অলস্পোর্ট ডেস্ক: ক্রিকেট কানাডাকে ঘিরে চলতি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং এবং একটি ম্যাচ-ফিক্সিং কেলেঙ্কারির মধ্যের যোগসূত্র। সিবিসি নিউজের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সময় দলের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের প্রভাব থাকতে পারে। এই পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কানাডা দলের অধিনায়ক দিলপ্রীত বাজওয়া। তাঁর অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগের বিষয়টি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে; অভিযোগ উঠেছে যে, তাঁকে সমর্থন করার জন্য দলের খেলোয়াড়দের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি অভিযোগ রয়েছে যে, দলের নির্দিষ্ট কিছু খেলোয়াড়কে সমর্থন না করলে গুরুতর পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে—এমন হুঁশিয়ারিও কাউকে কাউকে দেওয়া হয়েছিল।
‘‘তারা সরাসরি তাঁকে এই কথাগুলোই বলেছিল যে, ‘তোমাকে অবশ্যই এই লোকগুলোর (খেলোয়াড়দের) খেয়াল রাখতে হবে। এদের কাউকেই দল থেকে বাদ দেওয়া চলবে না। যদি এদের বাদ দেওয়া হয়, তবে তুমি বিপদে পড়বে।’ স্বাভাবিকভাবেই, তাঁর জন্য বিষয়টি অত্যন্ত ভীতিকর ছিল,’’ ‘নোয়া’ ছদ্মনামে পরিচিত এক সূত্র এই তথ্য জানিয়েছেন।
পরিস্থিতিটি এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) নজরে এসেছে এবং সংস্থাটি তাদের দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের সম্ভাব্য ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের আওতায় থাকা ম্যাচগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো চেন্নাইতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার বিশ্বকাপ ম্যাচটি।
‘‘এই মুহূর্তে অভিযোগগুলোর মূল বিষয়বস্তু বা সারমর্ম নিয়ে আমরা কোনও মন্তব্য করতে পারছি না,’’ বলেছেন আইসিসির অন্তর্বর্তীকালীন ইন্টিগ্রিটি চিফ অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ।
তবে এবার জানতে হবে কানাডা ম্যাচ-ফিক্সিং কেলেঙ্কারিটি আসলে কী?
একটি তথ্যচিত্রে ক্রিকেট কানাডার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সমস্যা—যার মধ্যে রয়েছে দুর্বল পরিচালনা ব্যবস্থা, প্রশ্নবিদ্ধ দল নির্বাচন এবং সম্ভাব্য ম্যাচ-ফিক্সিং—তুলে ধরার পরপরই এই বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ম্যাচগুলোর একটি হল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কানাডার পরাজয়ের ম্যাচটি; যেখানে তারা ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে বা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল। বিশেষ করে বাজওয়ার করা একটি ওভার সবার নজর কেড়েছে, যে ওভারে একটি ‘নো-বল’ ও একটি ‘ওয়াইড’সহ মোট ১৫ রান দিয়েছিলেন তিনি।
এছাড়া ফাঁস হওয়া একটি ফোন রেকর্ডিংকে কেন্দ্র করেও বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে, যেখানে দলের প্রাক্তন কোচ খুররম চৌহানকে বলতে শোনা গিয়েছে যে, দল নির্বাচনের বিষয়ে বোর্ডের সদস্যদের পক্ষ থেকে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ওই রেকর্ডিংয়ে ম্যাচ-ফিক্সিংয়ের সম্ভাব্য প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। দলের প্রাক্তন কোচ পাবুদু দাসানায়েকেও একই ধরনের অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং বর্তমানে তিনি বোর্ডের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন।
এবার সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি হল, খেলোয়াড়দের হুমকি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের ভূমিকা থাকার অভিযোগ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল এবং তাঁদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তাঁরা দলের নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে সমর্থন করেন। “আমরা জানি তুমি কোথায় থাকো। বিষ্ণোই গ্রুপের হাত থেকে তুমি পালাতে পারবে না,”—হুমকিমূলক বার্তাগুলোর একটির কথা উল্লেখ করে বলেন নোয়া।
অভিযোগ অনুযায়ী, এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বাজওয়া যাতে দলের অধিনায়ক হন এবং নির্দিষ্ট কয়েকজন খেলোয়াড় যাতে দল থেকে বাদ না পড়েন—তা নিশ্চিত করা। এই পরিস্থিতি দলের ভেতরে ভীতির সঞ্চার করেছিল এবং এমনকি কর্মকর্তাদেরও প্রভাবিত করেছিল; যার ফলে কেউ কেউ পুলিশের নিরাপত্তা চেয়েছিলেন, আবার কেউ কেউ নিজেদের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
তদন্ত এখনও চললেও, এই ঘটনাটি ইতিমধ্যেই কানাডায় খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং ক্রিকেটের সততা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
