—নিজস্ব চিত্র
সুচরিতা সেন চৌধুরী: কোনও খেলাই বিতর্কের ঊর্ধ্বে নয়, তা সে দাবা হলেও নয়। একের বিরুদ্ধে একের খেলায়ও মাঝে মাঝে হানা দেয় বিতর্ক, দ্বন্দ্ব। ফুটবলে রেফারি, ক্রিকেটে আম্পায়ারের মতো এখানে তা সামলান আরবিট্রেটর। তাঁদের কড়া নজরেই চলে খেলা। সে প্রতিযোগী বিশ্বনাথন আনন্দ হোক বা অন্য কেউ। সম্প্রতি শীতের কলকাতায় বসেছে দাবার আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। প্রতিবছরের মতো টাটা স্টিল র্যাপিড অ্যান্ড ব্লিৎজ দাবা ২০২৬-এ অংশ নিয়েছেন দেশের তথা পুরো বিশ্ব থেকে বেশ কিছু বড় নাম। ছ’বছর পর এই টুর্নামেন্টে খেলছেন ভারতের প্রথম গ্র্যান্ড মাস্টার বিশ্বনাথন আনন্দ। তার মধ্যেই গত চার দিনে দেখা দিল জোড়া বিতর্ক। দাবা বোর্ডে কোনও বিতর্কই বেশি দূর গড়ায় না। এক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয়নি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ক্ষোভ জানিয়েছেন আমেরিকান দাবাড়ু ওয়েসলি সো।
ওয়েসলি-প্রজ্ঞানানন্ধার মধ্যে বিতর্কীত ঘটনাটি ঘটেছিল দু’দিন আগে। তার আগে এদিন একটি বিতর্কীত ঘটনা ঘটল দুই ভারতীয় প্রতিযোগীর মধ্যে। শনিবার ধন ধান্য অডিটোরিয়ামে শুরু হয়েছে ব্লিৎজ প্রতিযোগিতা। সেখানে দিনের শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিলেন ভিদিত গুজরাঠী ও অর্জুন এরিগাইসি। এমন সময়ে তাঁরা দু’জন একে অপরের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিলেন যখন অর্জুন এক নম্বর থেকে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছেন। তাঁর সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য। দিনের শেষ ম্যাচ জিতে শেষ করার লক্ষ্য। সেই সময় হঠাৎই তাঁদের বোর্ডের সামনে কিছুটা চাঞ্চল্য তৈরি হয়। আরবিট্রেটরদের কাছে অভিযোগ জানান অর্জুন।
জানা যায়, চাল দিতে গিয়ে ভিদিতের ঘুঁটি পড়ে গিয়েছিল নিচে। যেহেতু ভিদিতের চাল তখনও শেষ হয়নি তাই তিনি স্টপ ওয়াচ বন্ধ করতে পারেন না। কিন্তু ভিদিত ঘড়ি বন্ধ করে ঘুঁটিটি নিচ থেকে তুলে বোর্ডে রাখেন। তারই প্রতিবাদ করেন অর্জুন। আরবিট্রেটররা দু’জনের সঙ্গে কথা বলে ভিজিতকে সাবধান করে দেন। যেহেতু প্রথম অপরাধ তাই তাঁকে সাবধান করে ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় অপরাধ করলেই শাস্তির মুখে পড়তে হবে। যদিও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিতে যান অর্জুন। এর আগের ঘটনাটি ঘটে র্যাপিডের ষষ্ঠ রাউন্ডে। যা দ্রুত আলোচনায় উঠে আসে।
সেই রাউন্ডে প্রজ্ঞানানন্ধার মুখোমুখি হয়েছিলেন ওয়েসলি সো। সেই সময় রীতিমতো সময়ের চাপে ছিলেন প্রজ্ঞা এবং তাঁর ঘড়িতে মাত্র এক সেকেন্ড বাকি ছিল। তিনি একটি ঘুঁটি প্রোমোশনের কাছাকাছি নিয়ে যান, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন যে চালটি শেষ করে ঘুঁটিটির বদলে একটি নতুন রাণি বসানোর জন্য তাঁর হাতে যথেষ্ট সময় নেই। তাঁর ঘড়ির সময় শেষ হয়ে যাওয়ার মুহূর্তে প্রজ্ঞানানন্ধা ঘড়ি থামিয়ে সাহায্য চান।
অনেক দর্শক এবং ধারাভাষ্যকারদের মত অনুযায়ী ওয়েসলি সো-এর সময়ের অভাবে গেমটি জেতা উচিত ছিল। তবে, সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর বিচারকরা খেলাটিকে ড্র ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়ে যান এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এরই মধ্যে, কেউ কেউ ওয়েসলিকে তাঁর স্পোর্টসম্যান স্পিরিটের জন্য প্রশংসাও করেন। তবে ম্যাচ ড্র আরবিট্রেটরদের সিদ্ধান্ত ছিল না বলে পরবর্তী সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান ওয়েসলি। তিনি এক্সে লেখেন, “গতকাল প্রাগের সঙ্গে আমার খেলাটি সম্পর্কে বলতে চাই, আমিই খেলাটি ড্র করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, বিচারকরা নন। ঘটনাগুলো এত দ্রুত ঘটেছিল এবং সবাই সেই মুহূর্তে যা সেরা মনে হয়েছিল তাই করেছে। বিচারকদের সমালোচনা করাটা অযৌক্তিক।”

শনিবার ব্লিৎজের ম্যাচ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন আর প্রজ্ঞানানন্ধা। এবারের টাটা স্টিল দাবা প্রতিযোগিতায় এখনও চেনা ফর্মে পাওয়া যায়নি তাঁকে। তবে তিনিই ভারতীয়দের মধ্যে একমাত্র নাম যিনি এবার অংশ নিতে চলেছেন ক্যান্ডিডেটসে। তাঁর প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি এখনও ক্যান্ডিডেটসের জন্য প্রস্তুতি শুরু করিনি। সেটা নিয়ে ভাবছিও না। জানি খুব গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট তবে আপাতত সামনে যা আছে তাতেই মনোনিবেশ করছি।’’ তবে ক্লান্তি কাটাতে বেছে বেছে খেলছেন, সেটাও জানিয়ে দিলেন তিনি। বলছিলেন, ‘‘খেলতে খেলতেই প্রস্তুতি হয়ে যায় ঠিকই তবে ভুল-ভ্রান্তিগুলো শুধরে নেওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন হয়, তার জন্য প্রস্তুতিতে সময় দিতে হয়। তাই কী টুর্নামেন্ট খেলব আর কোনটা বাদ দেব সেটার সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়,’’ বলেন প্রজ্ঞা।
রবিবার শেষ দিন ব্লিৎজের বাকি নয় গেমে একে অপরের মুখোমুখি হবেন দেশ, বিদেশের তারকা দাবাড়ুরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
