অলস্পোর্ট ডেস্ক: মরশুমের শুরুতে ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণ নিয়ে টালবাহানা চালিয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। নানা শর্ত দিয়েছিল ডুরান্ড কমিটির কাছে। জানিয়েছিল, সেগুলো না মানলে তারা ডুরান্ডে খেলবে না। কিন্তু শেষপর্যন্ত বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট ডুরান্ড কাপে অংশ নিয়ে কোয়ার্টারফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে বিদায় নেয়। এবার শিল্ডে অংশগ্রহণের বিষয়টা একইরকম ঝুলিয়ে রেখেছে সবুজ মেরুন শিবির।
দু’দিন আগে আইএফএ কলকাতার চার বড় দলকে আলোচনার জন্য ডেকেছিল শিল্ডে খেলা নিয়ে তাদের মনোভাব জানতে। সম্ভাব্য প্রতিযোগিতার সময় ও নিয়মকানুন ঠিক করতে। এই বৈঠকে ইস্টবেঙ্গল, ডায়মন্ড হারবার এফসি ও মহমেডানের প্রতিনিধিরা গেলেও, মোহনবাগান এসজি তাদের প্রতিনিধি পাঠায়নি। এতে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, মোহনবাগানের শিল্ডে খেলা নিয়ে।
শিল্ডের জন্য ৮ থেকে ১৮ অক্টোবর সময় ভেবেছে আইএফএ। কারা শেষপর্যন্ত অংশ নিতে রাজি হবে জানার পরই আইএফএ শিল্ডের সূচী জানাবে। মোহনবাগান এখনও কিছু না জানানোয় সেই ঘোষণা করা সম্ভব হয়নি। আসলে মোহনবাগান এসজি এইমুহূর্তে একটা অন্য বড় ঝামেলায় ফেঁসে রয়েছে। সেটা হল, ৩০ সেপ্টেম্বর ইরানের মাঠে সেপাহান এফসি বিরুদ্ধে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র খেলা নিয়ে। কতজন বিদেশি শেষপর্যন্ত দলের সঙ্গে ইরান যেতে পারবেন, তা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তার জন্য দল কবে রওনা হবে ইরানের পথে, সেটাও ঠিক করে উঠতে পারেনি। তাই সেটা না মেটা পর্যন্ত তারা শিল্ড বা অন্য কোনও কিছু নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ।
সমস্যাটা ইরানের দিক থেকে কিছু নেই। গত মরশুমে নিরাপত্তাজনিত কারণে মোহনবাগানের একাধিক দেশি ও বিদেশি ফুটবলার ক্লাবের কাছে অনুরোধ করেছিলেন ইরানে তাঁদের না পাঠাতে। সেটাকে মান্যতা দিয়ে মোহনবাগান এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু-র ম্যাচ খেলতে দল পাঠায়নি ইরানে। এর ফলস্বরূপ বাগানকে একটা ম্যাচে অংশ নেওয়ার পরই এএফসি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাতিল করে দেয়। ইরানের ফুটবল কর্তারা এবার শুরুতেই বলে দেন, তাঁদের দেশের মাঠে মোহনবাগানের খেলায় কোনও সমস্যা নেই। নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই। তাই মোহনবাগান ফুটবলারদের ইরানে খেলতে যাওয়ার ভিসা পাওয়াও আটকাচ্ছে না।
কিন্তু এটা আসল সমস্যা নয়। মাথাব্যথাটা মোহনবাগানের নিজস্ব। মোহনবাগানের দলের অস্ট্রেলিয়ান বিশ্বকাপার ও টম আলড্রেডকে নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্ট হোল্ডার জেমি ম্যাকলারেন, দিমিত্রি পেত্রাতোস, জেসন কামিংসের ক্ষেত্রে ইরানের খেলতে যাওয়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইরানের রাজনৈতিক সম্পর্ক ঘিরে। অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলারদের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, ইরানে খেলতে গেলে, তাঁদের অস্ট্রেলিয়া ফেরার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব হারাবেন তাঁরা। এটা মোহনবাগানের ৩ বিদেশি কোনওমতেই চাইবেন না, এটা বলা বাহুল্য। টমের ব্যাপারেও এমন একটা সমস্যা রয়েছে। যেটা মেটানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে মোহনবাগান। এমনকি তারা এএফসির দারস্থ হয়েছে, এর সমাধান খুঁজতে। যদি সেটা না হয়, তাহলে সবুজ মেরুনকে এই চার বিদেশিকে ছাড়াই ইরানের সেপাহান ম্যাচ খেলতে যেতে হবে।
এদিকে, ২৫ অক্টোবর থেকে সুপার কাপ শুরুর কথা। সেপাহান ম্যাচ খেলে আসার পর সুপার কাপের প্রস্তুতি শুরু করবেন মোহনবাগানের চিফ কোচ হোসে মোলিনা। ডুরান্ড কাপের ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলের কাছে হারের জ্বালা গায়ে লেগে আছে তাঁর ও দলের ফুটবলারদের। তাই সুপার কাপ জিততে মোহনবাগান যে বাড়তি ঝাঁপাবে, সেটা বলাই বাহুল্য। কারণ এখানে শুধু চ্যাম্পিয়ন হয়ে ট্রফি জেতাটাই উদ্দেশ্য নয়, এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টায়ার টু প্লেঅফ খেলার সুযোগটা নিশ্চিত করাটাও লক্ষ্য। পরে আইএসএল হলে, তখন শিল্ড বা কাপ জেতার জন্য উদ্যম নেবে মোহনবাগান পুরোদমে।
তাই সুপার কাপের আগে আইএফএ শিল্ডে আদৌ খেলতে গিয়ে সুপার কাপে নিজেদের প্রস্তুতিতে কতটা ব্যাঘাত ঘটবে না জেনে, তারা শিল্ডে খেলার সম্মতি দেবে না। কারণ সুপার কাপের আগে পুরো শক্তি নিয়ে খেলতে গিয়ে চোট সমস্যায় পড়লে, বা বাজে ফল হলে তার প্রভাব সুপার কাপে পড়তে পারে। তাই আপাতত সেপাহান ম্যাচ খেলে না আসা পর্যন্ত তারা শিল্ড নিয়ে ভাবতে নারাজ। বরং বলা ভাল, তারা পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পর্যন্ত।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
