তিলক ভর্মা। ছবি—বিসিসিআই এক্স
অলস্পোর্ট ডেস্ক: পাকিস্তান যে ভাবে শুরু করেছিল তাতে একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল পাকিস্তানের রান ২০০ রানের গন্ডি পেরিয়ে অনেকটা উপরে চলে যাবে। ওপেনিং জুটিতে ৮৪ রানের পার্টনারশিপ এই টুর্নামেন্টে হয়নি তাদের দলের। সেখানে ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো অকেজ মনে হচ্ছিল। যতক্ষণ না শাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান বরুণ চক্রবর্থী। পাকিস্তানের প্রথম তিন ব্যাটাররা ছাড়আ আর কেউই দাঁড়াতে পারেননি ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে। এর পর পাক ব্যাটিংকেই অকেজ দেখাচ্ছিল। তবে যতটা কঠিন পাকিস্তানের জন্য ব্যাট করা হয়ে গিয়েছিল পরের দিকে, ঠিক ততটাই সমস্যার মুখে পড়তে হল ভারতীয় দলকেও। তারা অবশ্য শুরুতেই জোড় ধাক্কা খেল। যে অভিষেক শর্মা পর পর তিন ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, এশিয়া কাপে টানা সেরা ফর্মে রয়েছেন, এদিন তিনি ব্যর্থ। যা ১৪৭ রানের লক্ষ্যে ভারতের ভিত তৈরিতে ছিল বড় ধাক্কা। তবে কে জানত আজকের দিনটি হতে চলেছে তিলক ভর্মার। ২ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে পাকিস্তানকে হারিয়ে এশিয়া কাপ ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন ভারত।
রবিবার এশিয়া কাপ ২০২৫-এর ফাইনালে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও পাকিস্তান। যদিও এই এশিয়া কাপে এত বেশি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়ে গিয়েছে যে মাঝে মাঝে এটাই মানুষ ভুলে যেতে বসেছে, অন্য দলও খেলেছে এই টুর্নামেন্টে। সবটাই ব্যবসায়ীর সাফল্য, সেখানে ক্রিকেটের ব্যর্থতাই চোখে পড়ছে। তবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সব সময়ই উত্তেজক ক্রিকেটের থেকে অনেকবেশি রাজনৈতিক কারণে। আর সেটাই দুই দেশের ক্রিকেট ভক্তদের চালিত করে। আর সেই সুযোগটাই নেয় আয়োজকরা। এদিন টস জিতে প্রথমে পাকিস্তানকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তানের দুই ওপেনার ভারতীয় বোলারদের রীতিমতো চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেন।
শাহিবজাদা পারহান ৩৮ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলেন। আর এক ওপেনার ফখর জামান ৩৫ বলে ৪৬ রান করেন। তিন নম্বরে নামা সাইম আয়ুব ১৪ রান করে আউট হন। এর পর আর দাঁড়াতে পারেনি পাক ব্যাটিং। মহম্মদ হ্যারিস ০, সলমন আঘা ৮, হুসেন তালাত ১, মহম্মদ নওয়াজ ৬, শাহিন শাহ আফ্রিদি ০, ফাহিম আশরফ ০, হ্যারিস রউফ ৬ রান করে আউট হন। ১ রানে অপরাজিত থাকেন আবরার আহমেদ। ১৯.১ ওভারে ১৪৬ রানে শেষ হয় পাকিস্তানের ইনিংস। ৮৪ রানে এক উইকেটের পর মাত্র ৬২ রানে সব উইকেট চলে যায় পাকিস্তানের। ভারতের হয়ে চার উইকেট নেন কুলদীপ যাদব ও দুটো করে উইকেট নেন যশপ্রীত বুমরাহ, বরুণ চক্রবর্থী ও অক্ষর প্যাটেল।
জবাবে ব্যাট করতে নামা এই ভারতীয় দলকে কিছুটা অচেনাই লাগছিল। যে দাপট পুরো টুর্নামেন্টে দেখেছিলেন সূর্যকুমাররা, বা যেভাবে বলে বলে পাকিস্তানকে হারের দেখিয়েছে ভারত তাতে ফাইনালের ভারত যেন কিছুটা আলাদা। কোথাও একটা আতঙ্ক গ্রাস করেছিল ভারতীয় ব্যাটিংকে। পাকিস্তান বোলিংয়ের সামনে কিছুটা নড়বড়ে দেখাচ্ছিল ভারতের টপ অর্ডারকে। যার ফলে অকারণ ভুল শট বাছাইয়ের খেসারত দিতে হল অভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার যাদবকে। অভিষেক ফিরলেন ৫ রানে আর সূর্যকুমার ১। এর পর হ্যারিস রউফের যে ক্যাচে শুভমান গিল প্যাভেলিয়নে ফিরলেন তা এই এশিয়া কাপের ইতিহাসে লেখা থাকবে। ১২ রানে ফিরলেন তিনি। পাওয়ার প্লে-তেই তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় ভারত। আর সেখান থেকে ভারতকে উদ্ধার করেন তিলক ভর্মা। তাঁর সঙ্গে কখনও যোগ দেন সঞ্জু স্যামসন, কখনও শিভম দুবে।
ভারতীয় টপ অর্ডারের ব্যর্থতা ঢেকে দিয়ে দলকে চ্যাম্পিয়ন করেই মাঠ ছাড়লেন তিলক ভর্মা। সঞ্জু স্যামসন ২৪ রানে আউট হয়ে যাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে ভরসা দেওয়ার মতো পার্টনারশিপ গড়লেন শিভম দুবে। শেষ দুই ওভারের ভারতের দরকার ছিল ১৭ রান। এই সময় ফাহিমের ক্র্যাম্পের জন্য প্রায় ছয় মিনিট খেলা বন্ধ থাকে। চিকিৎসার পর শেষ পর্যন্ত তিনি আবার মাঠে ফেরেন এবং ১৯তম ওভারে বল করেন। এই ওভারেই ২২ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন দুবে। শেষ ওভারের ভারতের জিততে হলে করতে হবে ১০ রান। এই অবস্থায় তিলক ভর্মার সঙ্গে ব্যাট করতে নামেন রিঙ্কু সিং। ছক্কা হাঁকিয়ে চার বলে দুই রানের লক্ষ্যে নিয়ে যান তিলক। তিন বলে এক রানের লক্ষ্যে রউফের সামনে তখন ব্যাট হাতে রিঙ্কু। কিন্তু তিনি দুই বল বাকি থাকতেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে প্রথম বলেই লেখা ছিল ভারতের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি। ৬৯ রানে তিলক ও ৪ রানে রিঙ্কু অপরাজিত থাকেন। ভারত থামল ১৫০-৫-এ।
পাকিস্তানের হয়ে তিন উইকেট নেন ফাহিম আশরফ। একটি করে উইকেট নেন শাহিম আফ্রিদি ও আবরার আহমেদ।
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
