অলস্পোর্ট ডেস্ক: ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন (বিডব্লুএফ) শনিবার এই খেলার ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি নিয়ম পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে। ডেনমার্কের হোরসেন্সে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ‘৩x১৫’ স্কোরিং পদ্ধতিটি গ্রহণ করেছে। প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই প্রস্তাবটি পাস হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হবে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের চলে আসা ‘৩x২১’ পয়েন্ট পদ্ধতির অবসান ঘটল, যা গত প্রায় দুই দশক ধরে আধুনিক ব্যাডমিন্টনের পরিচয় হয়ে উঠেছিল। নতুন এই পদ্ধতির অধীনে, ম্যাচগুলো ২১ পয়েন্টের পরিবর্তে ১৫ পয়েন্টের ‘সেরা-তিন গেম’ ভিত্তিতে খেলা হবে। বিডব্লুএফ-এর যুক্তি হলো, এই সংক্ষিপ্ত ফর্ম্যাটটি ম্যাচের সময়সূচি ব্যবস্থাপনাকে উন্নত করবে, খেলায় আরও বেশি উত্তেজনার মুহূর্ত তৈরি করবে এবং খেলোয়াড়দের সার্বিক কল্যাণে সহায়তা করবে।
বিডব্লুএফ-এর সভাপতি খুনয়িং পাতামা লিসওয়াদত্রাকুল এই সিদ্ধান্তকে ব্যাডমিন্টনের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং বলেছেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের কথা বিবেচনা করে এই খেলার বিবর্তন বা পরিবর্তন প্রয়োজন ছিল।
লিসওয়াদত্রাকুল বলেন, “আমরা এমন একটি খেলার কাঠামো গড়ে তুলছি যা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আকর্ষণ তৈরি করবে; একই সঙ্গে আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যতের জন্যও বিনিয়োগ অব্যাহত রাখছি।”
“এই ‘৩x১৫’ স্কোরিং পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো আরও বেশি রোমাঞ্চকর ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যাডমিন্টন উপহার দেওয়া, সময়সূচি ব্যবস্থাপনার উন্নতি ঘটানো, ম্যাচের সময়কালকে আরও সুসংহত ও নির্দিষ্ট করা এবং খেলোয়াড়দের শারীরিক সুস্থতা ও দ্রুত সেরে ওঠার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সুবিধা নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, ম্যাচের শুরুর দিকেই তীব্র চাপের মুহূর্তগুলো তৈরি হওয়ার ফলে খেলাগুলো আরও হাড্ডাহাড্ডি হবে এবং ম্যাচের শেষটা আরও নাটকীয় হয়ে উঠবে; যা ভক্তদের প্রথম ‘র্যালি’ থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত খেলার সঙ্গে জুড়েথাকতে সাহায্য করবে।
বছরের পর বছর ধরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্ট অংশ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার পরেই এই সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করা হয়েছে। বিডব্লুএফ জানিয়েছে যে, এই পরিবর্তনটি উদ্ভাবন, টেকসই উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
তবে, এই পদক্ষেপটি সমালোচনার ঊর্ধ্বে ছিল না। বিশ্বের প্রাক্তন ১ নম্বর তারকা এবং ভারতের ব্যাডমিন্টন আইকন সাইনা নেহওয়াল এই পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে, সংস্কারের নামে এই খেলাটি যেন তার নিজস্ব মৌলিক সত্তা বা ‘এসেন্স’ হারিয়ে না ফেলে।
সাইনা এর আগে বলেছিলেন, “যদি কোনও পরিবর্তন আনা হয়, তবে তা নিশ্চিত করা উচিত যে—র্যালিগুলোর গুণমান এবং খেলার প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্য যেন কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। দিন শেষে, মূল মনোযোগটি অবশ্যই সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা এবং খেলার প্রকৃত চেতনার ওপরই থাকা উচিত।”
সাইনার মতো তারকাদের এমন উদ্বেগের জবাবে লিসওয়াদত্রাকুল জোর দিয়ে বলেছেন যে, ব্যাডমিন্টনের মূল পরিচয় বা স্বকীয়তা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ণই থাকবে। “আমরা জানি যে, পরিবর্তন অনেক সময় উদ্বেগের সৃষ্টি করতে পারে—বিশেষ করে এমন একটি খেলায়, যার ঐতিহ্য এতই সুদৃঢ়। তবে এই সিদ্ধান্ত ব্যাডমিন্টনের মৌলিক প্রকৃতিকে বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করে না। এই খেলার দক্ষতা, কৌশল, শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জ এবং এর সহজাত নাটকীয়তা—সবই অপরিবর্তিত থাকবে,” তিনি বলেন।
“এই পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্য হলো ব্যাডমিন্টনকে বিশেষত্ব দানকারী উপাদানগুলোকে সুরক্ষা প্রদানের মাধ্যমে খেলাটিকে আরও শক্তিশালী করে তোলা; পাশাপাশি এটি নিশ্চিত করা যে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়রা যেন দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারেন এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্তদের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে পারেন।”
বিডব্লুএফ জানিয়েছে যে, তারা এখন এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি যেন অত্যন্ত মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকেই পূর্ণ মনোযোগ দেবে। একই সঙ্গে তারা খেলোয়াড়, কোচ এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফেডারেশনগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবে; কারণ ২০২৭ সাল থেকে ব্যাডমিন্টন খেলাটি যে নতুন আঙ্গিকে বা পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তার প্রস্তুতিপর্ব এখন পুরোদমে চলছে।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
