার্বির গুরুত্ব একইরকম থাকলেও, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল কোচের মুখে কোনও আলগা বেঁফাস মন্তব্য নেই। সবটাই পেশাদার মোড়কে মোড়া। যেমন এদিন দেখালেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট কোচ হোসে মোলিনা।
ডুরান্ড ডার্বি কোয়ার্টারফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি হওয়ার আগে মোলিনার মুখে এমন কোনও কথা নেই, যাতে প্রতিপক্ষ তেতে ওঠার সুযোগ পায়। বরং আর পাঁচটা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলার মতোই মনোভাবে ঠান্ডা ঠান্ডা কুল কুল মেজাজে ডার্বি নিয়ে নিজের দল ও প্রতিপক্ষের শক্তি ও দুর্বলতার বিশ্লেষণ করলেন হাসি হাসি মুখে। মিডিয়া রুমে যখন মোলিনা সাংবাদিক সম্মেলন সারছেন বিকেলের পড়ন্ত বেলায়, তখন মোহনবাগান গ্যালারির নীচে সদস্যদের ডার্বির টিকিট সংগ্রহের উপচে পড়া ভিড়। ফুটবলারদের অনুশীলনে নামার মুখে তাঁদের মুখে তুমুল জয়ধ্বনি। অনুশীলনে ফুরফুরে মেজাজে ধরা দিলেন জেসন কামিংস, জেমি ম্যাকলারেন, সাহাল , লিস্টন, আপুইয়া, টম, আলবার্তো সহ দলের বাকিরা। চোখে মুখে কোনও বাড়তি টেনশনের ছাপ নেই। বরং অল্পসময়ের প্রস্ততিতে কামিংসকে ডার্বি খেলার মতো ফিট কিনা জানতে চাওয়ায়, দু’হাতের পেশি ফুলিয়ে কামিংস বুঝিয়ে দিলেন, তাঁরা ডার্বি জিতে ডুরান্ড সেমিফাইনাল যেতে তৈরি। এই আত্মবিশ্বাসটাই রবিবসারীয় ডার্বিতে সবুজ মেরুন ব্রিগেডের ইউএসপি।
সবটাই মোলিনা দেখেছেন, কিন্তু তবু তিনি বাড়তি আবেগ বা উত্তেজনা প্রকাশ করলেন না নিজের বক্তব্যে। বাগান কোচের কাছে প্রশ্ন ছিল, ডার্বি ঘিরে সদস্য-সমর্থকদের প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া। বিশেষ করে আপনার কোচিংয়ে দল কোনও ডার্বি না হারায়? এই ফেবারিট তকমা নিয়ে মরশুমের প্রথমেই ডুরান্ড ডার্বি খেলা কি সেক্ষেত্রে বাড়তি চাপের? মোলিনার জবাব, ‘ সদস্য-সমর্থকদের অনুভূতি জানি। তাদের দাবিও। গত তিনদিন ধরে সমর্থকরা আমার কাছে আবদার করে আসছে, কোচ ডার্বি জিততে হবে। হ্যাঁ, আমিও ডার্বি জিততে চাই সমর্থকদের মন ভরাতে, ডুরান্ড ট্রফি জেতার আশা জিইয়ে রাখতে।’ নির্ধারিত সময়ে ম্যাচ জেতা লক্ষ্য থাকলেও ম্যাচ অতিরিক্ত সময় গড়ানোর কথা মাথায় রেখে টাইব্রেকার অনুশীলন সেরে নিয়েছেন মোলিনা। আর মনবীর ও কিয়ানের অভাবে অন্য কৌশল নিয়ে উইং দিয়ে আক্রমণ শানানোর অভ্যাসটাও ঝালিয়ে নিলেন তিনি।
ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ বলেছেন, এবার নতুন ইস্টবেঙ্গলকে দেখা যাবে। মোহনবাগান দলের দুর্বলতা তাঁর জানা। প্রতিপক্ষ দলের শক্তি ও দুর্বলতা নিয়ে আপনার কী পর্যবেক্ষণ? মোলিনা একইরকম ঠান্ডা স্বরে জানালেন, ‘ ঠিক। ইস্টবেঙ্গল দলটা শক্তিশালী। ওদের কোচও নামী। তিনি যে আমাদের নিয়ে হোমওয়ার্ক সেরেছেন, এটাই তো স্বাভাবিক। উনিও ম্যাচটা জেতার জন্য যা যা করার, তা করবেন। আমার দলও নিঃখুঁত নয়। অন্তত এই মুহূর্তে ফিটনেসের দিকে থেকে পুরো তৈরি নয়। ১৫ দিনের প্র্যাকটিসে যতটা সম্ভব গুছিয়ে নেওয়া চেষ্টা করেছি। তার মানে আমরা পিছিয়ে আছি, বা প্রতিপক্ষের থেকে এগিয়ে আছি, এমন নয়। মনে করি, এইসময় দলের কন্ডিশন যা সেইমতো পারফর্ম করবে দুটো দলই ডার্বিতে মাঠে।’
চোট সমস্যায় নেই কিয়ান, মনবীর। শুভাশিস অনেকদিন ধরেই রিহ্যাবে আছেন। সেখানে সুহেল প্র্যাকটিসে ফিরেছেন। টম আলড্রেডের খেলা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, তা ঘুচে গেছে মোলিনার বক্তব্যে। বলেই দিলেন, টম পুরো ফিট। ডার্বিতে সেরা দিতে তৈরি আলবার্তোর সঙ্গে। আসলে নেই সমস্যায় মোলিনার গলায় কোনও কান্নকাটি কখনও শোনা যায়নি। এদিনও বললেন, যাঁরা আছে, তাঁদের নিয়েই ময়দানের লড়াইয়ে ইস্টবেঙ্গলের মোকাবিলায় তৈরি তিনি ও তাঁর ফুটবলাররা।
জেসন কামিংসের গলাতেও আত্মবিশ্বাসের সুর। সাফ বলেই দিলেন, ‘ এশিয়ার সবচেয়ে বড় ডার্বির গুরুত্ব আমার জানা। তিন মরশুম ধরে সবুজ মেরুনের থাকার সুবাদে। সাফল্যের মাঝে আমরা। তাছাড়া গত দু’বছর ধরে একদল নিয়ে খেলার সুবাদে পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়া ভাল জায়গায় আছে। এটা অবশ্যই বাড়তি সুবিধা। রবিবার ডার্বিতে তার ছাপ দেখা যাবে। সমর্থকরা সবসময় আমাদের পাশি থাকে। তাদের প্রত্যাশাপূরণ করতে ডার্বি জয় উপহার দিতে চাই।’
গ্রেগ স্টুয়ার্ট না থাকায় মোলিনা তাঁকে ম্যাকলারেনের একটু পেছনে খেলাচ্ছেন। এটা নিয়ে কামিংসের বক্তব্য, তিনি নিজের রোলটা ভালই উপভোগ করছেন। সেরা দিতে তৈরিআছি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
