অলস্পোর্ট ডেস্ক: আসন্ন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আগে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল কিন্তু তাঁর কয়েকদিনের মধ্যেই বাংলাদেশ ফাস্ট বোলার মুস্তাফিজুর রহমান পাকিস্তান সুপার লিগের একাদশ মরসুমের জন্য লাহৌর কালান্দার্সে যোগ দিলেন।
কালান্দার্স এই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা আইপিএল থেকে তাঁর আকস্মিক প্রস্থানের পর মুস্তাফিজুরকে আবার পিএসএল-এর আঙিনায় ফিরিয়ে এনেছে। যদিও আইপিএলও পিএসএল চুক্তির মধ্যে বড় পরিমাণে আর্থিক পার্থক্য রয়েছে। মুস্তাফিজুরের পিএসএল চুক্তিটি ৬.৪৪ কোটি পাকিস্তানি টাকায় নির্ধারিত হয়েছে, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি টাকার সমান। এর তুলনায় কেআর-এর সঙ্গে তাঁর আইপিএল চুক্তি অনুযায়ী এই বাংলাদেশী পেসারের ৯.২ কোটি টাকা আয় করার কথা ছিল, যা দু’টি চুক্তির মধ্যে ও দুই দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের মধ্যের বড় আর্থিক পার্থক্য তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।
শতাংশের হিসাবে, পিএসএল চুক্তিটি তাঁর আইপিএল বেতনের চেয়ে প্রায় ৭৭ শতাংশ কম। পিএসএল আইপিএল-এর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম বেতন কাঠামোতে পরিচালিত হয়, যেখানে ফ্র্যাঞ্চাইজি রাজস্ব এবং সম্প্রচার স্বত্ব থেকে প্রাপ্ত আয় খেলোয়াড়দের জন্য অনেক বেশি চুক্তির সুযোগ করে দেয়।
মুস্তাফিজুরকে কেকেআর দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের নির্দেশের পরই নেওয়া হয়েছিল, যদিও বোর্ড প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করেনি। এর পরিবর্তে তারা “চারপাশের সমস্ত ঘটনাবলী”-র কথা উল্লেখ করেছিল, যা ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির মধ্যেই এসেছিল।
পরিস্থিতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে যখন বাংলাদেশ আসন্ন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করার ঘোষণা করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত হতে চলা এই টুর্নামেন্ট খেলতে ভারতে না আসার কারণ হিসেবে নিরাপত্তার অভাবকে তুলে ধরেছিল। শেষ পর্যন্ত টি২০ বিশ্বকাপে খেলছে না ভারত।
পরে পাকিস্তান একটি আংশিক প্রত্যাহারের ঘোষণা করে এবং বাংলাদেশের অবস্থানের সমর্থনে ভারতের বিপক্ষে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনাক্রম মুস্তাফিজুরকে একটি বৃহত্তর ভূ-রাজনৈতিক ও ক্রিকেটীয় সংকটের কেন্দ্রে নিয়ে আসে, যদিও খেলোয়াড় নিজে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও কথাই বলেননি। বরং ঘটনা পরম্পরায় তা দেশের সরকারের হাতে পৌঁছে গিয়েছে।
লাহৌর কালান্দার্সের জন্য অবশ্য এই চুক্তিটি তাঁদের দলকে অনেকটাই অভিজ্ঞতা দেবে। মুস্তাফিজুর তাঁর কাটার, গতির পরিবর্তন এবং ডেথ ওভারে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জন্য পরিচিত, যা তাঁকে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কার্যকর করে তুলেছে। “একবার যে কালান্দার, সে সব সময়ই কালান্দার। মুস্তাফিজুর শুধু একজন খেলোয়াড় নয়; সে আমাদের ভাই এবং আমাদের পরিবারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ,” বলেছেন লাৌঁর কালান্দার্সের মালিক সামিন রানা।
মুস্তাফিজুর এর আগে ২০১৬ এবং ২০১৮ মরসুমে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন, এখন তিনি মাঠের বাইরের সাম্প্রতিক অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে চাইছেন।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
