মুনাল চট্টোপাধ্যায়: আইএসএলে কখনও পরপর প্রথম তিন ম্যাচে জয় পায়নি ইস্টবেঙ্গল। চলতি মরশুমে দারুনভাবে শুরু করেছে লাল হলুদ ব্রিগেড। প্রথম ২ ম্যাচ শুধু জেতেইনি, করেছে ৭ গোল, হজম করেছে মাত্র ১টি। তবে রেকর্ডের কথা ভেবে নয়, খেতাব দৌড়ে ভাল জায়গায় থাকতে গত ২ ম্যাচের ছন্দ ধরে রেখে শুক্রবার যুবভারতীর মাঠে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে পবিজয়রথের দৌড় অব্যাহত রাখতে চান ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে কোচ অস্কারের পাশে বসা অধিনায়ক সল ক্রেসপোর গলাতেও এক সুর। জয়ের হ্যাটট্রিক পেতে গত ২ ম্যাচের পারফরমেন্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর তিনি।
জামশেদপুর ম্যাচের আগে লাল হলুদ শিবিরে একটা আলাদা তেতে থাকা ভাব। প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবার থেকেও কোচ অস্কার ও অধিনায়ক অস্কার সাংবাদিক সম্মেলেনের একটা সময় পর্যন্ত বেশি ব্যস্ত থাকলেন প্রচারমাধ্যমের ভূমিকার সমালোচনাতে। আসলে কোনও একটি সংবাদপত্রে ও বিভিন্ন মাধ্যমে সল ক্রেসপোর না খেলা কেন্দ্র করে খবর পরিবেশিত হয়েছে। তাতে কোচ অস্কার ও ক্রেসপোর মাঝে সম্পর্কের ফাটলের ইঙ্গিত রয়েছে। এটাতেই ক্ষুব্ধ অস্কার ও ক্রেসপো।
সল ক্রেসপো সাফ জানান, ‘ আমি আগের থেকে ভাল আছি। তবে খেলতে পারব কিনা, সেটা শুক্রবার ম্যাচের আগে ফিটনেস দেখে বুঝতে পারব। কোচ চাইলে খেলব। তবে একটা কথা বলা জরুরি, আমার ও দলের সম্পর্কে বেশ কিছু মিথ্যা খবর পরিবেশন করা হয়েছে। এটা ঠিক নয়। আমার সঙ্গে দলের বাকি ফুটবলার, কোচ অস্কার ও কোচিং স্টাফের মধ্যে সম্পর্ক খুব ভাল। কোনও সমস্যা নেই। যারা দলের মধ্যে ভাঙ্গন ধরাতে চাইছে, আমারদের পারফরমেন্সে ঈর্ষান্বিত হয়ে, তাদের বলতে চাই আমাদের দলগত সংহতি অটুট আছে। তার জোরে জামশেদপুর ম্যাচ জিততে তৈরি।’
কোচ অস্কার আরও বেশি আক্রমণাত্মক। সল ক্রেসপো কেন আগের ম্যাচে খেলেননি? তিনি কতটা ফিট? বৃহস্পতিবার সল মাঠে নামলেও অনুশীলন করেননি। মিগুয়েলের আগের ম্যাচে হালকা চোট লেগেছিল। তাই সল বা মিগুয়েল জামশেপুর ম্যাচে খেলতে পারবেন কিনা, এই প্রশ্নে, একটি বিশেষ সংবাদপত্রের নাম করে বলেন, ‘ এই সংবাদপত্রটি ইস্টবেঙ্গলের সরকারি মুখপত্র নয়। অথচ তারা ইস্টবেঙ্গল দল সম্পর্কে এমন সব খবর পরিবেশন করছে, যা শুধু মিথ্যা নয়, দলের পক্ষে ক্ষতিকর। আমরা যখন খারাপ খেলি, তখন আমাদের সমালোচনা সহ্য করতে হয়। তা মানতে অসুবিধা নেই। কিন্তু যেটা ঠিক নয়, সেটা যদি কেউ করতে চায়, দলের পারফরমেন্স প্রভাব ফেলতে, সেটা সমর্থনযোগ্য নয়। প্রচারমাধ্যমের আরও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত। কেন সলকে খেলাইনি, তার পেছনে কিছু নির্দিষ্ট কারণ আছে। কোচ হিসেবে ফুটবলারদের সমস্যা থেকে সরিয়ে রাখাটা আমার কাজ। সেই প্রোটেকশন দিতেই বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে হয় সময় সময়। মিগুয়েলের খেলা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। ৪জন বিদেশিকেই জামশেদপুর ম্যাচে শুরু থেকে ব্যবহার করব। সলের খেলা নির্ভর করবে, ম্যাচের আগে ওর অবস্থা দেখে।’
প্রতিপক্ষ জামশেদপুরকে কীভাবে নিচ্ছেন? জয়ের সঙ্গে বেশি গোল করার লক্ষ্য নিয়েই কি মাঠে নামবেন? কোচ অস্কারের জবাব, ‘ আমি আগেই বলেছি, এখন থেকে বেশি দূরের কথা ভাবছি না। ম্যাচ ধরে ধরে এগোব। তাই জামশেদপুরের বিরুদ্ধে আগে ৩ পয়েন্ট পাওয়াটা নিশ্চিত করতে চাই। জানি এর আগে পরপর ৩ ম্যাচ জেতেনি দল আইএসএলে। তবে সেটা মাথায় নিয়ে মাঠে খেলতে নামার চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। বরং নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে ম্যাচ জেতার চেষ্টা করতে হবে পরিকল্পনামাফিক ফুটবল খেলে। জামশেদপুর শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। প্রথম ২ ম্যাচ জেতায় ওদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। আছেন অভিজ্ঞ কোচ ওয়েন কোল। যিনি এর আগে ওদের লিগ শিল্ড জিতিয়েছেন। মাদি তালাল, মেসি বাউলির মতো ভাল ফুটবলার আছে ওদের। যারা ঝামেলায় ফেলার ক্ষমতা রাখে। তাই সতর্ক থাকতে হবে।’
জামশেদপুরের আক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন মাদি তালাল। আপনার দলে মিগুয়েল। মাঝমাঠের লড়াইটা কি শুক্রবার ভাগ্য গড়ে দিতে পারে? তালালকে ছেড়ে দিয়ে কি এখন আপসোস করছেন? অস্কার বলেন, ‘ তালালকে ছেড়ে দেওয়াটা আমার হাতে ছিল না। পরিস্থিতি এমনই ছিল, যাতে ও চলে গেছে। কথা ভুল নয়, যারা ম্যাচে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে, তারা ম্যাচ বের করে নিতে পারে। তবে শুধু মাঝমাঠের ওপর ভরসা করে থাকলেই তো হবে না, দলের বাকিদেরও ভাল খেলতে হবে, গোল করতে হবে ম্যাচ জিততে।’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
