Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India

স্পেন ২(‌ ফাবিয়ান, মেরিনো)‌                                                  বেলজিয়াম ১(‌কেটালারে)‌

মুনাল চট্টোপাধ্যায়:‌ অন্যান্যবারের মতো বেলজিয়ামের চোকার্স বদনাম এবারও ঘুচল না। লস এঞ্জেলসের সোফি স্টেডিয়ামে বেলজিয়ামকে ২-‌১ গোলে হারিয়ে প্রত্যাশামতোই ফিফা ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গেল স্পেন। ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ জয়ের পর এবারই আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গেল স্প্যানিশ আর্মাডার দল। তাদের সামনে এখন ফাইনাল ওঠার লড়াইয়ে বড় বাধা ফ্রান্স। দু’‌দল মুখোমুখি হবে ডালাস টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে। বেলজিয়াম বধের পর স্পেনের মেগাস্টার লামিনে ইয়ামাল এতটাই আত্মবিশ্বাসী সেমিফাইনাল নিয়ে, তিনি রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, স্পেনকে ভয় পাওয়া দরকার ফ্রান্সের।

মিকেল মেরিনোর ৮৮ মিনিটে গোল বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে সেইফাইনালে নাটকীয় জয় এনে দেয় স্পেনকে। এই জয়ের সুবাদে টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আর্জেন্টিনার নজিরকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ইয়ামালরা। এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হারা পর্যন্ত ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিলেন মেসিরা। একমাত্র এর থেকে বেশি টানা ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড রয়েছে এখনও ইতালির দখলে। ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত ইতালি ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। অথচ তারপরও ইতালি কাতার বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠতে পারেনি। এমনকি এবার ২০২৬ বিশ্বকাপেও ইতালি নেই। স্পেনের এখন দরকার শুধু ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা। তাহলেই তারা ইতালির রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবে। আর যদি বিশ্বকাপ জেতে, তাহলে ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত থাকার অনন্য নজির গড়ে ফেলবে স্পেন।

লুইস ফুয়েন্তের স্পেন শুরু থেকেই বেলজিয়ামকে চাপে ফেলেছিল। ৩০ মিনিটে বেলজিয়াম গোলকিপার কুর্তোয়ার আংশিক সেভ ফাবিয়েন রুইয়ের পায়ে চলে গেলে, তিনি গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দিতে কোনও ভুল করেননি। তবে খেলার গতির বিরুদ্ধে ৪১ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে চার্লস ডি কেটালারে হেডে গোল করে সমতা ফেরান। চলতি বিশ্বকাপে এটাই ছিল স্পেনের প্রথম গোল হজম। তবে ওই গোল খেলেও স্পেনের আক্রমণের ঝাঁজ এতটুকু কমেই। একের পার এক আক্রমণ তুলে এনে বেলজিয়াম রক্ষণকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন ইয়ামালরা। সেই আক্রমণের ঢেউ সামাল দিতে গিয়ে চোট পেয়ে বসেন বেলজিয়ামের বর্ষীয়ান বহু যুদ্ধের নায়ক কুর্তোয়া। তিনি ৭১ মিনিটে মাঠ ছেড়ে চলে গেলে, তাঁর জায়গায় নামেন বিশ্বকাপের মঞ্চে নবাগত সানে লামেনস। অল্পসময় পরে চোট ও ক্লান্তির কারণে বসে যান বেলজিয়ামের আর এক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার কেভিন ডি ব্রুইনে। এই দুটো বদল বেজিয়ামের কাল হল।

বেলজিয়াম ফুটবলারদের বেদম হয়ে পড়তে দেখেই স্পেন কোচ বিরতির পর প্রথমে পেড্রি, টোরেস ও মোক্ষম সময় মিকেল মেরিনোকে মাঠে নামান বদলি হিসেবে। পর্তুগাল ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমে পর্তুগালের বিরুদ্ধে জয়সূচক গোল করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপের জয়ের আশায় জল ঢেলে দেন। এদিনও মেরিনোর ৮৮ মিনিটের গোল বাজিমাত। যদিও এই গোল খাওয়ার জন্য বেলজিয়ামে বদলি গোলকিপার লামেনস পুরোপুরি দায়ি। দূর থেকে নেওয়া স্পেনের ফুটবলারের শট হাতে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। আলগা বল অনুসরণ করে বেলজিয়ামের জালের ভেতর জড়িয়ে দেন মেরিনো।

জয়ের পর বিজয়োল্লাস সেরে স্পেনের সেরা অস্ত্র ইয়ামালের প্রতিক্রিয়া, ‘‌ ফ্রান্সের যদি কাউকে ভয় পেতে হয়, সেটা আমাদেরই করতে হবে। কারণ আমরাই ওদের সাম্প্রতিককালে বারবার হারিয়েছি।’‌ কথাটা ভুল কিছু বলেননি ইয়ামাল। ২০২৪ ইওরো কাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়েছিল স্পেন। তারপর গতবছর নেশনস লিগের ম্যাচে। ইয়ামাল কনিষ্ঠতম ফুটবলার হিসেবে ওই প্রতিযোগিতায় গোল করে নজির গড়েছিলেন। বেলজিয়াম ম্যাচে জয় নিয়ে ইয়ামালের মন্তব্য, ‘‌ বেলজিয়ামের থেকে আমরা মাঠে বেশি ভাল দল ছিলাম। খেলেছিও তেমন। উপভোগ্য ফুটবল উপহার দিয়েছি। বেলজিয়াম অতিরিক্ত রক্ষণে ভিড় বাড়িয়ে আমাদের কাজটা কিছুটা কঠিন করে দিলেও আমাদের জয় এসেছে প্রত্যাশামতোই।’‌

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল ম্যাচ নিয়ে ইয়ামালের জোরালো বক্তব্য, ‘‌ আমরা কাউকে ভয় পাই না। এটা কোনও ভুল নেই, আমরা ও ফ্রান্স, দু’‌দলই শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। বিশ্বমানের দল। বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা দল ফ্রান্স। তবে সেমিফাইনালে ওদের মোকাবিলা করতে তৈরি। দেখাই যাক না কারা শেষপর্যন্ত শেষ হাসি হাসে।’‌ ইয়ামালের মতোই স্পেন কোচ লুই দে লা ফুয়েন্তের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর। ম্যাচ শেষে বলেন, ‘‌ একটা কথা পরিষ্কার ভাবে বলাই ভাল। আমাদের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেমিফাইনালে ওঠায় অবশ্যই খুশি। কিন্তু আমাদের লক্ষ্যটা আরও বড়। আমি আগেও বলেছি এইধরনের ম্যাচ জেতার ক্ষমতা স্পেন রাখে। তার প্রমাণ দিয়ে চলেছে আমার ফুটবলাররা। আগামী ম্যাচেও দেবে এই বিশ্বাস রাখি।’‌

ফ্রান্স এইনিয়ে পরপর তিনটি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলছে। তার মধ্যে ২০১৮ রাশিয়ায় বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রানার্স আর্জেন্টিনার কাছে শেষপর্যন্ত লড়ে। তাই কিলিয়ান এমবাপেরা যে এবারও যে ফাইনালের ওঠার লক্ষ্যে স্পেনকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবেন, সেটা বলাই বাহুল্য। সব থেকে বড় কথা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা এক জমজমাট লড়াই দেখার সুযোগ পাবেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *