Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বিরুদ্ধে কোয়ার্টারফাইনাল ম্যাচে আগাগোড়া আধিপত্য বজায় রেখে ডার্বি জিতে সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবারের কাছে ডুরান্ড কাপ জেতার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়াটা একবারেই মানতে পারেননি ইস্টবেঙ্গলের চিফ কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। সেটা ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে কথা বলার সময় তাঁর চোখ মুখের অবস্থাই বলে দিচ্ছিল। অস্কার যতই ডায়মন্ডের কাছে হারের জন্য গোল হজমের ক্ষেত্রে রেফারির দুই সিদ্ধান্তকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করুন না কেন, নিজেদের ভুলকে আড়াল করে, ডার্বি জয়ের পর বাড়তি উচ্ছ্বাসটাই কাল হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ময়দানে একটা প্রবাদ বাক্য আছে। ডার্বি জেতা দল পরের ম্যাচে মুখ থুবড়ে পড়ে। সবসময় সেটা সত্যি না হলেও, এবার ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে এটা খেটে গেল ক্লাব ফুটবলে শিশু ডায়মন্ড হারবারের কাছে হারায়।

কেন এই হার, আত্মতুষ্টি , না গোল মিস, এই প্রশ্নে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কারের উত্তর, ‘‌ ডুরান্ড ফাইনালে যাওয়ার জন্য ডায়মন্ড হারবারকে অভিনন্দন। তবে ওদের এই জয়ের পিছনে রেফারির ভূমিকা আছে। ডায়মন্ডের প্রথম গোলের ক্ষেত্রে রেফারি যে ফাউল দিযেছিলেন, সেটা ছিল না। আর দ্বিতীয় গোলের সময় হ্যান্ডবল ছিল। এমন রেফারিং হলে ম্যাচ জেতা খুব কঠিন। ইস্টবেঙ্গল বারবার রেফারির ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়। আত্মতুষ্টির জায়গা ছিল না। হারলেও মাঠে আমরাই ছিলাম সেরা দল। ডার্বি জেতার পরই বলেছিলাম, আমরা কিছুই পাইনি এখনও। ট্রফি জয় যেখানে লক্ষ্য। ফুটবলারদেরও সেটা স্মরণে রাখতে বলেছিলাম। ডায়মন্ড হারবার যেখানে হাতে গোনা গোল করার সুযোগ পেয়েছে, সেখানে আমরা অনেক। হাতে গুনে শেষ করা যাবে না। এত গোল মিস করলে তো খেসারত দিতেই হবে। তাছাড়া মরশুমের প্রথম টুর্নামেন্ট বলেই সম্ভবত বোঝাপড়াটা পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। রক্ষণের জমাটভাবটা বিশেষ করে এখনও আসেনি। আর বেশি পীড়া দিয়েছে আমাকে সেটপিস থেকে গোল হজম করাটা। রেফারির ভূমিকা যাই হোক, সেটপিস থেকে প্রতিপক্ষ গোলে বল ঠেলার সুযোগ কেন পেল?‌ এগুলো নিয়ে আরও ভালভাবে প্রস্তুতি সারতে হবে।’‌

ডুরান্ড ফাইনালে যেতে না পারায় ইস্টবেঙ্গলের সামনে এখন কোনও খেলা নেই। তাই যখন অস্কারের কাছে জানতে চাওয়া হয়, দল নিয়ে তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা কী?‌ অস্কারের কথা শুনে বোঝা গেছে, তিনিও কিছুটা ধাঁধায়, সামনে খেলা না থাকায়, কী করবেন এটা বুঝে উঠতে না পারায়। জানালেন, ‘‌ আমি দু’‌দিন প্র‌্যাকটিস চালিয়ে যাব। তার মধ্যে টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে কথা বলে ঠিক করব, দল গোছানোর প্রস্তুতি চালিয়ে যাব, নাকি ব্রেক দেব সাময়িক। সুপার কাপ হবে কিনা, হলে আদৌ কবে শুরু সেটা জানা নেই। আইএসএল নিয়েও ঘোর অনিশ্চয়তা। জেনেছি, শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ফেডারেশন ও এফএসডিএল ঘিরে তৈরি হওয়া জট নিয়ে শুনানি আছে। সেখানে কী ঘটে দেখি। সবকিছু দেখেশুনে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’‌

ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার যেটা বললেন না, সেটা অবশ্যই উল্লেখ করা জরুরি। সেটা হল সমর্থকদের ভূমিকা। ডার্বি জয়ের দিন যুবভারতীতে লাল হলুদ ও সবুজ মেরুনে ভাগ হয়েছিল ৫০-‌৫০। উন্মাদনা ছিল দেখার মতো। ডার্বি জেতার পর আশা করা গিয়েছিল, সেমিফাইনালে ডায়মন্ড হারবারকে চাপে ফেলতে যুবভারতীর পুরো গ্যালারিটা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা মাঠে এসে ভরিয়ে ফেলবেন। শব্দব্রহ্মের জোরে কিবু ভিকুনার ফুটবলারদের বুক কাঁপিয়ে দেবেন। কিন্তু এটাই দুর্ভাগ্যের অস্কার ও তাঁর ফুটবলারদের, যুবভারতীর গ্যালারির অর্ধেকও ভরেনি লাল হলুদ সমর্থকরা মাঠে না আসায়। এ কেমন ভালবাসা ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের?‌ ডার্বি জয়ে আনন্দে গা ভাসিয়েই দায়িত্ব শেষ?‌ তাহলে সে কথাটাই কি সত্যি শুধু ডার্বি জিতলেই চলে, ট্রফি না জিতলেও কিছু এসে যায় না?‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *