সিফ্ট কৌর সামরা
অলস্পোর্ট ডেস্ক: এমবিবিএস ছেড়ে এ বছর মার্চ মাসে হাতে তুলে নিয়েছিলেন রাইফেল। তাঁর মনে হয়েছিল স্টেথোস্কোপের ভারের চেয়ে রাইফেলের ভার বহন করা তাঁর কাছে বেশি সহজ। এমবিবিএস কোর্স ছেড়ে ফুল-টাইম পেশা হিসেবে শুটিং অনুশীলন করতে থাকেন সিফ্ট কৌর। তারপর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি এই ২৩ বছর বয়সী যুবতীকে। বুধবার, এশিয়ান গেমস ২০২৩-এ মহিলাদের ৫০ মিটার থ্রি-পি ইভেন্টে সোনা জিতে নিজেকে প্রমাণ করে দিয়েছেন কৌর।
সিফ্ট কৌর সামরা এদিনের ঐতিহাসিক জয়ের পরে বলেন, ‘‘আমি এ বছর মার্চ মাসে এমবিবিএস কোর্স ছেড়ে দিই। বর্তমানে আমি অমৃতসরের জিএনডিইউ থেকে শারীরিক শিক্ষা এবং ক্রীড়া নিয়ে স্নাতকস্তরে পড়ছি।”
ভারতে, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারগুলির মধ্যে প্রায়শই দেখা যায়, অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের অ্যাকাডেমিক্সে ভাল করার জন্য বরাবর চাপ দেন। কিন্তু সামরার ক্ষেত্রে তা হয়নি। তিনি খুব সমর্থন পেয়েছেন তাঁর বাবা-মা’র থেকে শুটিং রেঞ্জে আসার জন্য।
এমবিবিএস কোর্স ছেড়ে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘এটা আমার বাবা-মায়ের সিদ্ধান্ত ছিল। আমার হাতে ছিল না। আমি সিভিল সার্ভিসেও যেতে পারতাম।’’ পঞ্জাবের ফরিদকোটের ২৩ বছর বয়সী তরুণী বলেন যে তিনি হঠাৎ শুটার হয়ে গিয়েছেন।
‘‘শ্যুটিং একটি মিশ্র পছন্দ ছিল। আমি আকস্মিকভাবে একজন শুটার হয়ে গিয়েছি। আমার এক কাজেন ছিল একজন শটগান শুটার। সেই আমাকে শুটিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিল। আমার প্রথম রাজ্য ইভেন্টটি ভাল হয়েছিল তারপর আমার আত্মীয়রা আমার বাবা-মাকে বলেছিল যে আমার এই খেলায় যাওয়া উচিত, শুটিংয়ে। ভাগ্যক্রমে, এটি কাজ করে যায় এবং আমি বর্তমানে শুটার,’’ সামরা বলেন।
তিনি আরও বলেন, ‘‘যখন আমি ২০১৬-১৭ তে শুরু করেছিলাম, আমি ১০ মিটার ইভেন্টে ছিলাম এবং থ্রি-পি শেখার জন্য আমাদের বিশেষ বন্দুক লাগত এবং আমার ভাইয়ের জন্য এটা আনানো হয়। আমি ২০১৯-এ থ্রি-পি শুরু করেছি।’’
রুপো জয়ী চীনের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ঝাং কিয়ংগুয়েকে হারানোর বিষয়ে সামরা বলেন, ‘‘আমার চিনা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিজ্ঞতা আছে। তারা বিশ্ব ইউনিভার্সিটি গেমসেও ছিল (এই বছরের শুরুতে চেংডুতে আয়োজিত হয়েছিল) এবং সেখানেও আমি সোনা জিতেছিলাম।’’
তাঁর স্বদেশী আশি চৌকসে তার নিজের রুপোর পদকটি ছুড়ে ফেলেছিলেন কারণ তিনি তাঁর শেষ শট দুর্বল ছিল, নিজের উপর রাগেই তিনি তা করেছিলেন, সেটা বুঝতে কারও অসুবিধে হয়নি। সামরা সে বিষয়ে বলেন, যে কোনও দিন এরকম কিছু ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ব ইউনিভার্সিটি গেমসে (চিনের চেংডুতে, অগস্টে) আমি এবং আশি সোনা এবং রুপো পেয়েছিলাম এবং এবারেও আমাদের কাছে সোনা এবং ব্রোঞ্জ রয়েছে, তাই এটি আমাদের জন্য একটি ভাল অভিজ্ঞতা। সে পদক বিজয়ী হওয়ার জন্য আমি খুব খুশি। ফাইনালে শুটিং করার সময় সে খুব ভাল করেছিল।’’
তার চূড়ান্ত শটগুলির সময় তিনি নার্ভাস ছিলেন কিনা জানতে চাইলে, তিনি ইতিবাচক উত্তরই দেন, ‘‘একটু ছিলাম, আমি তো মানুষই। আমি খেলার প্রক্রিয়ার উপর ফোকাস করছিলাম। আমি নার্ভাস হওয়াতে ফোকাস করিনি একদম। আমি আমার হাতে থাকা জিনিসগুলিতে ফোকাস করছিলাম, তাই আমি নিজের সেরাটা দিতে পেরেছি।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার
