Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বুধবার ‘হল অফ ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে এক বিশাল সম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং আইসিসি (ICC) ও চেয়ারম্যান জয় শাহের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। ‘এক্স’ (X)-এ দেওয়া এক পোস্টে সৌরভ লেখেন, এমন সব কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের তালিকায় নিজের নাম যুক্ত হওয়াটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। তিনি লেখেন, ‘‘আমাকে হল অফ ফেম-এ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আইসিসি এবং চেয়ারম্যান জয় শাহকে ধন্যবাদ… এটি অত্যন্ত সম্মানের বিষয়… সর্বকালের হল অফ ফেম-এ জায়গা পাওয়া ১০ জন ভারতীয়ের মধ্যে একজন হতে পারাটা গর্বের… এমন সব মহান খেলোয়াড়দের তালিকায় থাকতে পারাটা চমৎকার।’’ এই ঘোষণাটি এমন সময়ে এল যখন সৌরভ তাঁর ৫৪তম জন্মদিন পালন করছেন। আইসিসি অবশ্য এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা করেনি। আইসিসি হল অফ ফেম সেইসব কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের অসাধারণ কৃতিত্বকে স্বীকৃতি দেয়, যাঁরা এই খেলার সমৃদ্ধ ও প্রাণবন্ত ইতিহাস গড়ে তুলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের বা শেষ ম্যাচ খেলার অন্তত পাঁচ বছর পর একজন খেলোয়াড় এই সম্মানের জন্য বিবেচিত হতে পারেন।

আইসিসির শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে ‘আইসিসি হল অফ ফেম’ চালু করা হয় এবং তখন থেকেই এই খেলার সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের এখানে সম্মানিত করা হয়ে আসছে।

ভারতীয় ক্রিকেটের এক অত্যন্ত টালমাটাল সময়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় দলের অধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। এই বাঁ-হাতি ব্যাটার দলের মানসিকতায় আমূল পরিবর্তন এনেছিলেন; তিনি দলের মধ্যে আগ্রাসী মনোভাব, আত্মবিশ্বাস এবং বিদেশের মাটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো মানসিক দৃঢ়তা সঞ্চার করেছিলেন।

‘কভার’ দিয়ে নান্দনিক শট খেলার জন্য ‘গড অফ অফসাইড’ (God of Offside) হিসেবে পরিচিত সৌরভ ৪২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে মোট ১৮,৫৭৫ রান সংগ্রহ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩৮টি সেঞ্চুরি ও ১০৭টি হাফ-সেঞ্চুরি। তিনি ১১৩টি টেস্ট ম্যাচে ৭,২১২ রান এবং ৩১১টি ওয়ানডে ম্যাচে ১১,৩৬৩ রান করেছেন, যা তাঁকে সব ফর্ম্যাট মিলিয়ে ভারতের অন্যতম সেরা ব্যাটার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অধিনায়ক হিসেবে সৌরভ ১৯৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারতের নেতৃত্ব দেন এবং ৯৭টিতে জয়লাভ করেন। তাঁর অধিনায়কত্বে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য এসেছিল; এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল স্টিভ ওয়ার অপরাজেয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০১ সালের ঐতিহাসিক বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি জয়, ২০০৪ সালে পাকিস্তানে ভারতের প্রথম টেস্ট সিরিজ জয় এবং ২০০০ সালের আইসিসি নক-আউট ট্রফি ও ২০০৩ সালের আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা।

পরবর্তী বছরগুলোতে ভারতীয় ক্রিকেটের গতিপথ নির্ধারণকারী একঝাঁক প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমএস ধোনি, যুবরাজ সিং, হরভজন সিং, জাহির খান, ইরফান পাঠান, গৌতম গম্ভীর এবং বীরেন্দ্র শেহবাগের মতো তরুণ প্রতিভাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন তিনি; এঁদের অনেকেই পরবর্তীতে ম্যাচ-উইনার হয়ে ওঠেন এবং ভারতের আইসিসি শিরোপা জয়ের অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *