অলস্পোর্ট ডেস্ক: অ্যাথলিট তেজস্বিন শঙ্কর জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার ঘোষণার ক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিলম্বের জন্য যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়ার খবর অনুযায়ী, সরকার বর্তমানে অযোগ্য বিজয়ীদের বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যার ফলে বহু কৃতী ক্রীড়াবিদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
আনুষ্ঠানিক নির্বাচন কমিটি প্রায় চার মাস আগেই, গত ডিসেম্বরে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়া সত্ত্বেও, মন্ত্রক এই প্রক্রিয়াটি আপাতত স্থগিত রেখেছে। মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ ক্রীড়াবিদদের সমালোচনার মুখে পড়েছে; তাঁদের মতে, এই পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়া কমিটির কর্তৃত্বকে খর্ব করে এবং যাঁরা ইতিমধ্যেই কঠোর মানদণ্ড পূরণ করেছেন, তাঁদের ওপর অহেতুক মানসিক চাপ সৃষ্টি করে।
‘এক্স’ প্ল্যাটফর্মে করা একটি পোস্টে তেজস্বিন শঙ্কর লিখেছেন, ‘‘ডিসেম্বর মাসে যখন পুরস্কারের জন্য সুপারিশকৃত নামগুলোর অনানুষ্ঠানিক তালিকা প্রকাশ্যে এসেছিল, তখনই—অর্থাৎ ‘তার আগেই’—এ বিষয়টি নিয়ে ভাবা উচিত ছিল। ৪ মাস ‘পরে’ নয়। এই বিলম্ব কেবল ক্রীড়াবিদ ও কোচদের মনোবলই ভেঙে দেয় না, বরং এটি এক ধরণের অসম্মানেরও লক্ষণ।’’
তবে মন্ত্রকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো এই বিলম্বের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছে যে, পুরস্কারগুলোর মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার স্বার্থেই এই পুনঃমূল্যায়ন প্রক্রিয়াটি অপরিহার্য।
এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রকের এক সূত্র জানিয়েছে, ‘‘বর্তমানে অর্জুন পুরস্কারের সুপারিশ তালিকাটি পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, এই পুরস্কারগুলোর গুরুত্ব বা মর্যাদা যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। এমনটা হওয়া উচিত নয় যে, দেশের আনাচে-কানাচে আমরা অজস্র অর্জুন পুরস্কারজয়ী দেখতে পাব, অথচ তাঁদের কাছে তাঁদের কৃতিত্ব বা সাফল্যের কথা জানতে চাইলে দেখানোর মতো বিশেষ কিছুই থাকবে না।’’
খবর অনুযায়ী, হকি তারকা হার্দিক সিংই একমাত্র ক্রীড়াবিদ, যিনি দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া সম্মান ‘খেল রত্ন’-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন। অর্জুন পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মোট ২৪ জন ক্রীড়াবিদের নাম রয়েছে; এই তালিকায় আছেন কিশোরী দাবা বিস্ময় দিব্যা দেশমুখ, তেজস্বিন শঙ্কর এবং আরতি পাল—যিনি ‘যোগাসন’ খেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই বিভাগ থেকে মনোনীত হওয়া প্রথম ক্রীড়াবিদ।
মন্ত্রক আরও জানিয়েছে যে, তারা এখন আর কোনও ‘ব্যক্তিগত বিচার-বিবেচনা-নির্ভর প্যানেল’-এর ওপর নির্ভর না করে, বরং একটি কঠোর ও ‘পয়েন্ট-ভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা’ চালু করার দিকেই অগ্রসর হতে চায়।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘‘বিষয়টি অনেকটা পুরস্কারের অর্থরাশির মতোই—আপনি যদি অলিম্পিকে কোনও পদক জেতেন, তবে আপনার প্রাপ্য ৭৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারের অর্থ পেতে আপনাকে আলাদা করে কোনও আবেদনপত্র বা ফর্ম পূরণ করতে হয় না। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাটিই আপনার সাফল্যের বিষয়টি শনাক্ত করে নেয় এবং যথাযথভাবে আপনার অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করে দেয়। ঠিক একইভাবে, যে ক্রীড়াবিদ পুরস্কারের জন্য নির্ধারিত প্রয়োজনীয় মানদণ্ড বা যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তাঁকে পুনরায় কোনও প্যানেলের সামনে মূল্যায়নের জন্য দাঁড়ানোর প্রয়োজন হওয়া উচিত নয়।’’
ঐতিহ্যগতভাবে, প্রতি বছর ২৯ অগস্ট ‘জাতীয় ক্রীড়া দিবস’ উপলক্ষে ভারতের রাষ্ট্রপতি এই পুরস্কারগুলো প্রদান করে থাকেন; এই দিনটি হকি কিংবদন্তি মেজর ধ্যানচাঁদের স্মৃতির প্রতি উৎসর্গীকৃত। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে এই সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় এখনও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের কোনও নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করেনি; ফলে দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদদের মনে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে যে, চূড়ান্ত ও কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ায় তাঁদের নাম টিকে থাকবে কি না।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
