ছবি বিসিসিআই এক্স
মঙ্গলবার ট্রেন্ট ব্রিজে ইংল্যান্ডের কাছে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভারতের অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার স্বীকার করেছেন যে তাঁর দলের পারফরম্যান্স ছিল “অত্যন্ত খারাপ”। রানের ব্যবধানের বিচারে এটি ছিল ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় টি-টোয়েন্টি পরাজয়। দ্রুতগতির বোলার জোফ্রা আর্চার ও জশ টংয়ের তোপের মুখে পড়ে ভারত ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হয়। প্রথমে ব্যাট করে ইংল্যান্ড ৭ উইকেটে ২০১ রান সংগ্রহ করে, যার মধ্যে ফিল সল্ট একাই করেন ৭০ রান। জবাবে ভারত মাত্র ১২ ওভারের মধ্যে ৭৬ রানে অল-আউট হয়ে যায়—অর্থাৎ পুরো দল মিলে ওপেনার সল্টের ব্যক্তিগত স্কোরের চেয়ে সামান্য বেশি রান করতে সক্ষম হয়। আর্চার ও টংয়ের বোলিং সামলানো ভারতের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল; নতুন বল হাতে এই দুই পেসার ঘণ্টায় ৯০ মাইলের (১৪৫ কিমি) বেশি গতিতে বল করে সফরকারী দলের টপ-অর্ডার গুঁড়িয়ে দেন।
টং চারটি উইকেট নিতে ২৮ রান খরচ করে নিজের ক্যারিয়ার-সেরা বোলিং ফিগার গড়েন এবং আর্চার ২৯ রানে ৩টি উইকেট নেন। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর, এই জয়ে ইংল্যান্ড ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল; সিরিজের আরও দু’টি ম্যাচ বাকি রয়েছে।
মঙ্গলবার ম্যাচের এই ফলাফল টি-টোয়েন্টিতে ভারতের আগের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের রেকর্ডকেও ছাঁপিয়ে গিয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের কাছে ভারত ৮০ রানে হেরেছিল। গত মাসে বেলফাস্টে আয়ারল্যান্ডের কাছে ভারতের অপ্রত্যাশিত ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হারের পরপরই এই পরাজয়টি এল।
আইয়ার স্কাই স্পোর্টসকে বলেন, ‘‘পারফরম্যান্স ছিল জঘন্য। এর চেয়ে ভালো কোনও শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। এত বড় ব্যবধানে হার কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘এই উইকেটে বোলারদের জন্য ‘হার্ড লেংথ’-এ (একটু ছোট লেংথে) বল করাটা সহায়ক ছিল, কিন্তু আমরা খুব কমই তা কাজে লাগিয়েছি। রান তাড়া করার সময় নির্দিষ্ট কৌশল বা ছক মেনে চলা জরুরি। আমরা ব্যর্থ হয়েছি, আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত খারাপ।’’
অন্যদিকে, ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক বলেন, ‘‘সল্টি (ফিল সল্ট) দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেছে… কঠিন উইকেটে ২০০ রান পর্যন্ত পৌঁছানোটা ছিল অসাধারণ এক প্রচেষ্টা।’’
ফিল্ডিংয়ে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ব্রুক বলেন, ‘‘রান তাড়া শুরুর আগে আমাদের খুব বেশি আলোচনার প্রয়োজন ছিল না; বোলাররা জানত ঠিক কী করতে হবে—স্টাম্পের ওপর বল রাখা এবং মাঝে মাঝে বাউন্সার ব্যবহার করা। বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ মনে হয়, আজ রাতে তা দারুণভাবে কাজে দিয়েছে।’’
আর্চার ঘণ্টায় ৯০ মাইল গতির এক বাউন্সার দিয়ে কিশোর প্রতিভাবান খেলোয়াড় বৈভব সূর্যবংশীকে বেশ চাপে ফেলেছিলেন; তবে পরের বলেই ১৫ বছর বয়সী এই ব্যাটার কোনওভাবে ‘গালি’ অঞ্চলের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকালে আর্চারকে হাসতে দেখা যায়।টং-এর করা প্রথম তিনটি বলের মধ্যে দু’টিই সীমানার বাইরে গিয়েছিল, কিন্তু এরপর থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি একপেশে হয়ে যায়।
অভিষেক শর্মা ‘ডিপ পয়েন্ট’ অঞ্চলে শট খেলেন; আর্চারের পরের বাউন্সারে আক্রমণ করতে গিয়ে সূর্যবংশীর গ্লাভসে লেগে বল পেছনে চলে যায়; আর ঈশান কিষাণ ‘ফ্ল্যাট পুল’ শট খেলে জ্যাকব বেথেলের হাতে ধরা পড়েন।
আর্চার যখন শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেলকে আউট করেন, তখন ৫ ওভারে ৫২ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারত পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল। উইল জ্যাকসের বলে স্টাম্পড হন তিলক ভার্মা। এরপর নিজের ঘরের মাঠ নটিংহ্যামশায়ারে টং শিবম দুবেকে আউট করেন এবং টম ব্যানটনের ডাইভিং ক্যাচে হর্ষিত রানাকে প্যাভেলিয়নে ফেরান।
লেগ-স্পিনার আদিল রশিদ শেষদিকে দু’টি উইকেট নেন; টস জয়ী ভারত তাদের সর্বনিম্ন টি-টোয়েন্টি দলীয় সংগ্রহ ৭৪-এর চেয়ে সামান্য বেশি রান করতে সক্ষম হয়। এর আগে, জস বাটলার ৩৬ রান করে ইংল্যান্ডের ইনিংসের গতি বাড়ান, তবে শেষ পর্যন্ত প্রিন্স যাদবের ‘ইন-সুইং ইয়র্কার’-এ তিনি বোল্ড হন।
ধীরগতির শুরুর পর সল্ট বরুণ চক্রবর্থীর একটি ব্যয়বহুল ওভারে বেশ কয়েকটি বাউন্ডারি হাঁকান; এই ওপেনার একটি ‘লং-হপ’ বলকে ছক্কায় পরিণত করেন এবং এরপর টানা তিনটি চার মেরে ৩৬ বলে নিজের অর্ধশতক পূর্ণ করেন। স্যাম কারানের অপরাজিত ৪১ রানের ইনিংস দলের সংগ্রহকে আরও সমৃদ্ধ করে।
বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে জয় পেলেই ইংল্যান্ড সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে পারবে। তবে আইয়ার বলেন, ‘‘শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর এটি একটি দারুণ সুযোগ; অতীতে যা ঘটেছে তা নিয়ে পড়ে থাকার কোনও মানে হয় না। আমরা খুবই বাজে ক্রিকেট খেলেছি ঠিকই, তবে এখান থেকে অনেক কিছু শেখারও আছে।’’
খেলার খবরের জন্য ক্লিক করুন: www.allsportindia.com
অলস্পোর্ট নিউজের সঙ্গে থাকতে লাইক আর ফলো করুন:ফেসবুক ও টুইটার
