অলস্পোর্ট ডেস্ক: মনুষত্ব ও মানবিকতার নির্দশন এখনও বেঁচে আছে বলেই বিশ্বের একাংশ জুড়ে রক্তাক্ত হানাহানির মাঝেও পৃথিবীটা এখনও বাসযোগ্য অধিকাংশ মানুষের জন্য। তেমনই এক দৃষ্টান্ত রেখেছেন সিঙ্গাপুরের ফুটবল পরিবারের সদস্যরা। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সিঙ্গাপুর জাতীয় দলের ৫১ বছর বয়সী গোলকিপার রেজাল হাসান স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। প্রাণসংশয় হয়েছিল। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন ফিরে পেলেও এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি স্ট্রোকের ধাক্কা পুরোপুরি কাটিয়ে।
জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপারকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরাতে উদ্যোগ নিয়েছেন রেজালের প্রাক্তন সতীর্থ থেকে বর্তমান ফুটবলার ও তাঁর ঘণিষ্ঠ বন্ধুরা। রেজালের চিকিৎসার যাতে কোনও ত্রুটি না হয় আর্থিক কারণে ও বাকি জীবনটা সাচ্ছন্দে কাটে, তার জন্য ফুটবলার ও বন্ধুরা একটি প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করেছিল শনিবার টামপাইন্সের মাঠে। তাতে অংশ নেয় স্পোর্টিং টামপাইন্স ও ক্লাব সুকান ড্রামাটিস। এই ম্যাচের সংগৃহীত অর্থ রেজালের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরে অন্যভাবেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া হবে রেজালের জন্য।
প্রদর্শনী ম্যাচে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিঙ্গাপুরের সংস্কৃতি, সামাজিক ও যুব দপ্তরের কার্যকরী মন্ত্রী ডেভিড নিও, রেজালের সতীর্থ জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলার মালেক আওয়াব, নাজরি নাসির ও ফান্ডি আহমদ।
সিঙ্গাপুরের স্থানীয় প্রচারমাধমের খবর অনুযায়ী রেজাল এখন সামান্য কয়েকপা হাঁটতে পারলেও, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। এখনও হাতের জোর ফেরেনি। যে হাত দিয়ে তিনি অনেক গোল বাঁচিয়েছেন, সেই হাতের আঙুলে এখনও পুরো সাড় ফেরেনি। তাই তাঁকে অধিকাংশ সময় কাটাতে ও চলাফেরা করতে হয় হুইলচেয়ারে। প্রদর্শনী ম্যাচেও এসেছিলেন হুইলচেয়ারে। ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ সালের সময়কালে ৬০টি ম্যাচে সিঙ্গাপুর জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি গায়ে চাপানো ও ১৯৯৮ সালে ঐতিহসিক টাইগার কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা নেওয়া রেজালের অবস্থা দেখে ও ম্যাচ শুরুর ঠিক আগে হুইলচেয়ারে বসা জাতীয় দলের নায়কের বক্তব্য শুনে অনেকের চোখ ভিজে উঠেছিল।
রেজালের স্ত্রী সুহেইআ সাহারি স্বামীকে সেবার মাধ্যমে সুস্থ করে তুলতে স্কুল ক্যান্টিনের ব্যবসা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন। ফলে রেজালের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের অভাব ছিল। সেটা বুঝেই তড়িঘড়ি সকলে এগিয়ে এসেছেন রেজাল ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সাহায্যে। স্পোর্টিং টামপাইন্স ক্লাবের সভাপতি ইয়াজরুল রহমান ইয়াসিন বলেন, ‘ আমি নিজে রেজালের খেলা দেখে বড় হয়েছি। জাতীয় দল ছাড়াও রেজাল সিঙ্গাপুর আর্মড ফোর্স, ট্যাম্পাইন রোভার্স, উডল্যান্ডস ওয়েলিংটনের মতো নামী ক্লাবে খেলেছিলেন। লিগ খেতাব ও সিঙ্গাপুর কাপের পাশাপাশি টাইগার কাপ জেতার কৃতিত্ব তাঁর আছে। যখন জানতে পারি রেজাল স্ট্রোকের পর খুব খারাপ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন, কোনও আয় নেই, তখন ঠিক করি জাতীয় দলের প্রাক্তন গোলকিপারের জন্য বিশেষ কিছু একটা করা দরকার। তাই এই প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন।’
ইয়াজরুল জানিয়েছেন, এই প্রদর্শনী ম্যচের মাধ্যমে তাঁরা একটি জনজাগরণ তৈরি করতে চেয়েছেন,যাতে সিঙ্গাপুরের জাতীয় দলের প্রাক্তন ফুটবলারের পাশে আরও বেশি করে দাঁড়ান, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁরা ‘গিভ.এশিয়া’ নামে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও আর্থিক অনুদান দেওয়ার আবেদন রাখছেন সকলের কাছে, যাতে রেজালের সুস্থ হয়ে ওঠার পথটা আরও সুগম হয়। এখনও পর্যন্ত ৭৭০০ ডলার অর্থ উঠেছে তহবিলে। দরকার আরও। গোটা অর্থটাই রেজালের চিকিৎসা, তাঁর স্বাভাবিক জীবনে ফেরা ও পরিবারের ভরণপোষণে কাজে লাগবে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
