Cart Total Items (0)

Cart

All Sports

অলস্পোর্ট ডেস্ক: দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল নাইটদের। খুব ভালো জায়গায় ছিল না লখনউও, তবুও ইতিমধেই একটা জয় এসেছিল তাদের দখলে, কলকাতা জয়হীন থেকে গেল এবারও আর লখনউ জয়ের তালিকায় দ্বিতীয় ম্যাচ লিখিয়ে ফেলল মুকুল চৌধরির দুরন্ত ব্যাটিংয়ে। একটা জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে তা নাইট শিবিরে কান পাতলেই স্পষ্ট ছিল। গত ম্যাচে এই ইডেন গার্ডেন্সেই বৃষ্টিতে ভেস্তে যাওয়া ম্যাচের সৌজন্যে মরসুমের প্রথম পয়েন্ট পেয়েছিল শাহরুখের দল। পর পর ঘরের মাঠে ম্যাচের সুযোগ না নিতে পারলে আরও পিছিয়ে পড়তে হবে তিনবারের চ্যাম্পিয়নদের, তা জানাই ছিল। আঙুল উঠতে শুরু করেছিল দল গঠন থেকে অধিনায়কত্ব নিয়েও। তবে এবার চোট আঘাতে জর্জরিত একটা দল শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ পর্যায়ে পৌঁছেই গিয়েছিল কিন্তু শেষরক্ষা হল না। একা মুকুল চৌধরি কলকাতার সব আশায় জল ঢেলে দিলেন। টস জিতে কেকেআর-কে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন এলএসজি অধিনায়ক ঋষভ পন্থ। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৮১-৪-এ থামে কলকাতা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শেষ বলে তিন উইকেটে জয় তুলে নেয় লখনউ।

এদিন অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে মাত্র ৯ রান করে ফিরে যান ফিন অ্যালেন। তিন নম্বরে নেমে ক্যাপ্টেনের সঙ্গে দলের ব্যাটিংয়ের হাল ধরেন অঙ্গকৃশ রঘুবংশী। ১৫ রানে ১ উইকেট থেকে কেকেআর-এর রানকে তৃতীয় উইকেটে ৯৯-এ নিয়ে যায় এই জুটি। রাহানে ২৪ বলে ৪১ ও অঙ্গকৃশ ৩৩ বলে ৪৫ রান করে প্যাভেলিয়নে ফেরেন। দুই ব্যাটার পর পর ফিরে গেলে মিডল অর্ডারের উপর চাপ তৈরি হয় স্বাভাবিক ভাবেই। এর পর রিঙ্কুু সিং ৪ রানে ফিরে যাওয়ার পর কলকাতার ইনিংসকে শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান  ক্যামেরন গ্রিন ও রোভমান পাওয়েল। গ্রিন ৩২ ও পাওয়েল ৩৯ রানে অপরাজিত থাকেন। চার উইকেটে ১৮১ রানে থামে কলকাতা। এদিন দলের ব্যাটিংয়েও সেই মরিয়াভাব দেখা গেল। যা হয়তো দ্রুত তাদের জয়ে ফেরাবে।

লখনউয়ের হয়ে একটি করে উইকেট নেন প্রিন্স যাদব, মণিমারান সিদ্ধার্থ, দিগভেশ রাঠি ও  আভেশ খান। তবে পরিচিত মাঠের সুযোগ নিতে ব্যর্থ মহম্মদ শামি। তাঁর ঝুলি এদিন শূন্যই থেকে গেল। ব্যাট হাতেও তাঁর অবদান মাত্র ১ রান। তার মধ্যেই ব্যাটে, বলে ঘুরে দাঁড়াল কলকাতা তবে কোথাও একটা খামতি থেকে গেল। ব্যাটে সাফল্য এলেও, বলে ব্যর্থতা অনেকটাই পিছিয়ে রেখেছিল লখনউকে। শেষবেলায় অবশ্য দুরন্ত এক লড়াই দেখা গেল মুকুল চৌধরির ব্যাটে। ১৮২ রানের লক্ষ্যমাত্রা টি২০-তে নেহাৎই কম নয়। সহজও ছিল না, তবে একার দক্ষতায় এ যাত্রায় সঞ্জীব গোয়েঙ্কার দলকে জয়ের মুখ দেখালেন তিনি।

আয়ুশ বাদোনির ৩৪ বলে ৫৪ রান ছাড়া লখনউয়ের ব্যাটিংয়ে বলার মতো বড় কিছু ছিল না শুরুতে। দুই ওপেনার মিচেল মার্শ ১৫ ও আইদেন মারক্রাম ২২ রান করে ফিরে যাওয়ায় শক্ত ভিত তৈরি করতে ব্যর্থ হয় লখ‌নউয়ের ব্যাটাররা। তিন নম্বরে নেমে এদিন ব্যর্থ অধিনায়ক পন্থও। মাত্র ১০ রানে আউট হয়ে যান তিনি। এর পর নিকোলাস পুরান ১৩, আব্দুল সামাদ ২, মহম্মদ শামি ১,  রান করে আউট হয়ে যান। সাত নম্বরে নেমে শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন মুকুল চৌধরি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ১৪ রান। এক রান নিয়ে মুকুল চৌধরিকে ব্যাটিং ফিরিয়ে দেন আভেশ খান। আর ব্যাট, বলে সংযোগ হতেই ছক্কা হাঁকিয়ে ব্যবধান ৪ বলে ৭ রানে নিয়ে আসেন তিনি। এক বল বাকি থাকতে ম্যাচ ড্র করে ফেলে লখনউ। শেষ বলে দরকার ছিল ১ রান। ব্যাটে বলে সংযোগ না হলেও জয়ের রান তুলতে সমস্যা হয়নি এলএসজির দুই ব্যাটারের। অঙ্গকৃশ সরাসরি উইকেটে মারতে পারলে হয়তো ম্যাচ সুপার ওভারে গড়াত। তবে এই দিন মুকুলের ছিল।  ২৭ বল খেলে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকলেন মুকুল চৌধরি। ১ রানে অপরাজিত আভেশ খান।

শেষ ওভারে বৈভব অরোরা চমকেই বাজিমাত করতে করতেও থমকে গেল সেই দৌঁড়। যা একা হাতে আটকে দিলেন সেই মুকুল চৌধরি। না হলে শেষ ওভারটা দারুণভাবেই শুরু করেছিলেন বৈভব। যদিও এই ম্যাচ লেখা থাকবে মুকুলের নামেই। এই মরসুমেই প্রথম আইপিএল খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন রাজস্থানের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে আসা মুকুল। আর শুরুতেই নজর কেড়ে নিলেন। মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কার মুখেও হাসি ফোটালেন। জয়ের পর পন্থকে দেখা গেল আকাশের দিকে তাকিয়ে ধন্যবাদ জানাতে, জিতিয়ে সেই একই কাজ করলেন মুকুলও। মুকুল বলছিলেন, ‘‘আমি জানতাম সব বল পারফেক্ট হবে, সেই বলটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’’ কলকাতার হয়ে দুটো করে উইকেট নেন বৈভব অরোরা ও অনুকূল রয়।  একটি করে উইকেট সুনীল নারিন, কার্তিক ত্যাগী ও ক্যামেরুন গ্রিনের।

খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com

অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *