Cart Total Items (0)

Cart

All Sports
অক্ষয় কুমার

অলস্পোর্ট ডেস্ক: ক্রিকেট ও বলিউডের সম্পর্ক চিরকালই সুমধুর। বহু দশক ধরে ভারতীয় বিনোদনের দু’টি প্রধান উৎস হিসেবে দেখা হয় ক্রিকেট ও বলিউডকে। এরপর আইপিএলের আবির্ভাব ক্রিকেটকে আরও ভিন্ন মাত্রায় পৌঁছে দেয়। গড়ে ওঠে ফ্র্যাঞ্চাইজি, এবং এই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকরা বলিউড তারকাদের সঙ্গে নানান চুক্তিতে আবদ্ধ হন। ঠিক সেরকমভাবেই বেশ কিছু বছর আগে বলিউড তারকা অক্ষয় কুমার-কে নিয়ে একটি ঘটনা সামনে এসেছে ভারতীয় ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বিখ্যাত অমৃত মাথুরের লেখা বইতে। যেখানে বিশদে জানা যায় কীভাবে অক্ষয় অত্যন্ত লাভজনক চুক্তি ত্যাগ করার অসাধারণ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যারফলে একটি আইপিএল দলের ফ্র্যাঞ্চাইজি চরম লোকশানের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিল।

অমৃত মাথুর তাঁর লেখা আত্মজীবনী ‘পিচসাইড: মাই লাইফ ইন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট’-এ উল্লেখ করেন,‘‘অক্ষয় দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের সঙ্গে তাঁর প্রচারমূলক সিনেমার শু্টিং, মিটিং ও কর্পোরেট ইভেন্টগুলিতে উপস্থিত থাকার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন, কেবলমাত্র কোটলা অ্যাক্ট ছাড়া(যেখানে তিনি স্টান্ট্গুলি পারফর্ম করেন)। মরসুমের শেষে, ডেয়ারডেভিলসরা গুরুতর আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে। যার পর ঠিক করা হয়, ডিডি চুক্তি বাতিল বা নতুন করে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নেয়।’’

মাথুর তাঁর বইতে বলেন, ‘‘অক্ষয়ের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তি ছিল, সেটি যে কোনও সময়ে ভেঙে দেওয়ার অনুমতি ছিল না। ডিডি-এর আইনজীবীরা অক্ষয়ের কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তারা কোনও আগ্রহ দেখায়নি। তাঁদের পক্ষ থেকে (আইনিভাবে সঠিক) প্রতিক্রিয়া ছিল যে চুক্তিটির প্রাথমিকভাবে সমাপ্তির কোনও কারণ ছিল না এবং সম্পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেলেই তারা সেটি বন্ধ করবে।’’

‘‘ডিডির দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গেলে, অক্ষয়ের বহু-কোটি টাকার চুক্তি একটি নিজস্ব গোল বা হিট-উইকেট আউটের সমান হতে পারে। বিপর্যয়কর আর্থিক ফলাফল এবং প্রয়োজন বিবেচনা করে, তারকার উপর ব্যয় করা অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। কোনও আইনি লাইফলাইন উপলব্ধ নেই জেনে, ডিডি অক্ষয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার আবেদন করেছিলেন’’, মাথুর তার বইতে দাবি করেন।

তিনি জানান, ডিডি-র এই সমস্যার সমাধান করার জন্য কর্তৃপক্ষ তাঁকে মনোনিত করেছিল। ‘চাঁদনি চক টু চায়না’র শুটিংয়ের সময় অক্ষয়ের ভ্যানিটি ভ্যানে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন মাথুর।

তিনি ঘটনাটির বিস্তারিতভাবে বর্ণণা দিয়ে লেখেন, ‘‘শট শেষে তিনি যখন তাঁর ভ্যানিটি ভ্যানে ফিরে আসেন, আমি খুব ইতস্ততভাবে, আমার সফরের কারণ ব্যাখ্যা করেছিলাম তাঁকে এবং ডিডি-এর আর্থিক সমস্যার সমস্ত কথা তাঁকে জানিয়েছিলাম। বদলে তিনি আমাকে বলেন, কোনও অসুবিধা নেই তাঁর এ বিষয়ে। আমি বিভ্রান্তভাবে তাঁর দিকে চেয়ে থাকি, এত সহজে তিনি মেনে নিলেন। এরপর তিনি আবার আমাকে আশ্বস্ত করে বলেন, এই চুক্তিটা বন্ধ করে দেব আমরা, আমি আমার আইনজীবির সঙ্গে কথা বলে নেব। তাঁর এই ব্যবহারে আমি সত্যিই হতভম্ব হয়ে পড়ি।’’

মাথুর লিখেছেন, ‘‘এত বছর পরেও আমি অবাক হয়ে পড়ি এটা ভেবে যে অক্ষয় এত বড় অঙ্কের টাকা পরিত্যাগ করে নিলেন যখন তিনি সহজেই চুক্তির প্যাচে আমাদের ফেলতে পারতেন।’’

বইটি ভারতীয় ক্রিকেটের এবং মাথুরের জীবনযাত্রার এক ঝলক দেখায়। এবং মাথুরের চোখ দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটের সাড়ে তিন দশকের প্রতিষ্ঠার যোগসূত্র পাঠকদের অনেককে আকৃষ্ট করবে।

কেউ যদি বিতর্ক খুঁজে থাকেন তবে এই বইটি তাঁর জন্য নয়। এখানে তিনি প্রশাসনিক এবং মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে তাঁর সময়কালের কিছু অনুভূতির কথা বর্ণনা করেছেন, সেগুলির মধ্যে অনেক কিছুই ইতিমধ্যে ক্রিকেটভক্তদের কাছে পরিচিত।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *