অলস্পোর্ট ডেস্ক: আন্তর্জাতিক টেস্টিং এজেন্সি যে সংস্থাটি অলিম্পিক গেমস এবং অন্যান্য প্রধান বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলোতে ডোপিং-বিরোধী কর্মসূচি পরিচালনা করে—তার প্রধান ভারতে ডোপিং-এর ঘটনার উচ্চ হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বিশেষ করে সেই বিষয়টিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যেখানে অ্যাথলেটরা ‘পরীক্ষার আগেই আগাম নোটিশ’ পেয়ে যান এবং ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি হলে নমুনা দিতে অস্বীকৃতি জানান বা এড়িয়ে চলেন। আইটিএ-এর মহাপরিচালক বেঞ্জামিন কোহেন একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি এই বার্তা দিয়েছে যে, ভারত যদি ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজন করতে চায়, তবে দেশটিকে ‘প্রশাসন ও কাঠামোগত ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কার’ সাধন করতে হবে।
‘দ্য অ্যাথলেটিক’—যে সংবাদমাধ্যমটি ‘দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর হয়ে ক্রীড়া বিষয়ক সংবাদ পরিবেশন করে—তাদের প্রতিবেদনে কোহেনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘‘ভারতে ডোপিং-এর সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং মাঠপর্যায়ে নানা ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে আমরা জানতে পারছি।’’
‘‘আমরা এমন সব ঘটনার কথাও শুনছি, যেখানে ডোপিং পরীক্ষার সময় অ্যাথলেটরা পালিয়ে যান; এছাড়া আমরা এও জানতে পারছি যে (পরীক্ষার আগেই) অ্যাথলেটদের আগাম নোটিশ দেওয়া হচ্ছে।’’ আইওসি-এর পক্ষে ডোপিং-বিরোধী পরীক্ষা-নিরীক্ষা তদারকি করার পাশাপাশি, লুজান-ভিত্তিক এই আইটিএ সংস্থাটি প্রায় ৫০টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ফেডারেশনের ডোপিং-বিরোধী কর্মসূচিও পরিচালনা করে থাকে।
কোহেন জানান, ইটালির মিলানো কর্টিনায় অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক শীতকালীন অলিম্পিকের সময় তিনি নয়াদিল্লি-ভিত্তিক ‘ন্যাশনাল অ্যান্টি-ডোপিং এজেন্সি’ (নাডা) এবং ‘ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন’ (আইওএ)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বলেন, আইটিএ-এর সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে তাদের যে আপাত আগ্রহ ও সদিচ্ছা তিনি লক্ষ্য করেছেন, তা তাঁকে অত্যন্ত আশান্বিত করেছে।
তবে তিনি এ কথাও স্বীকার করেছেন যে, ভারতকে আইটিএ-এর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে রাজি করানো খুব একটা সহজ কাজ হবে না; কারণ ভারত হয়তো বিষয়টিকে তাদের নিজস্ব (ডোপিং-বিরোধী) ব্যবস্থার ব্যর্থতারই একটি পরোক্ষ স্বীকারোক্তি হিসেবে গণ্য করতে পারে।
‘‘আমি অকপটেই বলছি: আইটিএ-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়ে এখনও কিছুটা অনীহা বা প্রতিরোধ কাজ করছে। এর কারণ হল, ভারতে এমন একটি ধারণা বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত থাকতে পারে যে, এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা মানেই হল তাদের নিজস্ব ব্যবস্থার ব্যর্থতা স্বীকার করে নেওয়া; অথবা এমনটা মনে করা হতে পারে যে, তারা নিজেদের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট দক্ষ বা যোগ্য নয়—আর ঠিক সেই কারণেই হয়তো তাদের একটি স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে হাত মেলাতে হচ্ছে।’’
‘‘ভারতীয় ক্রীড়া মহলে এই বিষয়টিকে ঠিক কোন দৃষ্টিতে দেখা হবে, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় বা অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবে আমার বিশ্বাস, তারা (ভারত) সঠিক পথেই এগোচ্ছে; কারণ এখন এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, আইওএ এবং ক্রীড়া মন্ত্রণালয়—উভয় পক্ষই এই বিষয়ে কার্যকর কিছু করতে আগ্রহী। তারা এই খাতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। তাদের কাছে প্রয়োজনীয় সম্পদ বা রসদ রয়েছে, তাই আমার মনে হয় এটি এখন কেবল সময়ের ব্যাপার,’’ তিনি বললেন।
গোয়েন্দা তথ্য ও সংবাদ আদান-প্রদান, ডোপ পরীক্ষার পরিকল্পনাগুলোর সমন্বয় সাধন এবং নমুনা সংগ্রহ ও শিক্ষার মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র বা বিষয় নিয়ে যৌথভাবে কাজ করার লক্ষ্যে—আইটিএ (আন্তর্জাতিক টেস্টিং এজেন্সি) বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান সংখ্যক ‘জাতীয় ডোপিং-বিরোধী সংস্থা’র সঙ্গে কাজ করে চলেছে।
বিশ্ব ডোপিং-বিরোধী সংস্থার (ওয়াডা) ডোপিং-অপরাধীদের তালিকায় ভারত টানা তিন বছর ধরে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছে; বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে ভারতেই ডোপ পরীক্ষার ফলাফলে ‘পজিটিভ’ হওয়ার হার সর্বাধিক।
দেশের ২০৩০ সালে আহমেদাবাদে কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের কথা রয়েছে এবং গুজরাটের এই রাজধানী শহরেই ২০৩৬ সালের অলিম্পিক গেমস আয়োজনেরও আকাঙ্ক্ষা পোষণ করছে ভারত। কাতারের রাজধানী দোহাও ২০৩৬ সালের অলিম্পিক আয়োজনের দৌড়ে শামিল রয়েছে; ধারণা করা হচ্ছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে হতে চলা ২০২৮ সালের অলিম্পিক গেমসের আগেই এই আসরের আয়োজক শহরের নাম ঘোষণা করা হবে।
গত মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল অ্যান্টি-ডোপিং ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশনস নেটওয়ার্ক’ বিষয়ক একটি সম্মেলনের ফাঁকে ওয়াডা-এর প্রেসিডেন্ট ভিটোল্ড বাঙ্কা মন্তব্য করেন যে, ভারতের ডোপিং সমস্যাটি যে কতটা গুরুতর—সে বিষয়ে ‘‘কেউই অন্ধ বা উদাসীন নয়’’; তবে তিনি এ কথাও স্বীকার করেন যে, এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে ‘‘আন্তরিক প্রচেষ্টা’’ চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, পারফরম্যান্স বৃদ্ধিকারী অসুধ এবং স্টেরয়েড উৎপাদনের ক্ষেত্রে ভারতই বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক।
ডোপিং-বিরোধী বৈশ্বিক লড়াইয়ে স্বাধীনতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে—ওয়াডা এবং আইওসি-এর তত্ত্বাবধানে ২০১৮ সালে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান বা ফাউন্ডেশন হিসেবে আইটিএ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
