ছবি : ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬
অলস্পোর্ট ডেস্ক: অনায়াস ভঙ্গিতেই গ্রুপের বাধা টপকে নকআউটে গেল ৫ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। মিয়ামির মাঠে ভিনিসিয়াস জুনিয়ারের জোড়া ও ম্যাথিয়াস কুনহার করা গোলে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ ফলে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে রাউন্ড অফ ৩২য়ে জায়গা করে নিয়েছে সেলেকাওরা। মরক্কো গ্রুপের অন্য ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়ে ব্রাজিলের সমসংখ্যক ৭ পয়েন্ট পেলেও, তাদের দ্বিতীয় স্থান পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায়। সমস্যায় পড়ল স্কটল্যান্ড। ব্রাজিলের কাছে হেরে গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকলেও, তাদের নক আউটে যাওয়া নিশ্চিত নয়। অন্যান্য গ্রুপের খেলে শেষে বোঝা যাবে তারা সেরা ৮ তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের মধ্যে আসতে পারবে কিনা নক আউটে জায়গা পেতে।
স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচে দুটি উল্লেখ করার মতো বিষয় আছে। এক, ২৫ বছর বয়সী ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার ভিনিসিয়াস গ্রুপ লিগের তিনটি ম্যাচেই গোল পেয়েছেন। তাঁর পকেটে এখন ৪ গোল। রিয়েল মাদ্রিদের ফুটবলার ভিনিসিয়াসের আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে গ্রুপ পর্বের প্রতি ম্যাচে গোল করেছিলেন ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা ফুটবলার জর্জিনহো, রোমারিও, রোনাল্ডো ও রিভাল্ডো। কিলিয়ান এমবাপে, আর্লিং হালান্ডও ৪ গোল করেছেন এখনও পর্যন্ত। তবে এই মুহূর্তে ৫ গোল করে সকলের আগে আছেন মেসি।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল, মিয়ামি ফ্লোরিডার হার্ড রক স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৭৬ মিনিটে কুনহার পরিবর্তে নেইমারের মাঠে নামা। ব্রাজিল কোচ কার্লেস আনসেলোত্তি এই বদলের পথে হাঁটতেই গোটা স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। ৩৪ বয়সী নেইমার জাতীয় দলের জার্সিতে খেললেন ২০২৩য়ের অক্টোবরের পর। অবশ্য নেইমার ম্যাচে দাগ কাটতে পারেননি জাতীয় দলের বাইরে দীর্ঘদিন থাকায়। খেলার গতির সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে। তবে ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তি যে নেইমারকে ধীরে ধীরে ছন্দে ফেরাতে ম্যাচ প্র্যাকটিসের সুযোগ দেবেন, সেটা বোঝা গেছে তাঁর নেওয়া সিদ্ধান্তে। নক আউটে নেইমার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন দলের পক্ষে। সবচেয়ে বড় কথা, নেইমারকে পাশে পেলে ভিনিসিয়াস আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন। সবচেয়ে বড় কথা, গোলের জন্য তখন ভিনিসিয়াসকে একা বাড়তি চাপ নিতে হবে না।
ম্যাচ শেষে ব্রাজিল কোচ আনসেলোত্তির মুখে ছিল ভিনিসিয়াস সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা। বলেন, ‘ বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার ভিনিসিয়াস। আমার কোনও সংশয় ছিল না ভিনিসিয়াসের চলতি বিশ্বকাপটা কেমন যাবে তা নিয়ে। কারণ ও অনেক আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়েছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের সেরাটা তুলে ধরবে বলে। ও দেশের জার্সিতে খেলাটা গর্বের মনে করে। ও ভাল খেলছে, গোল করছে শুধু নয়, স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গোল করেছে হেডে, যেটা একপ্রকার ব্যাতিক্রম ওর খেলায়। আমি জানি ভিনি কী করার ক্ষমতা রাখে।’
ভিনিসিয়াস ৪ গোল করে দলের নক আউটে যাওয়ার রাস্তা প্রশস্ত করলেও সংযত ও ফোকাসড। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘ আমি গোল সংখ্যা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমি বেশি গোল করতে অভ্যস্ত নই। কিন্তু কোচ আনসেলোত্তি আমাকে এমন একটা জায়গায় খেলাচ্ছেন, যেখানে আমি খেলতে পছন্দ করি। সেরাটা দিতে পারছি। গোল করে দলকে জিততে সাহায্য করতে পারছি।’
রিয়েল মাদ্রিদের জার্সিতে ৫৩ ম্যাচে ২২ গোল করেছেন ভিনিসিয়াস। তিনি যে ফর্মে আছেন বলাই বাহুল্য। ভিনিসিয়াস বলেন, ‘ অল্পেই সন্তুষ্ট থাকলে চলবে না। আশা করি ২০২৬য়ের বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলব আমরা। দলের খেলায় খুশি। যে যার কাজটা ঠিকমত করছি। আর সেটা যত বেশি হবে, তত প্রতিপক্ষের বক্সে পৌঁছানো সম্ভব হবে, এবং গোল পাওয়াও।’
নেইমারকে ম্যাচের শেষ ১৪ মিনিটে খেলার সুযোগ দেওয়া নিয়ে কোচ আনসেলোত্তির বক্তব্য, ‘ নেইমার ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। ওর তো খেলার সুযোগ পাওয়া উচিত ছিলই। শুধু দরকার ছিল ওর ফিট হয়ে ওঠা। ফিট হওয়ার জন্য নেইমার প্রচুর পরিশ্রম করেছে। পেশাদারি মনোভাব নিয়ে। ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপ জেতার জন্য ও কতটা আগ্রহী সেটা ও বারবার বলেছে, মাঠে নামার জন্য ছটফট করেছে। ব্রাজিলের হয়ে খেলার জন্য ওর আলাদা কোনও মোটিভেশনের দরকার নেই। ৩৪ বছর বয়সেও ওর খেলার প্রতি আবেগটা একজন বাচ্চা ছেলের মতো। এই বিশ্বকাপে দলকে সাহায্য করার মতো গুন ওর আছে। স্কটল্যান্ড ম্যাচে যেটুকু সময় খেলার সুযোগ পেয়েছে, চেষ্টা করেছে ভাল খেলতে। আগামী ম্যাচগুলোয় নেইমারকে কাজে লাগতে পারে।’
রাউন্ড অফ ৩২য়ে ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ কে হবে, তা নির্ভর করছে অন্য গ্রুপের ফলের ওপর। হল্যান্ড, জাপান বা সুইডেনের মুখোমুখি হতে পারেন ভিনিসিয়াসরা।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
