সুচরিতা সেন চৌধুরী: ডুরান্ড কাপ ২০২৩-এর শুরুটা দারুণভাবেই করে ফেলল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। মোহনবাগান বনাম বাংলাদেশ আর্মি ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়ে গেল এবারের ডুরান্ড কাপ। প্রথম ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিল কলকাতার দল। প্রথমার্ধেই জয়ের রাস্তার তৈরি করে ফেলেছিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। কোনও বিদেশি ছাড়াই এদিন দল নামিয়েছিলেন বাগান কোচ। রিজার্ভেও ছিলেন না কোনও বিদেশি ফুটবলার। তাতেই যা দাপট দেখাল তার উপর বিদেশিরা যোগ দিলে সেই দল যে ধারে ভারে আরও বড় হবে তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই।
বৃহস্পতিবার ডুরান্ড কাপের প্রথম ম্যাচে সুমিত রাঠির নেতৃত্বে প্রতিপক্ষকে দাঁড়াতেই দিল না মোহনবাগান। অন্যদিকে কলকাতা লিগে এখনও একটিও ম্যাচ হারেনি মোহনবাগানের যুব দল। সেই দলের এক ঝাঁক ফুটবলারই এদিন খেললেন। আত্মবিশ্বাসটা তাই তৈরি হয়েই গিয়েছিল। তারই প্রতিফলন দেখা গেল ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচে। যার ফল ম্যাচ শুরুর ১৪ মিনিটেই গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন লিস্টন কোলাসো।
ডানদিক থেকে রবি বাহাদুর রানাকে লক্ষ্য করে বল বাড়িয়েছিলেন টাইসন সিং। রবি সেই বল গোল মুখে ঠেললেও সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মনবীর বলের নাগাল পাননি। তবে সেই বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা। ডানদিক থেকে উঠে আসা লিস্টন কোলাসো অবশ্য গোল হাতছাড়া করেননি। শুরুতেই এগিয়ে যায় সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। দু’মিনিটের মধ্যেই গোলের সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ আর্মি, কিন্তু তা কাজে লাগাতে ব্যর্থ তারা। তার তিন মিনিটের মধ্যে রবির শট পোস্টে লেগে ফেরে।
২৭ মিনিটে অবশ্য ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় মোহনবাগান। এবার গোলের কারিগর মনবীর সিং। দলকে পেনাল্টি পাইয়ে দিয়েছিলেন লালরিনলিয়ানা হামতে। বাংলাদেশ আর্মির রাজীব হোসেন বক্সের মধ্যে ফেলে দেন হামতেকে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি মনবীর। ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় মোহনবাগান। যার ফলে ৩৯ মিনিটে তৃতীয় গোল পেয়ে যায় তারা। রীতিমতো গোলের বল সাজিয়েই বলটি ফিনিশ করেন সুহেল আহমেদ ভাট। বক্সের বাইরে থেকে টাইসনকে বল বাড়িয়ে বক্সের ভিতর ঢুকে পড়েছিলেন সুহেল। ততক্ষণে টাইসনকে ঘিরে ধরেছে বাংলাদেশ ডিফেন্ডাররা। সেই সুযোগেই টাইসনের থেকে বল পেয়ে সহজেই গোলে পৌঁছে দেন সুহেল। ৩-০ গোলে এগিয় যায় মোহনবাগান। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে জোড়া হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন বাংলাদেশ আর্মির মিজানুর রহমান।
প্রথমার্ধ শেষ হয় ৩-০ গোলে। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এবার মোহনবাগানের হয়ে ব্যবধান বাড়ান হামতে। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে লিস্টনের থেকে বল মনবীরের পা হয়ে পৌঁছয় হামতের কাছে। গোল করতে ভুল করেননি তিনি। তবে এদিন ম্যাচে বার বার চোট পেতে দেখা গেল মোহনবাগানের প্লেয়ারদের। অমনদীপ, মনবীর, সুহেলরা মাসলের স্ট্রেনের সমস্যায় মাঠ ছাড়লেন। একে তো গরম তার উপর চূড়ান্ত আদ্রতা সমস্যায় ফেলল ফুটবলারদের। তার মধ্যেও পরিবর্ত হিসেবে নেমে গোল করে গেলেন কিয়ান নাসিরি। লিস্টনের দূর পাল্লার শট বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন প্রতিপক্ষ গোলকিপার। তাঁর হাত থেকে ছিটকে আসা বল গোলে ঠেললেন কিয়ান। ম্যাচের বয়স তখন ৮৯। শেষ পর্যন্ত ৫-০ গোলে ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচ জিতেই শুরু করে দিল মোহনবাগান।
মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট: আনোয়ার শেখ, রবি বিষ্ণোই, অমনদীপ (ব্রিজেশ গিরি), সুমিত রাঠি, রাজ বাসফোর, লালরিনলিয়ানা হামতে (ফারদিন), অভিষেক সূর্যবংশী, টাইসম সিং (কিপজেন), সুহেল আহমেদ ভাট (ইঙ্গসেন সিং), মনবীর সিং (কিয়ান নাসিরি)।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
