অলস্পোর্ট ডেস্ক: বেশ কয়েকদিন সচিন তেন্ডুলকরকে নিয়ে সরগরম ছিল ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসন। রজার বিন্নির সময়সীমা হঠাৎই শেষ হওয়ার পর ঠিক ততটাই হঠাৎ করে নাম উঠে এসেছিল মাস্টার ব্লাস্টারের। তবে একদিন আগেই সচিনের টিমের তরফে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদে যে তাঁর নাম উঠছে তা পুরোটাই গুজব। তার পর আশা করা যায় তা নিয়ে আলোচনা থামবে। তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই পদের জন্য নতুন নাম চলে এসেছে মার্কেটে। এনডিটিভির এক খবর অনুযায়ী, ভারতের প্রাক্তন উইকেটরক্ষক কিরণ মোরে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (বিসিসিআই) পরবর্তী সভাপতি হওয়ার দৌঁড়ে সবচেয়ে হাই প্রোফাইল নাম হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন। সূত্র নিশ্চিত করেছে যে বিসিসিআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকজন হাই প্রোফাইল প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। এবং সৌরাষ্ট্রের একজন প্রাক্তন খেলোয়াড়ও দৌঁড়ে রয়েছেন, তবে রাজ্য সমিতিগুলির সর্বসম্মত পছন্দ কিরণ মোরে বলেই শোনা যাচ্ছে।
“এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হতে চলেছে। বেশিরভাগ রাজ্য সংস্থা কিরণ মোরেকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য বিসিসিআইয়ের সঙ্গে একমত হয়েছে। আমরা শীঘ্রই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে পারব,” একটি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে।
১৯ জুলাই ৭০ বছরে পা দেওয়ার কারণে রজার বিন্নি পদত্যাগ করার পর বেশ কিছু নাম নিয়ে আলোচনা হলেও তাতে নতুন সংযোজন কিরণ মোরে। বোর্ডের পদাধিকারীদের জন্য বয়সসীমা ৭০-এ বেধে দেওয়া হয়েছে। বিন্নির বিদায়ের পর থেকে সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা আপাতত কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে কাজ চালাচ্ছেন। একটা সময় এমনও শোনা গিয়েছিল, একান্তই এই পদের কোনও দাবিদার পাওয়া না গেলে সর্ব সম্মতিক্রমে এই দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে রাজীব শুক্লাকেই। তবে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করা হবে যাতে কোনও প্রাক্তন ক্রিকেটারকে এই পদে পাওয়া যায়।
আইপিএল চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল এনডিটিভিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন যে বিসিসিআই নির্বাচন, যা মূলত ২৮ সেপ্টেম্বর হওয়ার কথা ছিল যা এই বছর হওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিবর্তে, যদি সবাই একমত হন, তাহলে আনুষ্ঠানিক নির্বাচন ছাড়াই একজন প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়োগ করা যেতে পারে।
১৯৬২ সালে জন্মগ্রহণকরা কিরণ মোরে ১৯৮৪ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৪৯টি টেস্ট এবং ৯৪টি ওয়ানডে খেলেছিলেন। উইকেটের পিছনে তাঁর চঞ্চলতা সবার নজর কেড়ে নিত যখন তিনি খেলতেন সঙ্গে লোয়ার অর্ডার ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত কিরণ মোরে ১৯৮৮ এবং ১৯৯১-এ ভারতের এশিয়া কাপ জয়ী দলের সদস্য ছিলেন। কিরণ মোরে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট লড়াইয়ের অন্যতম চরিত্র হয়ে উঠতেন। ১৯৯২-এ বিশ্বকাপের ম্যাচে সিডনিতে মোরের বারবার আউটের জন্য আবেদন করে পাকিস্তান ব্যাটার জাভেদ মিয়াঁদাদকে উত্তেজিত করে দিয়েছিলেন। মিয়াঁদাদ পরবর্তী সময়ে তাঁকে নকল করে মাঠের মধ্যেই তাঁর মতো লাফাতে থাকেন। সেই দৃশ্য দীর্ঘদিন ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটীয় লড়াইয়ের একটা জ্বলন্ত উদাহরণ হয়ে ছিল।
অবসর গ্রহণের পর, মোরে ক্রিকেট প্রশাসন এবং কোচিংয়ে নিজের ক্ষমতার প্রমাণ রাখেন। তিনি বিসিসিআইয়ের নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যেখানে তিনি পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের গড়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে, তিনি আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে উইকেট-রক্ষণ পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেন এবং ২০১৯-এ ইউএসএ ক্রিকেটের ডিরেক্টর এবং অন্তর্বর্তীকালীন কোচ নিযুক্ত হন, দলটি ওডিআই মর্যাদা অর্জনের পর তাদের পথ পুনর্গঠনে সহায়তা করেন। দেশে ফেরার পর মোরে বর্তমানে বরোদা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান। এবার সামনে আরও বড় সুযোগ, ভারতীয় ক্রিকেটের উন্নতিতে কাজ করার জন্য।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
