অলস্পোর্ট ডেস্ক: সকলেই জানত ট্রফি জয়টা শুধু সময়ের অপেক্ষা। তবে সেই মুহূর্তের জন্য মাঠের বাইরে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে ছিলেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সহ দলের ক্রিকেটাররা। হুবলির কেএসসিএ স্টেডিয়ামের মাঠে। ঘড়িতে তখন ২টো বেজে ১১ মিনিট। কর্নাটকের অধিনায়কের সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীরের অধিনায়ক হাত মিলিয়ে নিতেই ম্যাচে পঞ্চম দিনে যবনিকা পতন। তখন ক্রিজে জম্মু ও কাশ্মীরের দুই ব্যাটার কামার ইকবাল ১৬০ ও সাহিল লোতরা ১০১ রানে অপরাজিত। ৩৪২-৪ রানের মাথায় দ্বিতীয় ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করতেই জম্মু ও কাশ্মীরের ঘরে প্রথমবার রনজি ট্রফি ঢুকে পড়ে। প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবাদে।
রনজি ট্রফিতে অভিষেকের পর ৬৭ বছরের অপেক্ষার অবসান ট্রফি প্রাপ্তিতে। ফলে উচ্ছ্বাস প্রকাশটাই স্বাভাবিক। মুহূর্তে ছুটে মাঠে ঢুকে পড়েন জম্মু ও কাশ্মীরের বাকি ক্রিকেটাররা। জড়িয়ে ধরেন ইকবাল ও লোতরাকে। কাঁধে তুলে নেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তাঁরা। হাডল করে বিজয়োল্লাসে মাতেন। হারলেও কর্নাটকের ক্রিকেটাররা খুব শান্ত ভাবে ধৈর্য ধরে মাঠে অপেক্ষা করে ছিলেন সৌজন্যমূলক হাত মেলানোর জন্য।
সেই পর্ব মিটতেই জম্মু ও কাশ্মীরের ক্রিকেটাররা তাঁদের পতাকা নিয়ে মাঠ প্রদক্ষিণ শুরু করেন। অধিকাংশ ক্রিকেটারের মুখে আনন্দাশ্রু। পরস্পরকে জড়িয়ে ধরছিলেন বুকে। ৬০ উইকেট নিয়ে প্রতিযোগিতার সেরা জম্মু ও কাশমীরের বোলারল আকিব নবি। সতীর্থরা তাঁকে কাঁধে তুলে নিয়ে গোটা মাঠ ঘোরালে, নবি গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের দিকে হাত নেড়ে অভিনন্দন কুড়োলেন। দলের রনজি জয়ে বড় ভূমিকা থাকল আব্দুল সামাদের। তিনি প্রতিযোগিতায় ৭৪৮ রান করেছেন। খেতাব জয়টা অধিনায়ক পারস ডোগরার জীবনের স্মরণীয় ঘটনা হয়ে রইল। ৪১ বছর বয়সী ক্রিকেটার অংশ নিয়েছেন ১৫৩টি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচে। তিনিই হলেন দ্বিতীয় ক্রিকেটার ওয়াসিম জাফরের পর যাঁর ১০ হাজারের বেশি রান আছে।
ম্যাচের সেরা শুভম পুন্ডিরের ১২১ রানের সুবাদে প্রথম ইনিংসে ৫৮৪ রান তুলে কর্নাটককে শুরুতেই চাপে ফেলে দেয়। ইওয়ার হোসেন খান ৮৮ রানের অবদান বলে উল্লেখযোগ্য। কর্নাটকের বোলার প্রসিধ কৃষ্ণা ৯৮ রানে ৫ উইকেট নেন। কর্নাটক ব্যাট করতে নেমে প্রথম ইনিংসে ২৯৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি। মায়াঙ্ক আগরওয়ালের ১৬০ রান সত্ত্বেও। কর্নাটক ইনিংসে ভাঙন ধরিয়ে দেন বোলার আকিব নবি ৫৪ রানে ৫ ও সুনীল কুমার ৫১ রানে ২ উইকেট নিয়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে জম্মু ও কাশ্মীর ৩৪২-৪ রান করে ইনিংসের সমাপ্তি ঘোষণা করলে ম্যাচ ড্র হয়। তবে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানে এগিয়ে থাকার সুবাদে জম্মু ও কাশ্মীরের মাথায় প্রথমবার রনজি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মুকুট ওঠে।
বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মানহাসের হাত থেকে ট্রফি নিয়ে আর একদফা স্টেডিয়াম জুড়ে দৌড়ে নেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিজয়ী বীররা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
