অলস্পোর্ট ডেস্ক: দেশের জার্সিতে এক ম্যাচ খেলাই ছিল স্বপ্ন। আবার দেশের কিছু মানুষ ভেবেছিলেন, বুমরার বোলিং মেয়াদ বেশি হলে ৬ মাস, সেখানে ১০ বছর ভারতীয় ক্রিকেট দলের খেলা চালিয়ে যেতে পারাটা তাই পেসার যশপ্রীত বুমরার কাছে এক অনন্য অনুভূতি। ভারতীয় দলে স্ট্রাইক বোলারের গলায় অভিমানের সুর, এটা সম্ভব হয়েছে দেশের অগনিত মানুষের এই ভাবনার জন্যই।
নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় টি২০ ম্যাচে আধিপত্য নিয়ে হারিয়ে সিরিজ দখলের পেছনে ভারতীয় দলের পেসার যশপ্রীত বুমরার বড় ভূমিকা আছে। মোক্ষম সময়ে আঘাত হেনে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের প্যাভিলিয়ানে ফেরত পাঠানোয় বুমরার জুরি মেলা ভার। সবচেয়ে বড় কথা, বুমরার সাফল্যের মূল মন্ত্র হল, কোনওসময় হাল না ছেড়ে লেগে থাকা, পরিশ্রম, নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা। চোটের সমস্যায় সাময়িক সরে থাকতে হলেও, ফিট হয়ে ফিরেছেন আরও ধারালো হয়। মনের জোর ও জেদকে কাজে লাগিয়ে।
পেসারদের খেলোয়াড় জীবন অনেকক্ষেত্রেই ছোট হয়, চোট সমস্যায় ভোগার কারণে। সেখানে ১০ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে বুমরার প্রতিক্রিয়া, ‘ সত্যি খুব ভাল লাগছে। ছেলেবেলায় স্বপ্ন দেখায় ভারতের জার্সিতে একটা মাত্র ম্যাচ খেলার। সেখানে ১০ বছর দেশের জার্সি গায়ে খেলা দারুন ব্যাপার। বিশেষ করে একজন ফাস্ট বোলার হিসেবে। চোটের যন্ত্রণার পাশাপাশি নানাজনের সমালোচনা, মন্তব্যের খোঁচা সহ্য করে। এই কারণে আমি বেশি গর্বিত। যখন প্রথম খেলা শুরু করেছিলাম, তখন অনেকেরই মনে হয়েছিল, বেশিদিন খেলা চালিয়ে যেতে পারব না। কেউ কেউ বলেওছিলেন, বড়জোর ৬ মাস আন্তর্জাতিক সার্কিটে টিঁকব। সেখানে ১০ বছর খেলাটা আমার মুকুটে পালকের যোগ হওয়ার মতো। মানুষের ভালবাসাই আমাকে এ জায়গায় এনেছে। আশা করি, আরও কিছুদিন এই খেলাটা সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যেতে পারব।’
যশপ্রীত বুমরার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ঘটেছিল ২০১৬তে। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজে। ঘরোয়া ক্রিকেটে গুজরাটের হয়ে রনজি ও বিজয় হাজারে ট্রফিতে সর্বাধিক উইকেট নেওয়ার কারণে ভারতীয় দলে খেলার সুযোগ মিলেছিল। ওই সিরিজে টি২০ ক্রিকেটে ভারতের ৩-০ সিরিজ জয়ে বুমরা সর্বাধিক উইকেট দখল করে নজর কেড়েছিলেন।
এবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ জয়ে গুয়াহাটির বাসাপাড়া স্টেডিয়ামে বুমরা ম্যাচ উইনিং বোলিং পারফরমেন্সের (৩-১৭) কারণেই নিউজিল্যান্ড ইনিংস আটকে যায় ১৫৩ রানে। এই পারফরমেন্সের জন্য বুমরা ম্যাচের সেরা স্বীকৃতিও লাভ করেন। বুমরার প্রতিক্রিয়া, ‘ আমি যতদিন ভারতীয় দলকে এভাবে সাহায্য করে যেতে পারব আমার পারফরমেন্স দিয়ে, ততদিন আনন্দ পাব, খেলাটা উপভোগ করব। টিম যখন যেভাবে আমাকে ব্যবহার করতে চাইবে আমি তৈরি। সেটা নতুন বল হাতে শুরু থেকে হোক, বা শেষদিকে পুরোন হয়ে যাওয়া বলে গুরুত্বপূর্ণ ডেথ ওভারে। আমার কোনও অসুবিধা নেই বল করতে। এশিয়া কাপে আমি সেই ভূমিকা পালন করেছি। একজন টিমম্যান হিসেবে সবরকম পরিস্থিতিতে বল ও পারফর্ম করার জন্য তৈরি থাকতে হবে। সবার ওপর দলের সাফল্য।’
আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপে ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে যশপ্রীত বুমরার পারফরমেন্সের ওপর। এখন দেখার দলের বাকি বোলাররা বুমরার চাপ কতটা কমাতে পারেন বিশ্বকাপে?
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
