Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ফিফা বুধবার ঘোষণা করেছে যে, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ জয়ী দল ৬৫৫ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার তহবিল থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলার পাবে। এই টুর্নামেন্টের টিকিটের মূল্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই দলগুলোর জন্য রেকর্ড পরিমাণ আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে ফিফা। চ্যাম্পিয়ন দলের জন্য নির্ধারিত এই অঙ্ক ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার জেতা ৪২ মিলিয়ন ডলার এবং ২০১৮ সালে ফ্রান্সের পাওয়া ৩৮ মিলিয়ন ডলারের থেকে অনেকটাই বেশি, কিন্তু এই বছর অনেক কম আলোচিত ক্লাব বিশ্বকাপ জিতে চেলসি যে পরিমাণ অর্থ আয় করেছে, তার অর্ধেকেরও কম। ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই বিশ্বকাপের মোট পুরস্কার তহবিল ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের চেয়ে ৪৮.৯% বেশি।

২০২৬ সালের মোট পুরস্কারের পরিমাণ অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ২০২৩ সালের মহিলা বিশ্বকাপের ১১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কারের প্রায় ছয় গুণ হবে। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৩ সালে পুরুষ ও মহিলাদের পরবর্তী বিশ্বকাপে সমান পুরস্কারের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন — পরবর্তী মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৭ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ক্লাব বিশ্বকাপ, যা বিতর্কিতভাবে সাতটি দল থেকে ৩২টি দলে প্রসারিত করা হয়েছিল এবং গত গ্রীষ্মে ফুটবল ক্যালেন্ডারে জোর করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তার মোট পুরস্কার তহবিল ছিল ১ বিলিয়ন ডলার। এই টুর্নামেন্টটি খেলোয়াড় এবং লিগগুলোর কাছ থেকে তীব্র বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছিল এবং কিছু ম্যাচে দর্শক সমাগমও ছিল নগণ্য, তা সত্ত্বেও চেলসি সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার জিতেছিল।

জাতীয় দল এবং ক্লাব টুর্নামেন্টের জন্য ফিফার পুরস্কার বিতরণের মডেল ভিন্ন, এবং পুরস্কারের অর্থের এই তারতম্য জাতীয় দলের তুলনায় ক্লাবগুলোর উচ্চতর বেতন খরচের মতো বিষয়গুলোকে প্রতিফলিত করে।

পুরস্কারের অর্থের বাইরেও, বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নের জন্য আরও তহবিল বরাদ্দ করা হয়। ইনফান্তিনো বলেছেন যে এই বিশ্বকাপ “বৈশ্বিক ফুটবল সম্প্রদায়ের জন্য এর আর্থিক অবদানের দিক থেকে যুগান্তকারী হবে।”

ইউরোপে, জাতীয় দলগুলোর জন্য ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের চেয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শীর্ষ পুরস্কারের পরিমাণ অনেক বেশি। গত বছরের ইউরোর জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার ছিল ২৮.৫ মিলিয়ন ইউরো (৩৩.৫ মিলিয়ন ডলার)। একই বছরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে রিয়াল মাদ্রিদ প্রায় ১৫৪ মিলিয়ন ডলার পেয়েছিল। উভয় প্রতিযোগিতাই ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা দ্বারা পরিচালিত হয়।

ফিফা দোহায় তাদের কাউন্সিলের এক বৈঠকে বিশ্বকাপের পুরস্কারের অর্থ অনুমোদন করেছে। মার্চ মাসে ফিফা ২০২৬ সাল পর্যন্ত তাদের বর্তমান চার বছরের চক্রের জন্য ১৩ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা ২০১৯-২২ সালের ৭.৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেশি।

২০২৬ সালের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ৪৮টি জাতীয় ফেডারেশনের প্রতিটি প্রস্তুতি বাবদ ১.৫ মিলিয়ন ডলার এবং গ্রুপ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য ৯ মিলিয়ন ডলার পাবে, যা ২০২২ সালের টুর্নামেন্টের মতোই।

নতুন ৩২ দলের রাউন্ডে জায়গা করে নেওয়া দলগুলো ১১ মিলিয়ন ডলার এবং ১৬ দলের রাউন্ডে পৌঁছানো দলগুলো ১৫ মিলিয়ন ডলার পাবে। কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো দেশগুলোকে ১৯ মিলিয়ন ডলার, চতুর্থ স্থান অধিকারী দলকে ২৭ মিলিয়ন ডলার, তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে ২৯ মিলিয়ন ডলার এবং ফাইনালে পরাজিত দলকে ৩৩ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে। অংশগ্রহণ ফি-সহ, ফিফা ৪৮টি ফেডারেশনকে মোট ৭২৭ মিলিয়ন ডলার দেবে।

প্রতিটি ফেডারেশন তাদের খেলোয়াড়দের কত অর্থ দেবে তা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়। ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে শিরোপা জিতলে ফরাসি খেলোয়াড়দের তাদের ফেডারেশন থেকে ৫৮৬,০০০ ডলার বোনাস পাওয়ার কথা ছিল। ফাইনালে ফ্রান্স শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায়।

ইউএস সকার ফেডারেশনের ২০২২ সালে তাদের পুরুষ ও মহিলা জাতীয় দলের ইউনিয়নগুলোর সঙ্গে করা সম্মিলিত দর কষাকষির চুক্তি অনুসারে, ২০২৬ সালে পুরুষদের এবং ২০২৭ সালে মহিলাদের জন্য নির্ধারিত পুরস্কারের অর্থ একত্রিত করা হবে এবং সেই অর্থের ৮০% খেলোয়াড়দের মধ্যে বিতরণ করা হবে।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *