Cart Total Items (0)

Cart

All Sports India
আইএসএল ২০২৩-২৪

অলস্পোর্ট ডেস্ক: চেনা ক্লেটন সিলভাকে ফিরে পেতেই আইএসএল ২০২৩-২৪-এ জয়ের মুখও দেখতে পেল ইস্টবেঙ্গল এফসি। শনিবার রাতে ঘরের মাঠে জয়ের খরা কাটিয়ে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট হায়দরাবাদ এফসি-কে ২-১-এ হারাল ইস্টবেঙ্গল এফসি। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইতিহাসে নিজামের শহরের দলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম জয় লাল-হলুদ বাহিনীর। এর আগে দুই দল ছ’বার মুখোমুখি হলেও তার মধ্যে চারবার জয় পায় হায়দরাবাদ। দু’বার ড্র হয়েছিল। কিন্তু কখনও জয়ের মুখ দেখেনি কলকাতার দল। এবারই প্রথম তাদের জয় এনে দিল ক্লেটনের জোড়া গোল।     

গত মরশুমে লাল-হলুদ বাহিনীকে ১৪টি গোল এনে দিয়েছিলেন এই ব্রাজিলীয়। এ ছাড়াও চারটি গোলে অ্যাসিস্টও করেন এই সুযোগসন্ধানী ফরোয়ার্ড। এ মরশুমে তিনি সবচেয়ে দেরি করে দলের প্রাক মরশুম শিবিরে যোগ দেন। এর আগে পাঁচটি ম্যাচে ১৩৬ মিনিটের জন্য তাঁকে মাঠে নামান কোচ কার্লস কুয়াদ্রাত। একটিও গোল করতে পারেননি।  

এই ম্যাচের আগের দিনও কোচ বলেছিলেন, ক্লেটন তৈরি হয়েছে মনে হলেই তাঁকে শুরু থেকে নামাবেন। কথায় বলে, জহুরির চোখ সঠিক সোনা চেনে। ক্লেটন চেনা ছন্দে ফেরার জায়গায় চলে এসেছেন বুঝেই এ দিন তাঁকে শুরু থেকে নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ। এই সিদ্ধান্তে যে একশোয় একশো পেয়েছেন কুয়াদ্রাত, তা প্রমাণ করলেন ৩৬ বছর বয়সী ব্রাজিলীয় স্ট্রাইকারই। দশ মিনিটের মাথায় প্রথম গোল ও ম্যাচের একেবারে শেষে স্টপেজ টাইমে দ্বিতীয় গোল করে দলকে বহু আকাঙ্খিত জয়টি এনে দিলেন ম্যাচের সেরা তারকা।

এ দিন এই একটিমাত্র পরিবর্তন করেই প্রথম এগারো নামান ইস্টবেঙ্গল কোচ। হাভিয়ে সিভেরিওর জায়গায় ক্লেটন সিলভা। এমনকী, অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তাঁর হাতে তুলে দেন কোচ। ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই তাঁর প্রতি কোচের এই আস্থার জবাব দেন গত মরশুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

শুরু থেকেই একে অপরকে চাপে রাখার প্রবণতা দেখা যায় দু’পক্ষের খেলাতেই এবং প্রথম দশ মিনিটের মধ্যে দুই দলই একটি করে গোল পেয়ে যায়। শুরুর দিকে হায়দরাবাদ এফসি-ই বেশি দাপুটে ফুটবল খেলে এবং আট মিনিটের মাথায় হীতেশ শর্মার গোলে এগিয়ে যায় তারা।

ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের জোড়া ভুলকে কাজে লাগিয়েই এগিয়ে যায় গতবারের সেমিফাইনালিস্টরা। প্রথমে বাঁ দিক দিয়ে ওঠা নোয়েলসকে কাট ইন করে গোলের সামনে বল পাঠানোর জায়গা করে দেন লাল-হলুদ ডিফেন্ডাররা। এর পরে আবার ভুল। গোলের সামনে ছিলেন হীতেশ। যাঁর পিছনেই ছিলেন হোসে পার্দো। তিনি হীতেশকে ঠিক সময়ে পিছন থেকে বাধা দিলে হয়তো গোলটি পেতেন না তিনি। কিন্তু পার্দোও দর্শকের ভূমিকায় থাকায় হীতেশ হাল্কা টোকায় গোলে বল পাঠিয়ে দেন (১-০)।

গোল খাওয়ার পরেই তেড়েফুঁড়ে ওঠেন লাল-হলুদ তারকারা এবং দু’মিনিটের মধ্যে প্রতি আক্রমণ থেকে প্রথমে বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢোকার চেষ্টা করেন নন্দকুমার। হায়াদরাবাদের একাধিক ডিফেন্ডার বক্সের বাইরে তাঁকে মাটিতে ফেলে তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নিলেও সেই বল গিয়ে পড়ে মহেশ সিংয়ের পায়ে। ডানদিক দিয়ে বক্সে ঢোকা বোরহার উদ্দেশ্যে বল দেন তিনি। কিন্তু তাঁর পিছনে লেগে থাকা নিম দোরজি বিপজ্জনক ভাবে তাঁর পায়ে আঘাত করে ফেলে দেন বোরহাকে। বল ছিটকে আসে বক্সের মধ্যে থাকা অরক্ষিত ক্লেটনের পায়ে। তিনি ঠাণ্ডা মাথায় হাল্কা চিপ করে কাট্টিমণির মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন (১-১)।

দশ মিনিটের মধ্যে একটি করে গোল পেয়ে যাওয়ায় দুই দলের অ্যাটাকাররাই যেমন আরও উজ্জীবিত হয়ে ওঠেন, তেমনই দুই দলের ডিফেন্ডাররাও আরও সজাগ হয়ে যায়। এর জেরে প্রথমার্ধের বাকি সময়টা রক্ষণ ও আক্রমণের লড়াই জমে ওঠে।

২১ মিনিটের মাথায় ক্লেটন, মহেশ ও বোরহা ত্রয়ীর প্রচেষ্টা ব্লক করেন জোয়াও ভিক্টর। তাঁর পা থেকে ছিটকে আসা বল আসে বক্সের মাথায় সল ক্রেসপোর কাছে। তিনি দূরপাল্লার শট নেন, যা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। ৩৬ মিনিটের মাথায় কর্নার থেকে গোলের উদ্দেশ্যে হেড করেন ক্লেটন, যা বারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

কিন্তু ৪০ মিনিটের মাথায় যে ঘটনাটা ঘটে, তা হায়দরাবাদ শিবিরে দুঃসংবাদ বয়ে নিয়ে আসে। মন্দারের ক্রস থেকে গোল করার জন্য মরিয়া ক্লেটন গোলের দিকে দৌড়ে যান। তাঁকে বাধা দিতে কার্যত তাঁর পায়ে ঝাঁপ মারেন গোলকিপার কাট্টিমণি। ক্লেটনের হাঁটু এবং কাট্টিমণির মুখের সঙ্ঘর্ষে মাঠে লুটিয়ে পড়েন গোলকিপার। তাঁর শুশ্রুষার জন্য প্রায় সাত মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। তাতেও স্বাভাবিক করে তোলা যায়নি তাঁকে। অবশেষে কাট্টিমণির জায়গায় পরিবর্ত গোলকিপার অনুজ কুমারকে নামতে হয়।

প্রথমার্ধে দুই পক্ষই একটি করে শট গোলে রাখে এবং তাতেই গোল পায়া তারা। এ ছাড়া সারা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল যেখানে ১৩বার গোলের চেষ্টা করে, সেখানে হায়দরাবাদকে চার বারের বেশি গোলের চেষ্টা করতে দেননি লাল-হলুদ ডিফেন্ডাররা। প্রথমার্ধে কোনও কর্নারও আদায় করতে পারেনি হায়দরাবাদ। ম্যাচের প্রথম কর্নার তারা পায় ৫০ মিনিটের মাথায়। এ জন্য নিশু, খাবরা, পার্দো, মন্দারদের প্রশংসা অবশ্যই প্রাপ্য। ক্রেসপো, শৌভিকরাও এ দিন নিজেদের দূর্গ রক্ষার জন্য বারবার নেমে আসেন।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে শৌভিকের জায়গায় মহম্মদ রকিপকে নামায় ইস্টবেঙ্গল এফসি। তাঁকে রাইট ব্যাকের জায়গায় পাঠিয়ে নিশু কুমারকে লেফট উইঙ্গারের জায়গায় খেলানো শুরু করেন স্প্যানিশ কোচ। এই সময় থেকে তিন ব্যাকে খেলা শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। প্রয়োজনমতো রক্ষণে দ্রুত লোক বাড়িয়েও নিচ্ছিল তারা।

দুই দলই মাঝমাঠে লোক বাড়িয়ে নেওয়ায় শুরুর দিকে ওই অঞ্চলেই বল বেশি ঘোরাফেরে করে। ক্লান্তিও ঘিরে ধরে দুই দলের অ্যাটাকারদের। আগের চেয়ে ভুল পাসের সংখ্যা ক্রমশ বাড়তে শুরু করে। ফাইনাল থার্ডে বল নিয়ে গিয়ে তা থেকে গোল করার জন্য দুই দলেরই পরিবর্ত ফরোয়ার্ডের প্রয়োজন ছিল। ৬২ মিনিটের মাথায় হায়দরাবাদ রিজার্ভ বেঞ্চ থেকে অ্যারন ডিসিলভাকে নামায় গোলদাতা হীতেশের জায়গায়। ৬৭ মিনিটের মাথায় বোরহার পায়ের পেশীতে টান ধরা সত্ত্বেও অবশ্য তাঁকে তুলে কোনও পরিবর্ত খেলোয়াড় নামাননি কুয়াদ্রাত।

ছোট ছোট পাসে আক্রমণ তৈরির চেষ্টা শুরু করে লাল-হলুদ বাহিনী। ৭০ মিনিটের মাথায় সাত-আটটি পাস খেলার পরে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শট নেন বোরহা। কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হন তিনি। প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে পর্যন্ত তাঁরা বারবার পৌঁছলেও বক্সে ঢুকতে পারছিলেন না। হায়দরাবাদের স্ট্রাইকারদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।

হায়দরাবাদের মেক্সিকান ফরোয়ার্ড অ্যালেনিস নামেন ৮৪ মিনিটের মাথায়। তারা দুই পরিবর্ত ফরোয়ার্ডকে নামিয়ে ফেললেও ইস্টবেঙ্গলের তরফে তখনও বেঞ্চ থেকে কাউকে নামতে দেখা যায়নি। কুয়াদ্রাত ৮৬ মিনিটের মাথায় বোরহার জায়গায় সিভেরিওকে নামান। মাঠে নামার পরেই নিশু কুমারের সেন্টারে হেড করে প্রায় গোল করেই ফেলেছিলেন স্প্যানিশ স্ট্রাইকার। কিন্তু পোস্টের কয়েক ইঞ্চি বাইরে দিয়ে তা বেরিয়ে যায়।  

এই আক্রমণের মিনিট তিনেক আগেই বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে কাট ইন করে ইস্টবেঙ্গলের তিন ডিফেন্ডারকে ধোঁকা দিয়ে বক্সের সামনে থেকে সোজা গোলে শট নেন নোয়েলস, ডানদিকে ডাইভ দিয়ে যার দখল নেন প্রভসুখন গিল।

স্টপেজ টাইমের দ্বিতীয় মিনিটের মাথায় প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে ফ্রি কিক পায় ইস্টবেঙ্গল এবং সেই ফ্রি কিক থেকেই জয়সূচক গোলটি পেয়ে যান ক্লেটন। হিউম্যান ওয়ালের ওপর দিয়ে বাঁ দিকে বাঁকানো শটে বারের নীচের অংশ ছুঁয়ে গোলের বাঁ দিকের ওপরের কোণ দিয়ে বল গোলে ঢুকিয়ে দেন ব্রাজিলীয় তারকা। এই ক্লেটনকেই এতদিন দেখতে চাইছিল লাল-হলুদ জনতা (১-২)। তাই তাঁর প্রথম গোলের মতো দ্বিতীয় গোলের পরেও সমর্থকদের চিৎকারে যুবভারতীর আকাশ গমগম করে ওঠে। দলের জয়ের পাশাপাশি ক্লেটন সিলভার গোলের খাতা খোলা তাঁদের কাছে পুজো বোনাসের মতোই বাড়তি আনন্দের।

এই গোলের পর হায়দরাবাদের খেলোয়াড়দের আর নিজেদের বক্সে ঢুকতে দিতে রাজি ছিলেন না লাল-হলুদ রক্ষণের ফুটবলাররা। বরং তারা আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায়। শেষ মিনিটে বক্সের মাথা থেকে সিভেরিওর জোরালো দূরপাল্লার শট কোনও রকমে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচান অনুজ। তিনি ব্যর্থ হলে আরও বেশি ব্যবধানে জিতত ইস্টবেঙ্গল এফসি।

ইস্টবেঙ্গল এফসি দল: প্রভসুখন গিল (গোল), নিশু কুমার, হরমনজ্যোৎ সিং খাবরা, হোসে পার্দো, মন্দার রাও দেশাই, সল ক্রেসপো, শৌভিক চক্রবর্তী (মহম্মদ রকিপ), বোরহা হেরেরা (হাভিয়ে সিভেরিও), নন্দকুমার শেখর, মহেশ সিং (ভিপি সুহের), ক্লেটন সিলভা (গুরসিমরাত সিং গিল)।

(লেখা ও ছবি আইএসএল ওয়েব সাইট থেকে)

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *