মুনাল চট্টোপাধ্যায় : বাঙালির বারো মাসে তের পার্বনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে গেছে কলকাতার ময়দানের প্রাচীন থেকে নবীন ক্লাবগুলোর বারপুজো ঐতিহ্য , আবেগ। যা প্রতিবছরের মতো এবারও উৎসবের চেহারা নিয়েছিল ময়দান জুড়ে ছোট থেকে বড় ক্লাবের মাঠ ও তাঁবুতে ফুটবলার, কর্তা, সদস্য-সমর্থকদের উপচে পড়া উন্মাদনায়।
মঙ্গলবার গাজনের সং, চড়কতলার মেলার ভেঁপুর শব্দ আর গরম জিলিপির স্বাদ মুখে দিয়ে রাতে ঘুমোতে গিয়েছিল বাঙ্গালি। সকাল সকাল ওঠার তাড়া মাথায় নিয়ে। সেটাই তো স্বাভাবিক। পাড়ায় পাড়ায় কচি কাঁচা ও আবাল-বৃদ্ধ-বনিতার কন্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের সুরে নতুন বছরের আগমনের বার্তা নিয়ে পথ চলা প্রভাত ফেরি ঘুম ভাঙিয়েছে বাঙালি জীবনের। ভিড় বাড়ার আগে ছোট-বড় ব্যবসায়ীর দল লাল শালুতে মোড়া নতুন হিসেবের খাতা আর কাঁকে করে লক্ষ্মী-গণেশকে নিয়ে মন্দিরে মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। বাঙালি নববর্ষের প্রথম দিন বলে কথা। নতুন বছর আর হালখাতা তো সমার্থক হয়ে গেছে যুগ যুগ ধরে।
আর কলকাতা ময়দান জুড়ে তখন এক অন্য ব্যস্ততা। ইস্টবেঙ্গল যখন লাল হলুদ ফুলে ফুলে ঢেকেছে, তখন মোহনবাগানে সবুজের সমরোহ। যেন কে কত নিজের বর্ষবরণের দিন সাজাতে পারে, তার প্রতিযোগিতা। দু’মাঠেই পুরোহিতের সময় নেমে বারপুজোয় হাজির প্রাক্তন থেকে বর্তমান ফুটবলার, কর্তা, সদস্য-সমর্থকরা। সকলেরই চোখে মুখে এক উজ্জ্বল হাসি, ভেতরে জমে থাকা যন্ত্রণা থাকলেও, তা ছিল এটা ভুলে থাকার দিন। শুধু নির্মল আনন্দ উপভোগ করার দিন।
মোহনবাগানের বারপুজো শেষে মঞ্চে সভাপতি দেবাশিস দত্ত, সচিব সৃঞ্জয় বসু, সহসভাপতি শমীক বসুর হাত দিয়ে মোহনবাগান ক্লাবের নতুন জার্সি প্রকাশে সদস্য-সমর্থকদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। ‘রিপ্লে’ নামের সংস্থা আগামী ৫ মরশুমের জন্য মোনবাগান ক্লাবের হকি, ক্রিকেট, অ্যাথেলেটিক্স মতো খেলাধুলোর প্রসারে ও সাফল্য পেতে গাঁটছড়া বাঁধল বছরের নতুন দিনে। বারপুজোয় কর্তাদের সঙ্গে পুজোয় অংশ নেন মোহনবাগান ফুটবল দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মনবীর ও শুভাশিস বসু। ইস্টবেঙ্গলে লাল হলুদের জুনিয়র ও মহিলা ফুটবলারদের বারপুজোর সংকল্পের সময় হাজির থাকা বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। লাল হলুদের সংকল্পে ট্রফি জেতার অঙ্গীকার।
বর্ষবরণের উৎসবে মাতোয়ারা বাঙালির লাল হলুদ ও সবুজ মেরুন সমর্থকদের মন ভরানোর সঙ্গে সঙ্গে পেট পুজোর ব্যবস্থা থাকবে না, সেটা কী হয়! দু’প্রধানের ক্লাবেই সেই ঐতিহ্যের রীতি মেনে খাওয়ানোর ঢালাও ব্যবস্থা। আর স্বাদ নিতে দু’ক্লাবেই লম্বা লাইন। মোহনবাগানে এর সঙ্গে বাড়তি প্রাপ্তি ঋষি পান্ডার মধুর সঙ্গীত পরিবেশনা।
ক্লাব হিসেবে ছোট হলেও হৃদয়ে ও ইতিহাসে সমানভাবে বড় খিদিরপুর, এরিয়ান, কাস্টমস ক্লাবের বারপুজোর অনেক মানুষের আনাগোনা। তার মধ্যে উল্লোখযোগ্য ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কল্যান চৌবের উপস্থিতি।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
