Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

জার্মানি ৭ (‌হাভার্টজ-‌২,মেচা,স্লটারবেক,মুসিয়ালা,ব্রাউন,উন্ডাভ)‌               কুরাসাও ১(‌কোমানসিয়া)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ গত দু’‌টো বিশ্বকাপে জার্মানির কোনও কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। ২০১৪ ব্রাজিল বিশ্বকাপ জয়ী জার্মানি ২০১৮ রাশিয়া ও ২০২২ কাতাপ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ জিততে পারেনি। ২০২৮য় মেক্সিকো ও ২০২২য়ে জাপানের কাছে প্রথম ম্যাচে হেরেছিলই শুধু নয়, গ্রুপ লিগের বাধাই টপকাতে পারেনি। অথচ ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে সেমিফাইনালে বেলো হরাইজেন্তের মাঠে ৭-‌১ গোলে হারিয়ে জার্মানি গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল। তারপরের দুটো বিশ্বকাপে ছন্দ হারানো জার্মানি আবার স্বমহিমায় ফিরল ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপে। হিউস্টনের মাঠে বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলার সুযোগ পাওয়া কুরাসাওকে ৭-‌১ গোলে চূর্ণ করে। বেলো হরাইজেন্তের জয়ের স্মৃতি ফেরাল জুলিয়ান নাগেলসম্যানের জার্মানি। তিনি চলতি বিশ্বকাপের সর্বকনিষ্ঠ কোচ। উল্টোদিকে কুরাসাওয়ের কোচের ভূমিকায় ছিলেন বর্ষীয়ান ডিক অ্যাডভোকেট। নাগেলসম্যানের সঙ্গে যাঁর বয়সের পার্থক্য প্রায় ৪০ বছর।

ম্যাচের আগেই জার্মানির নবীন কোচ নাগেলসম্যান বলেছিলেন, কুরাসাও ম্যাচটা তাঁদের কাছে ডেভিড আর গোলিয়াথের লড়াইয়ের মতো। কথাটা কিছু ভুল বলেননি। জার্মানির ফিফা র‌্যাঙ্কিং যেখানে ১০, সেখানে কুরাসাওয়ের র‌্যাঙ্কিং ৮২। ৪ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিরুদ্ধে অঘটন ঘটানো সম্ভব হবে না এটা জানাই ছিল। নবীন ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের মিশ্রণ ঘটিয়ে এবার দল গড়ে বিশ্বকাপ জেতার লক্ষ্যে এসেছেন কোচ নাগেলসম্যান। গোলের নীচে ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য ম্যানুয়েল নয়ার। যিনি জাতীয় দল থেকে অবসর নিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁকে সিদ্ধান্ত বদল করে দলে ফিরিয়েছেন জার্মানির কোচ। তবে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ৭ গোল করার ম্যাচে নয়ারের হাত জার্মানিকে ১ গোল খাওয়া থেকে বাঁচাতে পারেনি। সম্ভবত নয়ারের আগের সেই রিফ্লেক্স বা ক্ষিপ্রতা এখন আর নেই। পরের ম্যাচগুলোয় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বোঝা যাবে নয়ার নিজের সেরা সময়ের ফর্মে আছেন কিনা। না থাকলে কোচ নাগেলসম্যানকে বিকল্প গোলকিপার নামানোর কথা ভাবতে হবে।

২০০২ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবকে ৮-‌০ গোলে হারিয়েছিল জার্মানি। কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে সেই রেকর্ড ভেঙে দেওয়া লক্ষ্য নিয়েই যেন নেমেছিলেন জার্মানির ফুটবলাররা। যদিও শুরুতে মেচার গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর মুহূর্তের আলগা ভাবের কারণে জার্মানি গোল হজম করেছিল, কিন্তু সেই গোল খাওয়া তাদের জাত্যাভিমানে আঘাত করেছিল। ২১ মিনিটে লিভানো কোমানসিয়ার গোলে কুরাসাও সমতা ফিরিয়েছিল। কুরাসাওয়ের প্রথম গোলদাতা হিসেবে বিশ্বকাপের ইতিহাসে তাঁর নামটা লেখা হয়ে গেল। কিন্তু তাদের সে উল্লাস তো ক্ষণস্থায়ী ছিলই, উল্টে সেটাই দুঃস্বপ্নের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কথায় আছে ঘুমন্ত সিংহকে খোঁচা দিয়ে জাগাতে নেই। তাহলে বিপদ। ১ লাখ ৫৮ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের সমর্থকদের মাঠে বসে আরও ৬টা গোল খাওয়া দেখতে হল একরাশ বেদনা নিয়ে। ৬ মিনিটে ফেলিক্স মেচার গোলে জার্মানির জয়ের অভিযান শুরু। আর শেষ ৮৮ মিনিটে হাভার্টজের গোলে। কাই হাভার্টজ নিজে করেছেন ২ গোল। তাঁর প্রথম গোল এসেছিল প্রথমার্ধে সংযুক্তি সময়ের ৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে। মাঝে আর যাঁরা গোল পেলেন জার্মানির জার্সিতে তাঁরা হলেন নিকো শ্লটারবেক(‌৩৮ মিনিট)‌, জামাল মুসিয়ালা(‌৪৭ মিনিট)‌, নাথানিয়াল ব্রাউন(‌৬৮ মিনিট)‌, ডেনিজ উনদাভ(‌৭৮ মিনিট)‌। কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম বেশ কয়েকটা সেভ না করলে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জার্মানির করা ৮-‌০ গোলের রেকর্ড ভেঙে যেত।

তবে কুরাসাওয়ের বিরুদ্ধে ৭-‌১ গোলে জিতে ব্রাজিলের করা ২৩৮ গোলকে টপকে ২৩৯ গোল করার সুবাদে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বাধিক গোল করার নজির গড়ে ফেলল জার্মানি। ২০২৬ বিশ্বকাপের এই তো সবে শুরু। এখন দেখার বাকি ম্যাচগুলোয় ব্রাজিল, জার্মানি বা অন্য দলগুলো কে কত গোল পায়, জার্মানিকে টপকে যেতে পারে কিনা ব্রাজিল বেশি গোল করে, ফাইনালের পথে হেঁটে?‌

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *