অলস্পোর্ট ডেস্ক: টানটান উত্তেজনার মধ্যে শেষ রাউন্ডে বাজিমাত করে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠেয় ৫১তম জাতীয় মহিলা দাবা প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেন তামিলনাড়ুর নন্দিধা পিভি। ২৪ টি রাজ্য ও তিনটি অনুমোদিত সংস্থার ১৩৮ জন দাবাড়ু এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। সারা বাংলা দাবা সংস্থা, পশ্চিম বর্ধমান দাবা সংস্থা, অলস্পোর্ট ফাউন্ডেশন ও সর্বভারতীয় দাবা ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় শনিবার দুর্গাপুরের সিধু কানু ইন্ডোর স্টেডিয়ামে সাড়ে ৯ পয়েন্ট প্রাপ্তির সুবাদে শীর্ষে থেকে পরপর দু’বার খেতাব ধরে রাখার কৃতিত্ব দেখালেন চেন্নাইয়ের সেলামের বাসিন্দা নন্দিধা। অল্পের জন্য চ্যাম্পিয়নশিপ হাতছাড়া হল বংলার মেয়ে পেট্রোলিয়াম স্পোর্টস বোর্ডের প্রতিনিধি দাবাড়ু মেরি অ্যান গোমসের। ৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনি দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। অথচ শুক্রবার আগের রাউন্ডে নন্দিধাকে হারিয়ে খেতাব জয়ের আশা জোরালো করেছিলেন মেরি। শেষ রাউন্ডে নিজের ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি। সাড়ে ৮ পয়েন্ট পেয়ে প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হলেন ত্রিপুরার আগরতলার মেয়ে আর্শিয়া দাস।
মোট ৩০ লাখ টাকার আর্থিক পুরস্কার ছিল সফল দাবাড়ুদের জন্য। নন্দিধা পেলেন ৭ লাখ, মেরি ৫লাখ ৫০ হাজার, আর্শিয়া সাড়ে ৪ লাখ টাকা। চতুর্থ থেকে দশম স্থানে শেষ করা সফল প্রতিযোগীরা হলেন উত্তরপ্রদেশের শুভি গুপ্তা(সাড়ে ৩ লাখ), কেরলের কল্যানী সিরিন( ২ লাখ ৫০ হাজার), মহারাষ্ট্রের সৃষ্টি পান্ডে (২ লাখ), তামিলনাড়ুর ভি ভর্ষিনী( দেড় লাখ), দিল্লির সাচী জৈন(দেড় লাখ), কেরলের এজি নিম্মি (১ লাখ) ও ভিসি নিবেদিতা( ১লাখ)। সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে নজর কাড়া পারফরমেন্সের জন্য বিশেষ ভাবে পুরস্কৃত করা হয় হরিয়ানার ইশানা গুলাটি ও তামিলনাড়ুর রিভিনা ভার্মাকে। বাংলার দাবাড়ুদের মধ্যে সবচেয়ে ভাল ফল মৈত্রেয়ী মন্ডলের (১২ তম স্থান)।
শনিবার প্রতিযোগিতা শেষে সফল দাবাড়ুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক, সারা বাংলা দাবা সংস্থার সভাপতি দিব্যেন্দু বড়ুয়া, পশ্চিমবঙ্গ দাবা সংস্থার সচিব সুব্রত চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল দুর্গাপুর ডেভেলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান কবি দত্ত, ডিএমসির চেয়ারপার্সন অনিন্দিতা মুখার্জি, অলস্পোর্ট ফাউন্ডশনের চেয়ারম্যান শ্রেণিক শেট প্রমুখ।
চ্যাম্পিয়ন হয়ে নন্দিধা খেতাব জয়ের অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরলেন তাঁর স্বামী ফৌজে কর্মরত মেজর নবীনকুমারের কথা। নন্দিধা বলেন, ‘ আমি গতবারের চ্যাম্পিয়ন বলেই হয়ত, শুরুর দু’তিন গেমে একটু বেশি চাপ নিয়ে ফেলেছিলাম খেতাব ধরে রাখার ভাবনায়। তবে তারপর নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে এগোচ্ছিলাম। শেষ রাউন্ডের আগে মেরি দিদি(মেরি অ্যান গোমসের) কাছে হেরে ফের চাপে পড়ে যাই। এই সময় আমাকে প্রচন্ডভাবে উৎসাহ জুগিয়েছে আমার স্বামী বিনয়কুমার। মিলিটারিতে কাজ করার সূত্রে ও আমার থেকেও অনেক কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে। সেই গল্প শুনিয়ে আমাকে চাঙ্গা করে। শনিবার শেষ রাউন্ডে সেটাই আমাকে ভাল খেলতে সাহায্য করেছে। তবে মিথ্যা বলব না, শেষ এক ঘন্টা আমি নিজের মধ্যে ছিলাম না। জাস্ট খেলে যাচ্ছিলাম। আলটিমেটলি লাকও সাথ দেওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব ভাল লাগছে। সামনে কাতার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ খেলব। সেখানে ভাল করাই লক্ষ্য। তাছাড়া এর আগে দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়েছিলাম। পরের দাবা অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার আগে নিজের রেটিং আরও ভাল করা জরুরি।’
টুর্নামেন্টের সাফল্যে খুশি অন্যতম উদ্যোক্তা দিব্যেন্দু বড়ুয়া। বলেন, ‘ দুর্গাপুর সকলের কাছে পরিচিত স্টিল সিটি, গ্রিন সিটি হিসেবে। সেটাকে চেস সিটি হিসেবে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে চাই। এবারের জাতীয় মহিলা প্রতিযোগিতার হাডাহাড্ডি লড়াই শেষপর্যন্ত বজায় ছিল। প্রথম ১০ স্থানাধিকারী দাবাড়ু ছাড়া ৭ ও ৮ বছরের দুই খুদে মেয়ে দাবাড়ুকে বিশেষভাবে পুরস্কৃত করা হয়েছে আরও প্রতিযোগীদের দাবার প্রতি আকৃষ্ট করতে। সংগঠক ছাড়া উপকৃত স্পনসরদের কাছে। কারণ তাদের সক্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এই প্রতিযোগিতা এত সফল ভাবে আয়োজন করা সম্ভব হত না।’
খেলা খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
