Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

মাহিকা ভট্টাচার্য: তিন অধিনায়ক। তিনটি আলাদা আইপিএল দল। তিন প্রজন্ম। মিল একটাই। তিন জনই অধিনায়ক হওয়ার প্রথম বছরেই তাঁদের দলের হয় ট্রফি জিতেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে শেন ওয়ার্ন, রোহিত শর্মা এবং হার্দিক পাণ্ড্য়ে, তিন জনই প্রথম অধিনায়ক হওয়ার মরসুমে ফাইনালে সাফল্য পেয়েছেন।

শেন ওয়ার্ন

স্পিন বোলিং-এর জাদুকর হিসাবে খ্যাত তি‌নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ঝুলিতে রয়েছে ৭০০টিরও বেশি উইকেট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মতো সাফল্য পেয়েছিলেন আইপিএলেও। ২০০৬-০৭ মরসুমে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশেজ জয়ের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ৩৭ বছর বয়সী শেন ওয়ার্ন। এর পর ২০০৮-এ শুরু হয় আইপিএল। নিলামে বিভিন্ন দলের বিখ্যাত ক্রিকেটারদের মাঝে রাজস্থান রয়্যালস তাদের অধিনায়ক হিসাবে ওয়ার্নকে বেছে নিয়েছিল। নিলামে ৪৫০ ডলারের (ভারতীয় মূল্য ৩ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা) বিনিময়ে ওয়ার্নকে কিনেছিল রাজস্থান। বহু যুদ্ধের পোড় খাওয়া অস্ট্রেলীয় সৈনিক সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রেখেছিলেন। দলের সাফল্যের পিছনে বড় অবদানও রয়েছে অধিনায়কের। নেতৃত্বের পাশাপাশি ওয়ার্নকে সামলাতে হয়েছিল কোচিংয়ের দায়িত্বও।

মরসুমের শুরুটা হার দিয়ে হয়েছিল সেই রাজস্থান রয়্যালসের। ফিরোজ শাহ কোটলায় গৌতম গম্ভীর, শিখর ধবনস বীরেন্দ্র সেহবাগদের দাপটের সামনে ৯ উইকেটে উড়ে গিয়েছিল রাজস্থান। হারের ধাক্কায় ভেঙে পড়া দলকে ভোকাল টনিক দিয়ে চাঙ্গা করেছিলেন ওয়ার্ন। তিনি ড্রেসিংরুমে ফিরে বলেছিলেন, ‘‘আরে, এ ভাবে বসে আছ কেন সবাই? কেউ কি মারা গিয়েছে? আমরা তো স্রেফ একটি ম্যাচ হেরেছি। এখনও তো ১৩টা ম্যাচ বাকি আছে রে বাবা!’’ ওয়ার্নের সেই কথাতেই কাজ হয়েছিল। পরের ম্যাচে নিজেদের ঘরের মাঠ জয়পুরে কিংস ইলেভেন পঞ্জাবকে হারিয়ে দেয় রাজস্থান। ওয়ার্ন নিজে ১৯ রানে ৩ উইকেট নিয়েছিলেন। তার পর, আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাদের। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে ১১টি ম্যাচে জিতেছিল তাঁর দল। ফাইনালে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে প্রথম আইপিএল ট্রফি ঘরে তুলেছিল রাজস্থান।

প্রথম মরসুমে ওয়ার্ন ১৫টি ১৯ উইকেট নেন। গড় ২১.২৬ এবং ইকোনমি রেট ৭.৭৬। ২০০৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত রাজস্থানের হয়েই আইপিএল খেলেছেন ওয়ার্ন। চারটি মরসুম মিলিয়ে তাঁর ঝুলিতে মোট ৫৭ উইকেট রয়েছে। আইপিএলে তিনি চতুর্থ স্পিনার যাঁর নামে ৫০টিরও বেশি উইকেট রয়েছে। প্রথম আইপিএল জয়ের যে ইতিহাস তাঁর ঝুলিতে নিয়ে তিনি এই জীবনকে বিদায় জানিয়েছেন তা কেউ কখনও ভাঙতে পারবে না। কারণ যে কোনও ঘটনা প্রথম একবারই হয়।

রোহিত শর্মা

আইপিএলের শুরুটা তাঁর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে হয়নি। হয়েছিল ডেকান চাজার্সের সঙ্গে। ডেকান চার্জাসের হয়ে তিন মরসুমে তিনি যথাক্রমে ৪০৪, ৩৬২ ও ৪০৪ রান করেন। ২০১১ আইপিএলের নিলামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ১৬ কোটি ৫৪ লক্ষ টাকার বিনিময়ে রোহিতকে দলে নেয়। প্রথম দুই মরসুম মুম্বইয়ের হয়ে কেবল ব্যাটারের ভূমিকায় খেলতে দেখা যায় তাঁকে। ২০১৩-এর ২৪ এপ্রিল হতাশাজনকভাবে মরসুম শুরুর পর তৎকালীন অধিনায়ক রিকি পন্টিং তরুণ রোহিত শর্মার হাতে দলের নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেন। তার পর থেকেই শুরু হয় নতুনভাবে পথ চলা। ওই মরসুমেই মুম্বইকে প্রথমবার আইপিএল ট্রফি জেতান অধিনায়ক রোহিত। তারপর ২০১৫, ২০১৭, ২০১৯ ও ২০২০-তে রোহিতের নেতৃত্বেই আরও চারটি আইপিএল খেতাব জেতে মুম্বই। তাঁর নেতৃত্বে মুম্বই ১৫৮ ম্যাচের মধ্যে ৮৭ ম্যাচেই জয়লাভ করেছে।

অধিনায়ক হিসাবে তো বটেই, ব্যাটার হিসাবেও রোহিত আইপিএলের সর্বকালের অন্যতম সেরা। তাঁর পরিসংখ্যানই তা প্রমাণ করে দেয়। আইপিএলের ১৬টি মরসুম মিলিয়ে তাঁর গড় ৩০.১৫। রোহিত মোট ৬০৬০ রান করেছেন, স্ট্রাইক রেট ১৩০.০৪। আইপিএলে একটি শতরান ও ৪১ টি অর্ধশতরান হাঁকিয়েছেন তিনি। এত সাফল্য সত্ত্বেও জায়গা ছেড়ে দিতে হয়েছে তাঁকে যেভাবে একদিন সবাইকেই সরতে হয়। তবে তাঁর মতো সাফল্যের শিখরে থেকে ক‘জন জায়গা ছাড়তে পারেন।

হার্দিক পাণ্ড্যে

২০১৫ থেকে আইপিএলে পথ চলা শুরু। নতুন করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অন্যতম ভরসার নাম হার্দিক পাণ্ড্যে। সাত বছর তিনি ওই দলের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু অধিনায়ক হার্দিকের সাফল্য কিন্তু এসেছে গুজরাট টাইটান্সের হয়ে। ২০২২ সালে দু’টি নতুন দল যোগ দেয় আইপিএল-এ। গুজারাট টাইটান্স এবং লখনউ সুপার জায়ান্টস। সেবার ১৫ কোটি টাকার বিনিময়ে তাদের দলের অধিনায়ক হিসাবে হার্দিককে বেছে নেয় গুজরাট। টানা দু’বছর এই দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। অধিনায়কত্বের প্রথম বছরই তাঁর দল ফাইনালে রাজস্থান রয়্যাল্সকে হারিয়ে আইপিএলএ চ্যাম্পিয়ন হয়। সফল অধিনায়কের তকমা লেগে যায় তাঁর গায়েও। শেন ওয়ার্ন ও রোহিত শর্মার পরে তালিকায় যুক্ত হয় হার্দিক পাণ্ড্যের নাম। হার্দিকের নেতৃত্বে ২০২৩-এ চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে হেরে রানার্স হয় গুজরাত।

গুজরাতের হয়ে হার্দিক ৩১টি ম্যাচ খেলেন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মোট ৮৩৩ রান। সর্বোচ্চ ৮৭ নট আউট। গড় ৩৭.৮৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩৪.০১। অর্ধশত রান ৬টি। ৩১টি ম্যাচে তিনি ৩৩৩ বল করেন। মোট রান দেন ৪৫০। উইকেট আছে ১১টি। ইকোনমি রেট ৮.২। তবে, দু’বছর গুজরাত টাইটান্সকে নেতৃত্ব দিয়ে আবার পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সে ফিরেছেন হার্দিক। গুজরাটে যাওয়ার আগে তিনি মুম্বইয়ের হয়ে ৯২টি ম্যাচ খেলে ১৪৭৬ রান করেন। তাঁর সর্বোচ্চ রান ৯১। গড় ২৬.৬৬ এবং স্ট্রাইক রেট ১৩০.০৬। মোট চারটি অর্ধশত রান আছে তাঁর। সাত মরসুমে তিনি ৬১৩ বলে ১৩১৩ রান দিয়েছেন। ৪২টি উইকেট রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ইকোনমি রেট ৯.১৬। মাঝে ২০২০ এবং ২০২১-এ তিনি চোটের কারণে বল করতে পারেননি।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন: ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *