অলস্পোর্ট ডেস্ক: সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলেছে। ভাল খেলে বা লড়ে হারটা যেন ভারতীয়দের মজ্জায় ঢুকে গেছে। সেই বদনাম ঘোচাতে পারল না ভারতীয় মহিলা ফুটবল দল। নইলে পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে এএফসি মহিলা এশিয়ান কাপের প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের বিরুদ্ধে ১ গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতা ফিরিয়ে ৯৪ মিনিটে সংযুক্তি সময়ের গোলে তারা ১-২ গোলে হারবে কেন? ভারতীয় সিনিয়র মহিলা দলকে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে তুলেছিলেন ভারতীয় কোচ ক্রিসপিন ছেত্রী। অথচ এশিয়ান কাপে খেলার ঠিক আগে তাঁকে পিছনের সারিতে পাঠিয়ে বিদেশি কোচ আমেলিয়া ভালভার্দের ওপর দায়িত্ব দিয়েছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। ভাল কিছু করার জন্য। কিন্তু তাতে লাভ হল কী? তিনি তো আর শেষমুহূর্তে গোল খাওয়ার বদ অভ্যাসটা পাল্টাতে পারলেন না।
বরং সব কোচই হারলে যেমন সাফাই দেওয়ার ভঙ্গিতে নিজের দোষ ঢাকতে নানা অজুহার দিয়ে থাকেন, ভারতীয় সিনিয়র মহিলা দলের কোচ আমেলিয়া ভালভার্দের গলাতেও তো সেই এক সুর। কেন ম্যাচটা ৯৩ মিনিট পর্যন্ত ১-১ রাখা সত্ত্বেও ৯৪ মিনিটে গোল হজম করল ভারতীয় দল? ক্লান্তি, না মুহূর্তের মনঃসংযোগ হারানোটা কারণ? এই প্রশ্নে ভালভার্দের বক্তব্য, ‘ ক্লান্তির জন্য গোল খেয়েছে এটা মনে করছি না। বরং ম্যাচের শেষপর্যন্ত আমাদের ফুটবলাররা লড়েছিল। দমের কোনও ঘাটতি দেখিনি। ভিয়েতনামের মেয়েদের কখনও সখনও ক্লান্ত হতে দেখেছি। আসলে গোলটা হয়েছে আমাদের ফুটবলারদের ভুলের জন্য। শেষমুহূর্তের ওই ভুলটাই কস্টলি হয়ে গেল।’
ভালভার্দে নতুন কথা কী বললেন? ভুল থেকেই গোল হয়। তাঁর এখানে কোনও ভূমিকা নেই। ২ মিনিট বাকি থাকতে অভিজ্ঞ মনীষা কল্যানকে বসিয়ে লিন্ডা কমকে নামানোর কী প্রয়োজন ছিল? ওটাই তো ভিয়েতনামকে সুযোগ করে দেয়, বাড়তি আক্রমণের ঝাঁজ বাড়িয়ে গোলের জন্য সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপাতে। তার জেরেই গোল।
ভালভার্দে ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘ আমি দলের ফুটবলারদের খেলায় গর্বিত। সত্যি হারটা হজম করতে কষ্ট হচ্ছে। ফুটবলাররা সাজঘরে মুষড়ে পড়ে আছে। সেই অবস্থা থেকে দ্রুত ওদের বের করে আনতে হবে। কারণ পরের ম্যাচে আমাদের প্রতিপক্ষ জাপান। ভিয়েতনাম ম্যাচের প্রথম ৩০ মিনিটে নিজেদের ক্ষমতা অনুযায়ী খেলতে পারেনি আমাদের ফুটবলাররা। সেসময়ই প্রথম গোল হজম করতে হয়েছিল। তারপর ম্যাচের রাশ ধরে খেলায় ফেরে দল। দ্বিতীয়ার্ধে অনেক উন্নত মানের ফুটবল খেলেছে মেয়েরা। সমানে সমানে লড়েছে। এক একটা সময় ভিয়েতনামের থেকেও ভাল খেলেছিল। গোলের সুযোগও পেয়েছিল। সেগুলো কাজে লাগালে ফলটা অন্যরকম হতেই পারত। শেষমুহূর্তের গোলে হেরে যাওয়াটা সবসময়ই হতাশার। তবে এখন ওটা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে সামনের দিকে তাকাতে হবে ভিয়েতনাম ম্যাচের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে।’
গোল করে সমতা ফিরিয়ে ভারতীয় মহিলা দলকে অন্তত এক পয়েন্ট প্রাপ্তির আশা জাগিয়েছিলেন নবাগত সনফিদা ননগ্রাম। ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়ে প্রথমবার ম্যাচ খেলে নজর কাড়লেন দর্শনীয় গোল করে। তাঁর ভুয়সী প্রশংসা করেন ভালভার্দে। বলেন, ‘ অভিষেক ম্যাচে নেমেই ভাল খেলা শুধু নয়, গোল করে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়েছিল সন্দীফা। এশিয়ান কাপের মঞ্চে ভিয়েতনামের মতো বিশ্বকাপ খেলা দলের বিরুদ্ধে গোল করে ও সারাজীবন মনে রাখবে। ওর ভবিষ্যত উজ্জ্বল।’
গোল করে খুশি সনফিদা। একইসঙ্গে হতাশ ম্যাচ হেরে। বলেন, ‘ এই ধরনের বড় মঞ্চে খেলে অনেককিছু শিখলাম। সবচেয়ে শিক্ষা হল, রেফারির শেষ বাঁশি না বাজা পর্যন্ত লড়াই শেষ হয় না। শেষমিনিটের গোল হজমটা সত্যি মানা যাচ্ছে না।’
সঙ্গীতা, মনীষাদের পরের ম্যাচ শনিবার প্রাক্তন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জাপানের বিরুদ্ধে। যে জাপান এএফসি এশিয়ান কাপে ১৭ বার অংশ নিয়ে ১৫ বার সেমিফাইনাল খেলেছে। নকআউট পর্বে যেতে হলে ভারতীয় দলকে অসাধ্যসাধন করতে হবে জাপানের বিরুদ্ধে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
